নির্বাচনের পরপরই দেশের প্রায় সব বিভাগে যেভাবে সহিংসতা শুরু হয়েছে, তা সুষ্ঠু নির্বাচনের সাফল্যকে ম্লান করছে বলে দাবি করেছে কয়েকটি নির্বাচন পর্যবেক্ষক সংস্থার সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম ভয়েস নেটওয়ার্ক।
সোমবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে প্রকাশিত প্রাথমিক প্রতিবেদনে এ দাবি করে সংস্থাটি। প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সংস্থার চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. জসিম উদ্দিন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সামগ্রিকভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশের অন্যান্য নির্বাচনের তুলনায় সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য বলা যায়। তবে নির্বাচনের পরপরই দেশের প্রায় সব বিভাগে যেভাবে সহিংসতা শুরু হয়েছে, তা সুষ্ঠু নির্বাচনের সাফল্যকে ম্লান করছে। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, বিজয়ী রাজনৈতিক দলসহ সকল অংশীজনের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করে ভয়েস নেটওয়ার্ক।
নির্বাচনে কিছু অনিয়মও লক্ষ্য করেছে সংস্থাটির পর্যবেক্ষকরা। তারা জানিয়েছে, প্রায় ৮ শতাংশ কেন্দ্রে পর্যবেক্ষকদের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং আইডি সরবরাহে বিলম্ব হয়েছে। ১১ শতাংশ কেন্দ্রে প্রবীণ ও অসুস্থ ভোটারদের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা ছিল না; ২০ শতাংশ কেন্দ্রে গর্ভবতী নারীদের জন্য সুবিধা অনুপস্থিত ছিল। ১১ শতাংশ কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঘাটতি এবং ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ কেন্দ্রে পক্ষপাতিত্ব দেখা গেছে। অননুমোদিত ব্যক্তির উপস্থিতি, এজেন্ট বের করে দেওয়া, জাল ভোট ও ব্যালট-সংক্রান্ত অভিযোগও পাওয়া গেছে। তবে এসব সত্ত্বেও ভোটগ্রহণ সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ ও ইতিবাচক ছিল।
আরও বলা হয়, ভোট গণনা ও ট্যাবুলেশনে প্রক্রিয়াগত অস্পষ্টতা, যাচাই ব্যবস্থার ঘাটতি এবং তথ্য সমন্বয়ে বিলম্ব লক্ষ্য করা গেছে, যা ফলাফল প্রকাশে স্বচ্ছতা ও আস্থাকে প্রভাবিত করেছে। কিছু কেন্দ্রে পর্যবেক্ষকদের প্রবেশাধিকার সীমিত ছিল। গণমাধ্যমের নিরপেক্ষ কভারেজও সীমিত ছিল এবং পক্ষপাতমূলক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে প্রায় ৪০ জেলায় সহিংসতার ঘটনা, প্রাণহানি ও লুটপাটের খবর পাওয়া গেছে, যা সামগ্রিক নির্বাচনী পরিবেশ ও সাফল্যকে ম্লান করছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

