বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ

জুলাই জাদুঘরের নির্মাণ ব্যয় ও নিয়োগ নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদ

বিশেষ প্রতিনিধি

জুলাই জাদুঘরের নির্মাণ ব্যয় ও নিয়োগ নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদ

জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের নির্মাণ ব্যয় এবং জনবল নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদকে 'ভিত্তিহীন, অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার' হিসেবে আখ্যায়িত করেছে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, জুলাই জাদুঘরে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের জনবল নিয়োগ করা হয়নি।

বিজ্ঞাপন

নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ের ব্যাখ্যা দিয়ে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজে প্রদর্শিত দৃশ্যটি কোনো ইন্টারভিউ বা ভাইভার নয়। মূলত শহীদ পরিবার ও আহতদের কর্মসংস্থানে উৎসাহিত করতে একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করা হয়েছিল। এখন পর্যন্ত কাউকে পরীক্ষার জন্য ডাকা হয়নি; যথাযথ সরকারি প্রবিধানমালা অনুসরণ করে একটি উচ্চপর্যায়ের নিয়োগ কমিটির মাধ্যমে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে। জনবল নিয়োগে 'বাণিজ্য' সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে জানানো হয়, অভিযুক্ত কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত নন। তবুও বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বদলি করা হয়েছে।

৬ মাসে আপ্যায়ন বাবদ ১ কোটি ২ লাখ টাকা ব্যয়ের তথ্যটিকে বানোয়াট দাবি করে জাদুঘর কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৫ এপ্রিল ২০২৫ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত মোট ব্যয় হয়েছে ৩৭ লাখ ৪৪ হাজার ৬৯৮ টাকা। প্রতিদিন গড়ে ৭০-৮০ জন স্বেচ্ছাসেবক, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বিদেশি কূটনীতিক ও সাংবাদিকদের আপ্যায়ন বাবদ দৈনিক গড় খরচের পরিমাণ মাত্র ১২ হাজার ২৩৮ টাকা।

টিনের বাউন্ডারি স্থাপনে প্রায় ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ের যে তথ্য ছড়ানো হয়েছে, সেই অর্থ জাতীয় জাদুঘর ব্যয় করেনি; বরং এটি গণপূর্ত অধিদপ্তরের অনুকূলে বরাদ্দকৃত ৯৮ কোটি ৪৫ লাখ ২১ হাজার টাকার একটি অংশ যা তাদের মাধ্যমেই বাস্তবায়িত হয়েছে। জাতীয় জাদুঘর কেবল প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদান করেছে।

জাদুঘর কর্তৃপক্ষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ঢাকার শেরেবাংলা নগরের সাবেক গণভবনকে জাদুঘরে রূপান্তর করা ছিল একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। এই প্রকল্পে মূল অবকাঠামোগত কাজে গণপূর্ত অধিদপ্তরকে ৯৮ কোটি ৪৫ লাখ ২১ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়া ১৯টি থিমে ৬২টি তথ্যচিত্র নির্মাণে ৫ কোটি ২৩ লাখ টাকা এবং ভাস্কর্য, গ্যালারি সজ্জা, প্রতীকী কবরস্থান, আয়নাঘর ও কিউরেটিং-সহ অন্যান্য কাজে প্রায় ১৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে, যা কাজের পরিধি বিবেচনায় বাস্তবসম্মত।

বর্তমানে জাদুঘরটি উদ্বোধনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং প্রধানমন্ত্রী খুব শীঘ্রই এটি উদ্বোধন করবেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতীয় জাদুঘরের পক্ষে জনশিক্ষা বিভাগের কীপার আসমা ফেরদৌসি স্বাক্ষরিত এই বিজ্ঞপ্তিতে যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার জন্য সকলকে অনুরোধ জানানো হয়।

এএস

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন