ভুয়া নথিতে ১২টি প্রতিষ্ঠানের নামে ৪৩৩ কোটি ৯৬ লাখ ১৮ হাজার টাকার ঋণ আত্মসাতের অভিযোগে এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রশান্ত কুমার হালদারসহ (পিকে হালদার) ৩৫ জনের নামে ১২টি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাগুলো দায়ের করা হয়। উপ-পরিচালক মো. মশিউর রহমান ও উপসহকারী পরিচালক মো. ইমরান আকন মামলাগুলো দায়ের করেন। বুধবার দুদকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ সৃজন করে প্রতিটি ঋণ হিসাবের ১-২টি কিস্তি পরিশোধ করে এবং কোনো কোনো ঋণের বিপরীতে কোনো কিস্তিই পরিশোধ করা হয়নি। তারপরও দেখা যায় যে, ওই ঋণ সমূহ কোনো ধরনের আপত্তি ছাড়াই বোর্ড সভায় রিসিডিইল করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের কোনো কার্যক্রম বিদ্যমান না থাকার পরও ভূয়া কাগজপত্র তৈরি করে এই সব প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ দেওয়া হয়।
আরও বলা হয়, প্রতিষ্ঠানের রেকর্ডপত্র যাচাই করে দেখা যায় যে, প্রতিষ্ঠানের প্রধান কার্যালয়ের জন্য যে ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে সে সমস্ত জায়গায় বর্তমানে ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সমূহের কোনো অস্তিত্ব নেই। এ ছাড়া দেখা যায়, যেসব প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ঋণ প্রদান করা হয়েছে সে সকল প্রতিষ্ঠান একবারে নতুন, তাদের ব্যবসার কোন কার্যক্রম বিদ্যমান ছিল না।
পিকে হালদার ছাড়াও মামলার আসামিরা হলেন- এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান মো. ছিদ্দিকুর রহমান, মাহফুজা রহমান বেবী, মোহাম্মদ আব্দুল হাফিজ,আব্দুল মোতালিব আহমেদ।এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির সাবেক এমডি মো. রাসেল শাহরিয়ার, মো. মফিজ উদ্দিন চৌধুরী, উজ্জল কুমার নন্দী, মো. ওমর শরীফ, মো. মোস্তফা, মোস্তফা আমনিুর রশীদ, প্রিতীশ কুমার হালদার, বাসু দেব ব্যানার্জী, তাসিন বিন তানজীর, মো. ওমর ফারুক, মো. রফিকুল ইসলাম, উৎপল মজুমদার, সুকুমার সাহা, রামপ্রসাদ রায়, গোপাল চন্দ্র গাঙ্গুলী, আবু রাজীব মারুফ, অমল চন্দ্র দাস, সাবেক পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. নুরুল হক গাজী, মো. আবুল শাহজাহান, অঞ্জন কুমার রায়, কাজী মাহজাবিন মমতাজ, সোমা ঘোষ, মো. মোস্তাইন বিল্লাহ অরুন কুমার কুন্ডু, প্রদীপ কুমার নন্দী, উদ্ধব মল্লিক, মো. আতাহারুল ইসলাম, বীরেন্দ্র কুমার সোম, অনিতা করও আসামি হয়েছেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি-১৮৬০ এর ৪০৬/৪০৯/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা তৎসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
উল্লেখ, পিকে হালদার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আইএলএফএসএলেরও ব্যবস্থাপনা পরিচালকও ছিলেন। দুর্নীতির অভিযোগের মুখে ২০২১ সালের শুরুতেই তিনি ভারত পালিয়ে যান। পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালের ১৪ মে ভারতের কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রণালয়ের তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার অশোক নগরের একটি বাড়ি থেকে পি কে হালদার ও তার পাঁচ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

