বিমানের পাইলট সাইফুজ্জামান ও বিজিএমইর রাকিবের লাশ আসছে শুক্রবার

বিমানের পাইলট সাইফুজ্জামান ও বিজিএমইর রাকিবের লাশ আসছে শুক্রবার

একসাথে দুই বন্ধু কানাডা থেকে লাশ হয়ে দেশে ফিরছেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বোয়িং ৭৮৭-এর পাইলট মোহাম্মদ সাইফুজ্জামান গুড্ডু ও বিজিএমইর সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ টীম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ হিল রাকিবের লাশ আগামীকাল শুক্রবার রাত ৯টায় বিমানের বিজি-৩০৬ ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছাবে।

বিজ্ঞাপন

একইসাথে গত রোববার তাদের মৃত্যু হয়। শেষ ঠিকানাও তাদের একই জায়গায়। বিমানবাহিনীর বিএএফ শাহীন কবরস্থানে তাদের দাফন করা হবে। গত রোববার, অন্টারিওর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর লিনজির একটি কটেজসংলগ্ন হ্রদে ক্যানোইং করতে গিয়ে বাংলাদেশ বিমানের বোয়িং ৭৮৭-এর অভিজ্ঞ ক্যাপ্টেন সাইফুজ্জামান গুড্ডু ও তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু বিজিএমইর সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও টিম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ হিল রাকিব পানিতে ডুবে মারা যান।

নীল আকাশে উড়ে চলা যার নিত্যদিনের সঙ্গী ছিল, সেই মানুষটিই যেন এক অনন্ত নীলের আহ্বানে সাড়া দিলেন। প্রকৃতি যার জীবনভরের অভিভাবক, সেই প্রকৃতিই যেন আজ হঠাৎ আবেগভরে তাঁকে টেনে নিলো নিজের কোলে। একটি নির্মল ভ্রমণ পরিণত হলো এক মর্মান্তিক অধ্যায়ে যার পরিসমাপ্তি ঘটল কানাডার স্টার্জন লেকের শান্ত জলের গভীরে।

পাইলট মোহাম্মদ সাইফুজ্জামান গুড্ডুর প্রথম জানাজা আগামীকাল শনিবার সকাল ১১টায় বিএএফ বেস বাশার শাহীন মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। তার দ্বিতীয় জানাজা বাদ জোহর বনানী ডিওএইচএস মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁকে বিমান বাহিনীর বিএএফ শাহীন কবরস্থানে দুপুর আড়াইটায় দাফন করা হবে।

টিম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল্লাহ হিল রাকিবের প্রথম জানাজা আগামীকাল শনিবার বিজিএমই কমপ্লেক্স, উত্তরাতে অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় জানাজা একইদিনে বাদ জোহর বনানী ডিওএইচএস মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁকে বিমান বাহিনীর শাহীন কবরস্থানে দাফন করা হবে।

জানা যায়, সাইফুজ্জামান গুড্ডু তাঁর স্ত্রী ও ছোট মেয়েকে নিয়ে গতকালই ঢাকা থেকে টরন্টো আসেন। উদ্দেশ্য ছিল বড় মেয়ের সঙ্গে দেখা এবং পারিবারিক অবকাশযাপন। বড় মেয়ে টরন্টোর এক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছেন। আজ তাঁরা টরন্টো থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরের লিনজি শহরে রওয়ানা হন এবং ওখানকার একটি কটেজে ওঠেন। দুপুরের দিকে (বেলা ২টায়) সাইফুজ্জামান তাঁর এক বন্ধু ও বন্ধুর ছেলেসহ একটি ক্যানো নিয়ে হ্রদে নামেন।

ক্যানোটি যখন শান্ত হ্রদের বুকে এগিয়ে চলছিল, তখন তীরে দাঁড়িয়ে থাকা তাঁর স্ত্রী ও ছোট মেয়ে মোবাইলে ভিডিও করছিলেন। হঠাৎ করে ক্যানো উল্টে যায়। বন্ধুর ছেলে সাঁতরে পাড়ে উঠে আসেন, কিন্তু সাইফুজ্জামান ও তাঁর বন্ধু আর ফিরে আসেননি। পরে উদ্ধারকারীরা তাঁদের দু'জনকেই উদ্ধার করে, কিন্তু তখন তাঁরা আর জীবিত ছিলেন না।

সাইফুজ্জামান ছিলেন অত্যন্ত অভিজ্ঞ ও চৌকষ এক পাইলট। তাঁর পিতা ছিলেন বাংলাদেশ এয়ার ফোর্সের কর্মকর্তা। বিমানবাহিনীর ঐতিহ্যবাহী পরিবেশে বড় হয়ে ওঠা গুড্ডু ছোটবেলা থেকেই ছিলেন শৃঙ্খলাপরায়ণ, দায়িত্বশীল ও আত্মবিশ্বাসী।

লিনজি অন্টারিওর একটি শান্তিপূর্ণ পর্যটন নগরী, যেখানে বোটিং, কায়াকিং, ক্যানোইং-এর মতো জলক্রীড়া জনপ্রিয়। তবে এমন দুর্ঘটনা সেখানে সচরাচর ঘটে না। হঠাৎ করে দিকভ্রান্ত বাতাস, লাইফ জ্যাকেটের অনুপস্থিতি, কিংবা ক্যানো চালনায় অপ্রশিক্ষিততা এই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার কারণ হতে পারে বলে জানা গেছে।

পুলিশ জানায়, বিকেল ৩টার কিছু পরে স্টার্জন লেকের একটি বোট দুর্ঘটনার খবর পেয়ে জরুরি সেবাদানকারীরা সেখানে ছুটে যান। ক্যানোটিতে তিনজন পুরুষ ছিলেন। তাঁদের মধ্যে একজন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন। কিন্তু বাকি দুজন পানিতে ভেসে থাকতে না পেরে প্রাণ হারান। নৌকায় থাকা তিনজনের কারো শরীরে তখন কোনো লাইফ-জ্যাকেট ছিল না বলে পুলিশ জানিয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন