আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ডিজিএফআই-এর নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্যে যৌথ বাহিনীর মাস্টারস্ট্রোক

জঙ্গল সলিমপুরে তিন দশকের ত্রাসের রাজত্বের পতন

স্টাফ রিপোর্টার

জঙ্গল সলিমপুরে তিন দশকের ত্রাসের রাজত্বের পতন
ছবি: সংগৃহীত

​দীর্ঘ তিন দশক ধরে চট্টগ্রামের ফুসফুসখ্যাত জঙ্গল সলিমপুর ছিল এক ‘নিষিদ্ধ রাজ্য’। যেখানে রাষ্ট্রের আইন চলত না, চলত সন্ত্রাসী আর ভূমিদস্যুদের নিজস্ব শাসন। তবে সেই দুর্ভেদ্য দুর্গে চূড়ান্ত আঘাত হেনেছে যৌথ বাহিনী। প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সূক্ষ্ম গোয়েন্দা বিশ্লেষণ এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সুনিপুণ রণকৌশল ও প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই অভিযানে অবসান ঘটেছে তিন দশকের এক অন্ধকার অধ্যায়ের। অভিযানে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির প্রায় তিন হাজারের বেশি সদস্য অংশ নেন। দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কার্যক্রম, অবৈধ দখল ও চাঁদাবাজির কারণে এই অঞ্চল কার্যত প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল।

সোমবার (৯ মার্চ) ভোর থেকে টানা ১০ ঘণ্টার এক শ্বাসরুদ্ধকর ‘কর্ডন অ্যান্ড সার্চ’ অভিযানের মাধ্যমে জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগর এখন সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে।

বিজ্ঞাপন

সূত্র জানায়, জঙ্গল সলিমপুরের প্রায় তিন হাজার একর দুর্গম পাহাড়ি জমিতে সন্ত্রাসীদের প্রতিটি গোপন আস্তানা, অস্ত্র তৈরির কারখানা এবং সুড়ঙ্গপথের মানচিত্র তৈরি করেছিল ডিজিএফআই। দীর্ঘ সময় ধরে অত্যন্ত গোপনে তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে তারা চিহ্নিত করে ভূমিদস্যুদের মূল নেটওয়ার্ক। গোয়েন্দা তথ্যে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, এই পাহাড়ের ভেতরেই গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ লেদ মেশিন সম্বলিত আধুনিক অস্ত্র তৈরির কারখানা। তাদের দেওয়া এই নিখুঁত তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই সেনাবাহিনী অভিযানের চূড়ান্ত ছক তৈরি করে।

অভিযানটি মূলত পরিচালিত হয়েছে সেনাবাহিনীর সুদক্ষ তত্ত্বাবধানে। সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবির প্রায় তিন হাজার সদস্যের বিশাল বাহিনীকে বিভিন্ন কৌশলী দলে বিভক্ত করে পাহাড়ের চারপাশ ঘিরে ফেলা হয়। ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করে আকাশ থেকে সন্ত্রাসীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত ডগ স্কোয়াড নিয়োগ করা হয় পাহাড়ের গহীনে লুকানো অস্ত্র ও গোলাবারুদ খুঁজে বের করতে।

অভিযানের বড় অর্জনসমূহ:

​অস্ত্র ও কারখানা জব্দ: তল্লাশি চালিয়ে ২৭টি পাইপগান, ২টি পিস্তল, ১১টি ককটেল, এক হাজারের বেশি রাউন্ড গুলি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—পাহাড়ের ভেতরে সক্রিয় অস্ত্র তৈরির লেদ মেশিনসহ বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

গত জানুয়ারিতে র‍্যাব সদস্য নিহতের ঘটনার পর যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছিল, সেই পুরো এলাকা এখন নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা।অবৈধভাবে দখল করা তিন হাজার একর জমি ভূমিদস্যুদের হাত থেকে মুক্ত করা হয়েছে।

​নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মতে, জঙ্গল সলিমপুরের এই অপারেশন কেবল একটি অভিযান নয়, এটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াই। কোনো ধরনের বড় ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই সন্ত্রাসীদের কোমর ভেঙে দেওয়াকে বাহিনীর বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

​ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: স্থায়ী নিরাপত্তা

​অভিযান শেষে বর্তমানে ওই এলাকায় সেনাবাহিনী, পুলিশসহ গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মোবাইল টহল এবং নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মুক্ত হওয়া এই জমিতে এখন সরকারি অবকাঠামো ও ভূমি অফিস স্থাপন করা হবে।

​সন্ত্রাস, অবৈধ দখল আর চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সরকার সরকার প্রধান তারেক রহমানের নির্দেশনার আলোকে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট আমার দেশকে নিশ্চিত করেছে ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...