সংসদে আন্দালিভ রহমান

ইসলামী ব্যাংকিং সম্প্রসারণ ও জাকাত ব্যবস্থাপনা জোরদার করা উচিত

সংসদ রিপোর্টার

ইসলামী ব্যাংকিং সম্প্রসারণ ও জাকাত ব্যবস্থাপনা জোরদার করা উচিত

বিশ্বব্যাপী ইসলামী ব্যাংকি জনপ্রিয় হচ্ছে জানিয়ে ভোলা-১ আসনের বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন, যুক্তরাজ্য ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ ইসলামী অর্থায়নকে উৎসাহিত করছে। বাংলাদেশেও এ খাতকে এগিয়ে নিতে হবে, সরকারিভাবে ইসলামী ব্যাংকিংকে প্রমোট করা উচিত।

তিনি শনিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সাধারণ আলোচনায় এসব কথা বলেন। এসময় সংসদের সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

বিজ্ঞাপন

ব্যাংকিং খাত প্রসঙ্গে আন্দালিভ রহমান আরো বলেন, প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে একদিনে ইসলামী ব্যাংকিংয়ে যাওয়া সম্ভব না হলেও সরকারকে ইসলামী ব্যাংকিং সম্প্রসারণে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।

কিছু ইসলামী ব্যাংকে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমস্যা ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নয়, বরং যারা ব্যাংক লুট করেছে তাদের মধ্যে। ইসলামী ব্যাংকিং সম্প্রসারণ দেশের অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনবে এবং আল্লাহর রহমত বয়ে আনবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ সময় যাকাত ব্যবস্থাপনা আরো কার্যকর করতে যাকাতগ্রহীতাদের একটি জাতীয় ডাটাবেজ তৈরির প্রস্তাব দেন আন্দালিভ রহমান পার্থ। তিনি বলেন, দেশে প্রতিবছর কত যাকাত বিতরণ হয়, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। প্রতিটি সংসদীয় আসনে যাকাত পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করা হলে দেশ-বিদেশের মানুষ সহজেই সেখানে যাকাত প্রদান করতে পারবেন।

এ লক্ষ্যে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও মোবাইল অ্যাপ চালুর প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, অনেকেই যাকাত দিতে চান, কিন্তু কোথায় দেবেন তা জানেন না। সহজ প্রাপ্যতাই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি যাকাত বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে একটি বিশেষায়িত টেলিভিশন চ্যানেল চালুরও প্রস্তাব দেন তিনি।

প্রস্তাবিত বাজেট প্রসঙ্গে আন্দালিব রহমান পার্থ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটকে জনবান্ধব ও জনকল্যাণমুখী আখ্যা দিয়ে বলেছেন, এই বাজেটে ন্যায়বিচার, মানবিকতা এবং জনগণের কল্যাণে সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটেছে।

তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মালয়েশিয়া ও চীন সফরের জন্য অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ওই সফরগুলোর চুক্তি ও অর্জন সম্পর্কে সরকার সংসদ ও জাতির সামনে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করবে।

বাজেটে ফ্যামিলি কার্ডের আওতা সম্প্রসারণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তা, রপ্তানি খাতের উন্নয়ন, স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের সহায়তা, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের শুল্ক কমানো, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং ওষুধ শিল্পে প্রণোদনার মতো উদ্যোগের প্রশংসা করে পার্থ বলেন, এই বাজেটের মূল বার্তা হলো— আমরা জনগণের পাশে আছি।

তিনি বলেন, আমি এই বাজেটে একটি বার্তা দেখেছি— আমরা জনগণের যত্ন নিই। এটাই একটি কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্র এবং জনগণের কল্যাণে নিবেদিত সরকারের মধ্যে পার্থক্য।

রাষ্ট্র পরিচালনায় ন্যায়বিচার ও মানবিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে পার্থ বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রের দু’টি মূল ভিত্তি ছিল— ন্যায়বিচার ও মানবিকতা। একটি কল্যাণরাষ্ট্রেও একই আদর্শ অনুসরণ করা উচিত।

তিনি বলেন, এতিম, নারী, অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করার সরকারের সদিচ্ছা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ যেন এই উদ্যোগে বরকত দান করেন এবং দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেন।

দেশের মেধাবী তরুণদের খুঁজে বের করে তাদের বিকাশের সুযোগ করে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে পার্থ বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও অসংখ্য মেধাবী তরুণ-তরুণী রয়েছেন। জাতীয় ক্রিকেট দলের পেসার নাহিদ রানার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসে যেমন তিনি দেশকে প্রতিনিধিত্ব করছেন, তেমনি যোগ্যতার ভিত্তিতে মেধাবীদের সামনে আনার ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।

রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অতীতের দুর্বলতার কথা উল্লেখ করে পার্থ বলেন, আগের সরকারগুলোর সময় রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতির কারণে রাজস্ব আদায় ব্যাহত হয়েছে। তখন জাতীয় উন্নয়নের পরিবর্তে পরিকল্পিত লুটপাটই ছিল মূল লক্ষ্য।

তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকারের চার মাসের সময়ে বড় ধরনের কোনো ব্যাংক লুট বা রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় ব্যাংক দুর্নীতির ঘটনা ঘটেনি। তাই সরকারকে একটি কল্যাণরাষ্ট্র গড়ে তোলার সুযোগ দেওয়া উচিত।

ভোলার উন্নয়নের প্রসঙ্গ তুলে ধরে পার্থ বলেন, বিপুল প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত থাকায় ভোলাকে দেশের কৌশলগত অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা উচিত। তিনি বলেন, ভোলায় প্রায় ১ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস রয়েছে। এই সম্পদ যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে ভোলা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

এ সময় তিনি ভোলা বিমানবন্দর, আধুনিক হাসপাতাল, উন্নত সড়ক যোগাযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং প্রস্তাবিত ভোলা-বরিশাল সেতু দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। পাশাপাশি উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে পৃথক ভোলা উন্নয়ন কমিটি গঠনেরও প্রস্তাব দেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন