ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোকানুষ্ঠান কেবল বিদায়ের মঞ্চ নয়, বরং একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক মঞ্চে পরিণত হয়েছে। কোনো রাজনৈতিক ভাষণ বা হুমকির গর্জন ছাড়াই ইরান পবিত্র কোরআনের আয়াতের মাধ্যমে বিশ্বকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে।
জানাজার শোকের মঞ্চে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তৃতা ছিল না। এর পরিবর্তে বিভিন্ন মুসলিম দেশের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে নির্দিষ্ট আয়াতের তেলাওয়াত করা হয়, যার প্রতিটিতে ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বার্তা নিহিত ছিল।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম তেহরানে ইরানের নিহত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জন্য আয়োজিত শোকানুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। তাকে কোরআনের আয়াত শুনিয়ে জুলাই শহীদদের স্মরণ করেছে ইরান।
বাংলাদেশকে শোনানো হয় সূরা আলে-ইমরানের আয়াত ১৬৯-১৭০। এর অর্থ: আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে, তাদেরকে তুমি কখনো মৃত মনে করো না; বরং তারা নিজেদের রবের নিকট জীবিত, তারা রিজিকপ্রাপ্ত। আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে যা দিয়েছেন তাতে তারা আনন্দিত এবং তাদের পেছনে যারা এখনো তাদের সাথে মিলিত হয়নি (অর্থাৎ জীবিত আছে), তাদের জন্য তারা এ সুসংবাদ গ্রহণ করে যে, তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।
পেছনের রাজনীতি: বাংলাদেশের জন্য এই আয়াতটি ছিল এক অনবদ্য প্রতীকী স্বীকৃতি। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক জুলাই বিপ্লব এবং জালিমের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, ইরানের এই আয়াত তেলাওয়াত সরাসরি সেই শহীদদের আত্মত্যাগকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে এক আধ্যাত্মিক সম্মান এনে দেয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


