দেশের মোট ধান উৎপাদনের প্রায় ২০ শতাংশ হাওর অঞ্চল থেকে আসে। ফলে হাওরের ফসলহানি জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে। ফলে হাওরের এই সংকট শুধু স্থানীয় সমস্যা নয়; এটি একটি জাতীয় সংকট বলে জানিয়েছেন হাওর ও পরিবেশবাদি বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। ফসলরক্ষা বাঁধে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাসহ ১৫ দফা দাবি জানিয়ে তারা বলেন, ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণে অন্তত ৭৫ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। শিলাবৃষ্টিতে আরও প্রায় ৮০০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অব্যাহত বৃষ্টিপাত ও বন্যা কৃষকদের আরও বড় ক্ষতির সম্মুখীন করতে পারে।
রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনগুলো এসব কথা বলা হয়। যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা এবং নাগরিক উদ্যোগ।
বাপা’র সভাপতি অধ্যাপক নুর মোহাম্মদ তালুকদারের সভাপতিত্ব লিখিত বক্তব্যে পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, হাওর অঞ্চলের কৃষকরা এখন চরম মানবিক সংকটে রয়েছেন। চলতি বোরো মৌসুমে মার্চের মাঝামাঝি থেকে এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত টানা তিন দফা বৃষ্টিপাত এবং ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে যাওয়ার কারণে অন্তত ৭৫ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া শিলাবৃষ্টিতে আরও প্রায় ৮০০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অব্যাহত বৃষ্টিপাত ও বন্যা কৃষকদের আরও বড় ক্ষতির সম্মুখীন করতে পারে। এখন পর্যন্ত হাওরের যেসব জমির জমির ধান কাটা হয়েছে সেসব ধান বৃষ্টির কারণে শুকানো যাচ্ছে না। অনেক ধান পঁচে গেছে। পানির তোড়ে মাড়াই করা ধান খলা থেকে ধুয়ে চলে যাচ্ছে। এসব ধান নিয়ে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েছেন হাওরের কৃষক।
এএলআরডি-এর নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, ফসলহানির কারণে কৃষকদের জীবিকা, ঋণ পরিশোধ, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যাহত হবে । হাওরের এই সংকট শুধু স্থানীয় সমস্যা নয়; এটি একটি জাতীয় সংকট। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। গবাদিপশুর খাদ্য সংকটও দেখা দিচ্ছে। এতে কৃষকরা কম দামে গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ গওহর নঈম ওয়ারা বলেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রণয়নে সতর্ক থাকতে হবে। এটি যেন পক্ষপাতদুষ্ট না হয়। এই ফসলহানির ফলে বাল্যবিবাহ সহ বিভিন্ন সামাজিক সংকট দেখা দিবে তা গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। বর্গাচাষি মূলতঃ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের সহায়তা প্রদান করতে হবে।
এদিকে তাদের দাবিগুলো হলো:- ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য বছরব্যাপী পরিবার প্রতি ৩০ কজে চাল ও এক হাজার টাকা করে সহায়তা প্রদান; নদী-খাল ও বিল খননের মাধ্যমে পানির প্রবাহ নিশ্চিত করা; অপরিকল্পিত সড়ক ও বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করা, ফসলরক্ষা বাঁধে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা; বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ, জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর স্লুইসগেট নির্মাণ; হাওরের কৃষকদের কাছ থেকে চাল নয় অন্তত ১০ লক্ষ টন ধান সরাসরি ক্রয়; সুদমুক্ত ঋণ ও ঋণের পুনঃতফশিল; কমিউনিটি মাড়াই কেন্দ্র ও ড্রায়ার স্থাপন, বজ্রপাত প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা; জলমহালের লিজ বাতিল করা; বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জলবায়ু তহবিল থেকে হাওর অঞ্চলে বরাদ্দ বৃদ্ধি। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন পরিবেশবাদী, নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এসময় আরো বক্তব্য রাখেন, সুনামগঞ্জ সমিতি ঢাকার সাবেক সভাপতি ডা. ওমর খৈয়াম, হাওর অঞ্চলবাসী ঢাকা এর সমন্বয়ক ড. হালিমদাদ খান ও রুহিন হোসেন প্রিন্স প্রমুখ।
এমপি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

