বর্তমান সরকার মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ স্বাধীনের পর যাদের মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের একটি সঠিক ও নিরপেক্ষ পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করার দায়িত্ব ছিলো তারা সেই সময়ে তৈরি করেনি। বরং তালিকা তৈরি করতে গিয়ে তারা রাজনীতি টেনে এনেছে। বর্তমান সরকার পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে পুর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে।
বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তরে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য রুহুল আমীন দুলালের (পিরোজপুর-৩) প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে বুধবার সংসদের বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।
ওই সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা তারেক রহমান বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে অগণিত মানুষ গণহত্যার শিকার হয়েছেন। কিন্তু দু:খের বিষয়ে দেশ স্বাধীনের পর যাদের দায়িত্ব ছিলো মুক্তিযুদ্ধে করা শহীদ হয়েছেন তাদের একটি নিরপেক্ষ পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করার। একটি সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ তালিকা তারা সেই সময়ে তৈরি করেনি বরং এর তালিকা তৈরি করতে গিয়ে তারা রাজনীতি টেনে নিয়ে আসছিল। পরবর্তীতেও তালিকা তৈরিতে নানা সমস্যা তৈরি করা হয়েছে। অথচ এই মানুষগুলোর আত্মত্যাগের বিনিময়েই আমরা অর্জন করেছি আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে নিবিড় গবেষণার ভিত্তিতে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। ওই অঙ্গীকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষকদের নিয়ে বিশেষজ্ঞ সভা আয়োজন, বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে একটি বিস্তারিত ও বাস্তবসম্মত কর্মপরিকল্পনা গ্রণয়ন এবং তার ভিত্তিতে কার্যক্রম গ্রহণ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে গণহত্যার শিকার এবং সকল শহীদদের একটি নির্ভুল ও গ্রহণযোগ্য তালিকা প্রণয়ন এবং তাদের আত্মত্যাগের যথাযথ স্বীকৃতি ও মর্যাদা প্রদান সম্ভব হবে।
রুহুল আমীন দুলাল সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, বাংলাদেশে অনেক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা আছে। আওয়ামী লীগের কর্মীদেরকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিয়োগ দিয়ে পুর্নবাসন করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। তারা মাসে ২০ হাজার টাকা ভাতা পায়। আমার প্রশ্ন হচ্ছে এই ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই করে ছাটাই করা হবে কী না? এবং যাচাই বাছাই করার জন্য কোন কমিটি করা হলে তাতে উপদেষ্টা হিসেবে সংসদ সদস্যদের উপদেষ্টা করা হয়।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী প্রায় একই বক্তব্য পুনরাবৃত্তি করে বলেন, দেশ স্বাধীনের পর যাদের দায়িত্ব ছিলো মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের সঠিক তালিকা তৈরি করা কিন্তু তারা সেটাকে রাজনৈতিকভাবে উপস্থাপন করেছে। তারা নিরপেক্ষ ও সঠিকভাবে এটা করেনি। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটির মত করেছে। আমরা সেখানে চেষ্টা করবো সঠিক মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের চিহ্নিত করা।
কুড়িগ্রাম-১ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলামের সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, আমরা দেখেছি সরকার যখন পরিবর্তন হয় দেখা যায় তারা তাদের দলীয় কিছু লোকজনকে এই মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্তি করে। আবার পরবর্তী আরেক সরকার এসে কিছু ছাটাই-বাছাইও করে। আসলে সত্যিকার অর্থে যারা মুক্তিযোদ্ধা- তাদেরটা কেন হচ্ছে না? এই ৫৫ বছর পর জাতি এটা জানতে পারছে না। পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নয় তাদের ছাটাই করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা করবেন কী না?
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয়তাবাদী দল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া দল। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এবং মাঠে থেকে যুদ্ধ করেছেন। শুধু তাই নয়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণাও দিয়েছিলেন। বর্তমানে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল রয়েছে। খুব স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মনে প্রাণে বিশ্বাস করে যে মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রতি তাদের পবিত্র একটি দায়িত্ব রয়েছে। সেই কারণেই বর্তমান সরকার পুর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির চেষ্টা করছে।
প্রাথমিক স্কুলে হবে প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ ফুটবল
ময়মনসিংহ-৮ আসনের লুৎফুল্লাহেল মাজেদের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের আওতায় ৫৪৫টি পার্ক ও খেলার মাঠ রয়েছে।
সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে বলেন, প্রাইমারি স্কুল লেবেলে ছেলে-মেয়ে উভয়ের একটি ফুটবল ম্যাচ কিছুদিন আগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রায় ২২ লাখ ছেলে-মেয়ে অংশগ্রহণ করেছে। ইনশায়াল্লাহ আগামী বছর থেকে প্রাথমিক স্কুলের বাচ্চাদের জন্য প্রাইম মিনিস্টার গোল্ডকাপ (ফুটবল) শুরু করতে যাচ্ছি। প্রাথমিক স্কুলে শুরু করে পর্যায়ক্রমিকভাবে আমরা মাধ্যমিক স্কুলেও নিয়ে যাবো। এ বিষয়ে মোটামুটি সিদ্ধান্ত হয়েছে।
কুমিল্লা-৪ আসনের আবুল হাসনাত মুলপ্রশ্নের বাইরে সম্পূরক প্রশ্ন করতে চাইলে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল তা নাকচ করে দেন। পরে অপর একজন সংসদ সদস্যদের সম্পূরক প্রশ্নের সুযোগ দেওয়া হয়।
চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরে ২০১০ সালে কার্গো ও কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং ছিলো যথাক্রমে ৪ কোটি ৫৩ লাখ ৬৬৩ মেট্রিক টন এবং ১৩ লাখ ৪৩ হাজার ৪৪৮ টিইইউএস। ২০২৫ সালে সেখানে কার্গো ও কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং হয়েছে যথাক্রমে ১৩ কোটি ৮১ লাখ ৮১২ মেট্রিক টন এবং ৩৪ লাখ ৯ হাজার ৬৯ টিইইউএস।
সরওয়ার জামাল নিজামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, বে টার্মিনাল বাস্তবায়নের পদক্ষেপ আমরা গ্রহণ করেছি। এটি চালু হলে মাদার ভেসেলগুলো সরাসরি বন্দরে ভিড়তে পারবে। এতে ট্রান্সশিপমেন্ট ব্যয় কমবে। আমদানি রপ্তানির গতি বৃদ্ধি পাবে। যা জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে।
ঢাকা-৫ আসনের কামাল হোসেনের প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে কোন দুর্নীতি হলে এর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিচার অবশ্যই হবে। একই সাথে আমাদের সরকারের প্রচেষ্টা থাকবে পর্যায়ক্রমিকভাবে দুর্নীতিমুক্ত একটি পরিবেশ গড়ে তোলা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

