এলডিসি উত্তরণে আনুষ্ঠানিকভাবে সময় চেয়েছে বাংলাদেশ

বাণিজ্য ডেস্ক

এলডিসি উত্তরণে আনুষ্ঠানিকভাবে সময় চেয়েছে বাংলাদেশ

বৈশ্বিক এসডিজি অর্থায়ন ঘাটতি মোকাবিলা এবং কার্যকর আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ।

গত বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘ইকোসক ফাইন্যান্সিং ফর ডেভেলপমেন্ট ফোরাম ২০২৬’-এর সাধারণ বিতর্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এ দাবি জানান।

বিজ্ঞাপন

মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ, জলবায়ু ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা—এই তিন সূচক দিয়ে একটি দেশ উন্নয়নশীল দেশ হতে পারবে কি না, সেই যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়। তিন বছর পরপর এসব সূচকে এলডিসিগুলোর ত্রিবার্ষিক মূল্যায়নের মাধ্যমে সে বিষয়ে সুপারিশ করে সিডিপি। বাংলাদেশ ২০১৮ ও ২০২১ সালের ত্রিবার্ষিক মানদণ্ডের তিনটিতেই উত্তীর্ণ হয়। ফলে ২০২১ সালেই বাংলাদেশ ২০২৪ সালে এলডিসি থেকে বেরিয়ে যাবে বলে চূড়ান্ত সুপারিশ পায়। কিন্তু করোনার কারণে প্রস্তুতির জন্য দুই বছর সময় বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ২৪ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়।

১৯৭১ সালে প্রথম স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা করা হয়। এ পর্যন্ত গত পাঁচ দশকে সব মিলিয়ে আটটি দেশ এলডিসি থেকে বের হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বে ৪৪টি স্বল্পোন্নত দেশ রয়েছে। ১৯৭৫ সালে এলডিসি তালিকায় যুক্ত হয় বাংলাদেশ। এলডিসিভুক্ত দেশ হওয়ার কারণে পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত বাণিজ্যসহ নানা সুবিধা পেয়েছে বাংলাদেশ। তবে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়ে এলডিসি থেকে বেরিয়ে গেলে সেই সুবিধা আর থাকবে না।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে দায়িত্ব নেওয়ার পরদিন গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পেছানোর আবেদন করে বিএনপি সরকার। সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) অধীন কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) চেয়ারম্যান হোসে আন্তোনিও ওকাম্পোর কাছে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে এলডিসি উত্তরণ-প্রস্তুতির সময়কাল চলতি বছরের ২৪ নভেম্বর থেকে বাড়িয়ে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত করার অনুরোধ জানানো হয়।

দাবির যৌক্তিকতা তুলে ধরে সাধারণ বিতর্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, ভূরাজনৈতিক সংঘাত, উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়া, জলবায়ুজনিত অভিঘাত, বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা এবং জ্বালানি খাতের অনিশ্চয়তা উন্নয়নশীল দেশগুলোর নীতিগত পরিসর ক্রমেই সংকুচিত করছে। এ প্রেক্ষাপটে টেকসই ও মসৃণ উত্তরণ নিশ্চিত করতে এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সাম্প্রতিক অগ্রগতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত, ব্যবসায়িক আস্থা পুনর্গঠন, ব্যাংকিং খাত শক্তিশালীকরণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সরাসরি সহায়তা সম্প্রসারণে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, ঋণের ব্যয় কমানো, অকার্যকর অবকাঠামো-সম্পর্কিত ঋণ পরিহার এবং প্রযুক্তি স্থানান্তরের মাধ্যমে উৎপাদনশীল ও কর্মসংস্থানমুখী খাতে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। একই সঙ্গে একটি প্রতিনিধিত্বশীল বৈশ্বিক আর্থিক কাঠামো গড়ে তোলা, কার্বন নিঃসরণের জন্য বিপুল মূল্য দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা, ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং পাচার করা সম্পদ যথাযথ মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া জরুরি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...