ভারতে খ্রিষ্টানসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর জোরপূর্বক ধর্মান্তরিতকরণ, উপাসনালয় ভাঙচুর ও নারী নির্যাতনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এসব ঘটনার জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন দেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতারা।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এসব দাবি জানান। পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য বরকত উল্লাহ বুলু বলেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও অরুণাচলসহ বিভিন্ন রাজ্যে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও সংখ্যালঘুদের ওপর যেভাবে হামলা ও নির্যাতন চলছে, তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা জাতিসংঘের কাছে অনুরোধ করছি, তারা যেন সেখানে সুষ্ঠু অনুসন্ধান চালিয়ে অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করে। বাংলাদেশে সব ধর্মের মানুষের চমৎকার সহাবস্থানের কথা উল্লেখ করে তিনি ভারতের গরু জবাই ও খাদ্যাভ্যাসের ওপর নিষেধাজ্ঞার রাজনীতিরও সমালোচনা করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এখানে কেউ কারও ওপর জুলুম করে না। কিন্তু ভারতে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে মুসলমান ও খ্রিষ্টানসহ অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হচ্ছে। আমরা চাই আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রেও শান্তি বিরাজ করুক।
মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে হিন্দু রাষ্ট্র বানানোর চেষ্টা চলছে, যার বিরুদ্ধে দেশটির শিক্ষিত সমাজের সোচ্চার হওয়া উচিত।
বাংলাদেশ খ্রিষ্টান এসোসিয়েশনের সভাপতি এলবার্ট পি কষ্টা তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন, ভারতে আরএসএস সমর্থিত সরকার আসার পর থেকে সংখ্যালঘুদের ওপর সুপরিকল্পিতভাবে হামলা বাড়ছে। বাংলাদেশে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানদের যে সম্প্রীতি রয়েছে, তা বিনষ্ট করতেই ওপার থেকে উসকানি দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ভারতে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা নতুন নয়। একটা সময় গেছে যে, ঈদের জামাতে শুয়োর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ১৯৯৭-১৯৯৮ সালে দক্ষিণ ভারতে একজন ফাদারকে হত্যা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, একইভাবে রানাঘাটে গত ৪-৫ বছর আগে একজন সিস্টারকে রেপ করা হয়েছে। এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন নয়, বরং পরিকল্পিত বলে মন্তব্য করে তিনি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে ভারতে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

