দেশের সর্বপ্রাচীন ও বৃহত্তম সরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল ২০২৬ সালের স্বাধীনতা পদকের জন্য মনোনীত হয়েছে। আগামী ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে আনুষ্ঠানিকভাবে এ পদক ঘোষণা করা হবে।
বৃহস্পতিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজের শহীদ ডা. মিলন অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভায় এ তথ্য জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন (এমপি)।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম স্বাধীনতা পদকের প্রচলন করেছিলেন। তাঁর ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এই সম্মানজনক পদকের জন্য মনোনীত হয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবার একটি মানদণ্ড। এই হাসপাতাল ভালোভাবে পরিচালিত হলে দেশের মানুষ মনে করে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা ভালো আছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন তাঁর বক্তব্যে ঢামেক হাসপাতালকে ‘গর্বিত স্বাধীনতার সৈনিক’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এই প্রতিষ্ঠান থেকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হাজারো চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী তৈরি হয়েছেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে অসংখ্য রোগীকে সেবা দিয়ে আসছেন।
তিনি হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়নে বিভিন্ন নির্দেশনা দেন। সরকারি হাসপাতালে সিট, ট্রলি ও ভর্তি নিয়ে ব্যবসার অভিযোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা বাধ্য হয়ে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছি। এসব অনিয়ম থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে।” পবিত্র রমজান মাসের কথা উল্লেখ করে তিনি কর্মচারীদের কোনো অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িত না হওয়ার আহ্বান জানান।
এ সময় তিনি কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবি-দাওয়া সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি তাঁর কাছে দেওয়ার অনুরোধ জানান এবং সীমিত সম্পদের মধ্যেও তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে বলে আশ্বাস দেন।
এর আগে কর্মচারীদের পক্ষে কর্মচারী সমিতির নেতা মো. আজিম বক্তব্য রাখেন। তিনি ২০১৮ সালে প্রণীত আউটসোর্সিং জনবল নিয়োগ বিধি বাতিল করে হাসপাতালের শূন্য পদে সরাসরি সরকারিভাবে জনবল নিয়োগের দাবি জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির নেতা মো. আজিম। সঞ্চালনা করেন কর্মচারী মো. শিপন এবং ইফতার মাহফিল উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলমগীর।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম, ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ফারুক আহমদ, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আসাদুজ্জামান, উপপরিচালক আশরাফুল আলমসহ চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

