ঈদের দীর্ঘ ছুটি-পরবর্তী সময়ে অফিস-আদালত, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন ভবন ও আঙিনায় এডিস মশার প্রজনন ও বংশবিস্তারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন ৫৩৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে ‘ক্লিন স্কুল, নো মসকিউটো’ শিরোনামে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
শনিবার সকালে ঢাকা রেসিডেনশিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এই বিশেষ মশক নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, সামনে বর্ষা মৌসুম। এ সময় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা থাকে, তাই আমাদের এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর স্কুল ও কলেজ ক্যাম্পাসগুলো খুলছে। এসব ক্যাম্পাসে যেন এডিস মশার প্রজনন না ঘটে, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, মশার বিস্তার রোধে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। আমরা একটি বাসযোগ্য, মশামুক্ত ও দুর্গন্ধমুক্ত শহর গড়ে তুলতে চাই।
এ সময় ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন,
দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় অনেক স্থানে পরিচ্ছন্নতার ঘাটতি তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা দেশের ভবিষ্যৎ— বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তাদের সুস্থতা নিশ্চিত করতে এই বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। তিন দিনের মধ্যেই ডিএনসিসির আওতাধীন ৫৩৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিষ্কার করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই কর্মসূচির আওতায় ডিএনসিসির অন্তর্গত ৫৩৬টি স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় তিন দিনব্যাপী সমন্বিত পদ্ধতিতে এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র অপসারণ ও ধ্বংসসহ মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
উক্ত কর্মসূচির অংশ হিসেবে এডিস মশা জন্মাতে পারে এমন সব সম্ভাব্য সোর্স ও প্রজননক্ষেত্র অপসারণ বা ধ্বংস করা হবে। পাশাপাশি বন্ধ শ্রেণিকক্ষসহ স্কুল প্রাঙ্গণ ও আশপাশে লার্ভিসাইডিং ও এডালটিসাইডিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের এডিস মশা ও ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ধারণা প্রদান করা হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

