বাংলাদেশ থেকে ইলেকট্রিশিয়ান, ওয়েল্ডিং, এসি টেকনিশিয়ান ও প্লাম্বিং; এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে দক্ষ কর্মী নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে কাতার। একই সঙ্গে বাংলাদেশে কাতারের ভিসা সেন্টারের সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতির আশ্বাস মিলেছে।
সোমবার সফররত কাতারের শ্রমমন্ত্রী আলী বিন সাঈদ বিন সামিখ আল মাররি’র সঙ্গে বৈঠক করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, কাতার মূলত এখন অদক্ষ শ্রমিকের পরিবর্তে দক্ষ জনশক্তি নিয়োগে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। বাংলাদেশও দক্ষ কর্মী তৈরি করে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, ইলেকট্রিশিয়ান, ওয়েল্ডিং, এসি টেকনিশিয়ান ও প্লাম্বিং; এ চার সেক্টর নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আমরা তাদের দক্ষ কর্মী নিতে উৎসাহিত করছি এবং সেই অনুযায়ী প্রস্তুতিও নিচ্ছি।
তিনি বলেন, গত কয়েক দশকে দু’দেশের মধ্যকার ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশি কর্মীদের সমস্যা সমাধান ও কল্যাণ নিশ্চিতে কাতার সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে গভীর কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
ভিসা প্রসেসিং ব্যবস্থার বিষয়ে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো যেন সাধারণ মানুষের হয়রানি না করে, সে বিষয়েও কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। দুই দেশের যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের আসন্ন বৈঠকে ভিসা সেন্টার সম্প্রসারণসহ অন্যান্য বিষয় চূড়ান্তভাবে আলোচনায় আসবে বলে জানা গেছে।
বৈঠকে উপস্থিত প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক জানান, দুই দেশের সম্পর্ক ও শ্রমবাজার সম্প্রসারণ নিয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, আগে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের শ্রমবাজার আরও শক্তিশালী ছিল, বর্তমানে তা পুনরায় সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কাতার বিশেষ করে ইমাম ও মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় পেশায় বাংলাদেশিদের নিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে এবং সেই সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়েও সম্মতি দিয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, নতুন করে চারটি সেক্টরে (প্লাম্বিং, ওয়েল্ডিং, এসি টেকনিশিয়ান, ইলেকট্রিশিয়ান) বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য সুযোগ তৈরির বিষয়ে কাতার ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।
অন্যদিকে বাংলাদেশে বর্তমানে কাতারের একটি মাত্র ভিসা সেন্টার রয়েছে, যা পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছে ঢাকা। এ বিষয়ে ভিসা সেন্টারের সংখ্যা বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, একাধিকবার ভোগান্তি কমাতে অতিরিক্ত ভিসা সেন্টার স্থাপনের বিষয়টি কাতারকে জানানো হয়েছে এবং তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে।
যৌথ কমিটির এই বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত কাতারের রাষ্ট্রদূত সেয়ারা আলী মাহদি সাঈদ আল কাহতানি; প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ; প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান এবং দু’দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

