বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জাপানের নারিতায় আগামী ২৭ জুলাই পুনরায় ফ্লাইট চালু করতে যাচ্ছে । যাতে এই রুটটি লাভজনক হয় সেভাবে পরিকল্পনা করেই এগুচ্ছে বিমান। এরফলে বাংলাদেশকে বর্হিবিশ্বে সংযুক্ত করা, নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করা এবং আন্তর্জাতিক আকাশপথে বাংলাদেশের অবস্থান আরো শক্তিশালী হবে।
সোমবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এ কথা জানান। এ সময় বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতও উপস্থিত ছিলেন।
২০২৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকা-নারিতা রুটে ফ্লাইট চালু করেছিল বিমান। পরে ২০২৫ সালের ১ জুলাই তা বন্ধ করা হয়। এর কারণ হিসেবে তখন হজ ফ্লাইট, এয়ারক্রাফট স্বল্পতা ও ব্যবসায়িক বাস্তবতার্থ কথা বলেছিল বিমান বাংলাদেশ।
সম্মেলনে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেন, জাপান ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ক দিনদিন আরো গভীর হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক সম্পর্ক, জাপানে বাংলাদেশি কর্মী ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি, এবং সরকারি পর্যায়ে কানেক্টিভিটি উন্নয়নের উদ্যোগের ফলে ঢাকা-নারিতা-ঢাকা রুটে ফ্লাইট পরিচালনার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে যথাযথ পরিকল্পনা ও বিপণন কার্যক্রমের মাধ্যমে রুটটি দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক ও টেকসই করে তোলার সুযোগ রয়েছে।
বিমানমন্ত্রী বলেন, আপনারা দেখেছেন, আমরা দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই বিমানকে কীভাবে সামনের দিকে নেওয়া যায়, বিমানের সুব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা যায় এবং প্রবাসী ভাইয়েরা যাতে বিমান নিয়ে যখন বাংলাদেশ এয়ারপোর্টে এসে পৌঁছায়, তখন তাদের যেন একটা কমফোর্ট জোনে থাকতে পারে সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, আপনারা অবগত আছেন যে, ২০২৫ সালের পহেলা জুলাই ঢাকা-নারিতা-ঢাকা রুটে ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত করে রাখা হয়েছিল, এটা আপনারা সবাই জানেন। আমরা সেটাকেই কিন্তু আবার ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছি।
শুরুতে ৩০ জুনের মধ্যে ফ্লাইট চালুর কথা বলা হলেও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সারতে তা ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
আফরোজা খানম রিতা বলেন, জাপান সিভিল এভিয়েশনের অনুমোদনের বিষয় রয়েছে এবং তাদের কিছু প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা, নিরীক্ষা করার জন্য কিছু সময়ের দরকার। সেই সময়ের ভিত্তিতে তারা জানিয়েছে ৪৫ দিন সময়ের প্রয়োজন হবে তাদের।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ২০ জুন থেকে আমরা টিকেটটা ওপেন করে দেব। নারিতা রুটের সকল টিকেট বিক্রয় কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে, যেটা বিমানের ওয়েবসাইটসহ সকল ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেলে বিক্রয়ের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। অতএব নিশ্চিত হওয়া গেল যে, ২৭ তারিখে ফ্লাইটটা যাচ্ছে।
প্রথমে সপ্তাহে একটি ফ্লাইট দিয়ে যাত্রা শুরু হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে জাপানে বাংলাদেশের ৪০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী এবং কর্মী রয়েছেন এবং এই সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে। পরবর্তীতে বিমান বহরে এয়ারক্রাফট সংযোজন এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বিবেচনায় পর্যায়ক্রমে ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।
আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলে নতুন কোনো রুটকে বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক করতে কিছু সময়ের প্রয়োজন হয়। বাজারে অবস্থান তৈরি, যাত্রী আস্থা অর্জন এবং চাহিদা বৃদ্ধি ধাপে ধাপে ঘটে। ঢাকা-নারিতা-ঢাকা রুটের ক্ষেত্রেও একই বাস্তবতা প্রযোজ্য। তবে কার্যকর বিপণন কৌশল গ্রহণ, যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি এবং সুষ্ঠু পরিচালনার ফলে রুটটির সম্ভাবনা ক্রমেই শক্তিশালী হবে বলে আশা করেন প্রতিমন্ত্রী ।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা যখন ফ্লাইটের ব্যাপারে ঘোষণা দিই, তখন জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশিরা উচ্ছ্বাস করেছে যে, বাংলাদেশের প্লেন আসছে। এমনকি জাপানের যে রাষ্ট্রদূত এখানে আছেন, তিনিও খুব উচ্ছ্বসিত হয়েছেন যে ডিরেক্ট ফ্লাইটে যেতে পারবেন।
নতুন করে ফ্লাইট চালুর আগে বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী মিল্লাত বলেন, আমাদের এটা (নারিতা ফ্লাইট) কিন্তু পলিটিকাল কারণেই কিন্তু বন্ধ হয়েছে। বিমান ফ্লাইটটা প্রথম দিকে কিছু লস করেছে, লাভ করেছে, ব্রেক ইভেনে এসেছে। তারপরে যখন তিন-চার মাস পর পর লাভ হচ্ছিল, তখনই কিন্তু ফ্লাইটটাকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
এটাই খুব আশ্চর্যজনক ব্যাপার যে- আমাদের দেশ নিয়ে আগের যে কোনো গভর্নমেন্ট, ফ্যাসিস্ট তো বাদ দেন, যে পূর্ববর্তী গভর্মেন্টও এই চিন্তাটি করে নাই যে- ফ্লাইটটি লাভ হচ্ছে, তখন কেন বন্ধ করব? তখন ফ্লাইটটি বন্ধ করা হয়েছিল।
যাই হোক, অতীত ভুলে গিয়ে আমরা যাতে সর্বদাই লাভ করতে পারি, সেই চিন্তা করেই কিন্তু আমাদের এই ক্যালকুলেশনটা করে আপনাদেরকে আজকে জানানো হয়েছে।
অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মঈন উদ্দিন আহমেদ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

