আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

তুমি কোনো রাজার ছেলে নও

মওদুদ আলমগীর পাভেল

তুমি কোনো রাজার ছেলে নও
মওদুদ আলমগীর পাভেল

সারা দেশ গভীর ঘুমে নিমজ্জিত। শেষ রাতে চট্টগ্রামে সেদিন মুষল বৃষ্টি। ঘাতকরা তাদের দুষ্কর্ম সেরে তাড়াতাড়ি পালিয়েছে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস থেকে। প্রধান গেট আর বারান্দায় ছড়িয়ে আছে নিরাপত্তা প্রহরীদের অবিন্যস্ত মৃতদেহ। দোতলার সিঁড়ির কাছে অত্যন্ত অনাদরে পড়ে আছে দেশের সর্বস্তরের মানুষের একান্ত প্রিয়জন, মনের গহিনে জায়গা নেওয়া প্রেসিডেন্ট

জিয়াউর রহমানের লাশ।

বিজ্ঞাপন

সদ্য তাহাজ্জুদের নামাজ শেষ করে ফজরের আজানের প্রতীক্ষায় থাকা মানুষটি বাইরে গোলাগুলির শব্দ শুনে সবে কক্ষ থেকে বেরিয়ে সিঁড়ির সামনে দাঁড়িয়েছেন ঘটনা জানার জন্য। দেশের মানুষের একান্ত আপনজন শহীদ জিয়া কখনই নিরাপত্তার কঠিন বাঁধনে না বেঁধে বলিষ্ঠ আত্মপ্রত্যয়ে সাধারণ মানুষের মতো গ্রামের আইল আর গেরস্তের উঠান পেরিয়েছেন পরম আত্মবিশ্বাসে। মাটির বারান্দায় বসে কুয়োর পানিতে তৃষ্ণা মিটিয়েছেন নির্দ্বিধায়। গ্রামের সাধারণ মানুষ আপনজনের আস্থায় টিনের থালায় এগিয়ে দিয়েছেন আপ্যায়নের গুড়-মুড়ি আর বাড়ির তৈরি মোয়া। এত গভীর ভালোবাসায় নিরাপত্তার চাদর জড়িয়ে নিজেকে জনবিচ্ছিন্ন করার কথা ভাবতেই পারেননি এই ক্ষণজন্মা মানুষটি।

মানুষের মনের রাজা চলে গেছেন অকস্মাৎ; শত মাইল দূরে ঢাকায় কিশোর দুই পুত্র বা স্ত্রী তখনো জানেন না কত বড় সর্বনাশ ঘটে গেছে কিছুক্ষণ আগে। দেশের মানুষের কথা ভাবতে গিয়ে পরিবার-পরিজন আর নিকটাত্মীয়দের কথা ভাবার সময়ই হয়নি শহীদ জিয়ার। অন্য আর দশজনের পিতৃ বা স্বামীবিয়োগের বেদনার সঙ্গে এ ঘটনার অমিল যে ভীষণরকম। সাধারণ চাকুরের জীবনযাপনে অভ্যস্ত এই পরিবারের ব্যাংক হিসাবের খাতায় জমা আর খরচের অঙ্ক সমান সমান। সঞ্চয়ের ঘর শূন্য। সরকারি আবাসন মাথার ওপর থেকে সরে গেলে মাথা গোঁজার কোনো জায়গা নেই। মরণোত্তর পেনশনের টাকায় ছেলেদের লেখাপড়ার খরচ জোগানো অসম্ভব। সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকতে জিয়াউর রহমান আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে একটা প্রচ্ছন্ন দূরত্ব বজায় রাখতেন। তাই এই পরিবারের পক্ষে তাদের সান্নিধ্যে যাওয়ার সহজাত অস্তস্তি থাকা অস্বাভাবিক নয়। যে মানুষ দেশের কোটি কোটি মানুষের আত্মার আত্মীয়, তার আলাদা করে আত্মীয় খোঁজার দরকার কী। সেজন্যই সম্ভবত দেশের মানুষ কেন, তার দলের ঘনিষ্ঠজনের কাছে অজানা তার ভাই-চাচা আর নিকটাত্মীয়দের নাম-পরিচয়। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে লাখ লাখ মানুষের জমায়েত তখন একদিকে ধানমন্ডি, অন্যদিকে ফার্মগেটের রাজপথ ছুঁয়েছে; তবুও মানুষের আসার বিরতি নেই। পৃথিবীর কোথাও কারো জানাজায় এত লোকসমাগমের উদাহরণ সম্ভবত তখন পর্যন্ত আর একটিও ছিল না।

অনেকের কাছেই এই অসাধারণ দেশপ্রেমিক মানুষের ভেতরের কথা জানার সুযোগ খুব কমই হয়েছে। নিজ আর পরিবারের চেয়ে দেশ যে অনেক বড়Ñতার হাজারো প্রমাণ এই মানুষটির জীবনের পরতে পরতে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের রাতে পাকিস্তানিদের আক্রমণের বিভীষিকার সামনে প্রথম বিদ্রোহ করা সেনাকর্মকর্তার নাম জিয়াউর রহমান। তার গায়ে ‘রাজাকার’ আর ‘আইএমআর’ এজেন্টের তকমা পরানোর হাস্যকর চেষ্টার প্রত্যুত্তর দেওয়া সময়ের অপচয়।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পোশাক পরে তাদের চাইনিজ রাইফেল হাতে নিয়ে তাদেরই বিরুদ্ধে We Revolt বলার মতো সাহসী দেশপ্রেমিক হতে যে বুকের পাটা প্রয়োজনÑসেটা রাস্তাঘাটে পাওয়া যায় না। সেদিন সৈন্যদল নিয়ে চট্টগ্রাম শহর ছেড়ে রেললাইন ধরে কালুর ঘাটে যাওয়ার পথে সৈনিকরা জানতে চাইছিলেনÑস্যার, বেগম সাহেবাকে বলে গেলেন না! জিয়ার পাল্টা জিজ্ঞাসা, তুমি বলে যাচ্ছ! না, স্যার! আমার পরিবার তো এখানে নেই। তুমি যখন বলে যাচ্ছ না, তখন আমার বলারই দরকার কী? চলো! পরিবারের কাছে মাস খরচের টাকাটাও দেওয়া হয়নি। তখন তো সবে ২৫ তারিখ, বেতন হওয়ার সুযোগ কোথায়? স্ত্রী আর অসহায় দুটি শিশুকে অনিশ্চয়তার মধ্যে রেখে আবারও রেডিওর ঘোষণাÑ‘আমি মেজর জিয়া, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি।’ এই বেতার ঘোষণার অর্থ কতটা উপলব্ধি করি আমরা। এই ঘোষণার গভীরতায় না-ই বা গেলাম; শুধু এই ঘোষণার পরিণতিতে অবধারিত কোর্টমার্শাল মৃত্যুদণ্ড আর পরিবারের জন্য নিদারুণ অনিশ্চয়তা। তবুও সাহসের এতটুকু ঘাটতিও ছিল না তার মাঝে। এই ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবেই পাল্টা বিমান আক্রমণে ধ্বংস হয়েছে বেতার কেন্দ্র। আবারও অনিশ্চিত যাত্রা সৈন্যদল নিয়ে। কোথায় যাবেন? কোন দেশে? আমাদের রাজনৈতিক নেতৃত্ব কি তাদের আকা-ইঙ্গিতে কোনো আগাম নির্দেশনা দিয়েছিলেন? ইতিহাস তো সেটা বলে না। পরে ১নং সেক্টরের কমান্ডার হয়েছিলেন তিনি; কিন্তু জানতেন এই সমতল বাংলাদেশে গেরিলা যুদ্ধে চূড়ান্ত সফলতা অসম্ভব। তাই হাজারো প্রতিকূলতা অতিক্রম করে গড়েছিলেন প্রথম ব্রিগেড ‘জেড ফোর্স’। তার নেতৃত্বে কামালপুরে যুদ্ধ, রৌমারীতে মুক্তাঞ্চল সৃষ্টিÑএসব ইতিহাসকে যারা আবদ্ধ রাখতে চান, তারা অবশ্যই বোকার স্বর্গের অধিবাসী।

জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণা বা মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বে দেওয়া কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। পাকিস্তানের সামরিক একাডেমিতে প্রশিক্ষক থাকাকালে বাঙালি ক্যাডেটদের তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদ আর অবশ্যম্ভাবী সংঘাতের পূর্বপ্রস্তুতি দিয়েছিলেন বরাবর। মেজর হাফিজ তার জবানিতে এই সত্যতার প্রতিধ্বনি যেমন করেছেন, তেমনি শহীদ জিয়া নিজের লেখনীতেও জানিয়েছেন বাঙালির সাহস আর যুদ্ধ-সক্ষমতা নিয়ে কটাক্ষ করা পাকিস্তানি অফিসারকে মুষ্টিযুদ্ধে হারিয়ে বাঙালির সক্ষমতার পরিচয় দিয়ে। ৬৫-এর পাক-ভারত যুদ্ধে বেদিয়ান সেক্টরে মেজর জিয়ার কোম্পানির সম্মুখ যুদ্ধের অসাধারণ কৃতিত্বের স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী।

স্বাধীনতা যুদ্ধে সর্বোচ্চ বীরত্ব আর সক্ষমতা দেখানোর পাশাপাশি তার প্রাপ্য সেনাপ্রধানের পদবঞ্চিত হলেও নীরবে মেনে নিয়েছেন শৃঙ্খলার সঙ্গে। গুরুত্বহীন উপ-প্রধান হয়েও সাধ্যমতো চেষ্টা করেছেন অবদান রাখতে। দেশে যখন নকলের মহোৎসব, তখন ক্যাডেট কলেজগুলোর গভর্নিং বডির প্রধান হিসেবে শিক্ষার মানে এতটুকুও ছাড় দেননি জিয়াÑজাতি আজও তার ফল ভোগ করছে। ৭ নভেম্বর ইতিহাসের আরেক ক্রান্তিকালে নেতৃত্বশূন্য দেশকে দেখিয়েছেন আলোর দিশা ৭১-এর স্বাধীনতা ঘোষণার মতো। হেনরি কিসিঞ্জার Basket case আর আওয়ামী শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে বলা ‘তিন বছর কিছুই দিবার পারব না’র বিপরীতে জিয়াউর রহমান দেশকে দিয়েছেন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, মুক্ত করেছেন গণতন্ত্র। অর্থনীতিকে দিয়েছেন দিশা। তার দেখানো পথে তৈরি পোশাক রপ্তানি আর বিদেশের শ্রমবাজার থেকে প্রাপ্ত রেমিট্যান্সের পথ ধরে যে অর্থনীতি আজ ৪৫ বছর ধরে টিকে আছে, সেখানে আমরা অতিরিক্ত আর কোনো কিছুকে যুক্ত করতে পেরেছি কী? তার মন্ত্রিসভায় সংযুক্ত হয়েছেন অরাজনৈতিক, এমনকি ভিন্ন মতাদর্শীরাও শুধু তার দেশপ্রেমের বিশুদ্ধতার সম্মানে। তাই অধ্যাপক আবুল ফজল, অধ্যাপক ইব্রাহীম, অধ্যাপক শামসুল আলম, ড. ফজিউদ্দীন মাহতাবরা জিয়াউর রহমানের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পররাষ্ট্র আর পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। বিএম আব্বাস পানিসম্পদমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে গ্যারান্টি ক্লজসহ গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি করতে পারেন এবং বাংলাদেশ নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য হয় জাপানের মতো দেশকে পরাজিত করে।

রাজ্যের সর্বোচ্চ দায়িত্বে থেকেও তিনি স্বজনপ্রীতির সামান্যতম কালিমাও গায়ে লাগতে দেননি। ছোট চাচা কর্নেল ডা. মমতাজুর রহমানের উৎসাহে সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া জিয়া প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর সবিনয়ে তাকে বলেছিলেন তার বাসায় বেশি না আসতে। শৈশব থেকে একসঙ্গে চলা নিকটাত্মীয়রাও বাসায় সামান্য সৌজন্য উপহার নিয়ে গেলে সবিনয়ে প্রত্যাখ্যান করতেন এই বলে যে, তার যে মাসিক বেতন, সেটা দিয়ে সারা মাস তার পরিবারকে এমন স্বাচ্ছন্দ্য দেওয়া যেহেতু সম্ভব নয়, সেজন্য এগুলো না আনতে। তার আপন ছোট ভাই মিজানুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা। গ্যারেজের দোতলায় ভাড়া থাকতেন। তিনি তার প্রাপ্য পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন বারবার এ জন্য যে, প্রেসিডেন্টের ছোট ভাই পদোন্নতি পেলে স্বজনপ্রীতির ভ্রুকুঞ্চন হতে পারেÑএমন আশঙ্কায়; যদিও তিনি নিজেই ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। আপন ছোট ভাই অকৃতদার আহমেদ কামাল ছিলেন পর্যটন করপোরেশনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, যে সময় ওই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও জানতেন না সে কথা। তার বড় ভাই রেজাউর রহমান ছিলেন নৌবাহিনীর কর্মকর্তা। সাবেক নৌপ্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু মিরপুরের এক সাধারণ বাড়িতে জীবনযাপন করেছেন। তার আপন চাচাতো ভগ্নিপতি যে এয়ার ভাইস মার্শাল খন্দকার আবুল বাশার, সে কথাইবা জানেন কজন। তার মন্ত্রিসভায় আপ্যায়নের তালিকায় ছিল বিস্কুট আর চা, আর সেই মন্ত্রিসভার বৈঠক প্রায়ই যে গভীর রাত অবধি গড়াত বাড়তি আপ্যায়ন ছাড়াইÑসেটাও তো অজানা আজও। কিশোর তারেক আর আরাফাতের ভাগ্যে নতুন জামা-কাপড়ের সৌভাগ্য তেমন হয়নি। বেশিরভাগ সময় জুটেছে বাবার পুরোনো শার্ট, প্যান্টের কাটছাঁট করা পরিধেয়। রাষ্ট্রীয় সফরে একান্ত বাধ্য না হলে বেগম জিয়াকেও সঙ্গে নেননি কখনো, সেখানে তারেক-আরাফাতের তো প্রশ্নই ওঠে না। একবার নেপালের রাজা ধীরেন্দ্র তার ছেলেকে নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিলেন। ফিরতি সফরে যাওয়ার কথা প্রেসিডেন্ট জিয়ার। কিশোর তারেকের আবদার ছিলÑনেপালের রাজার ছেলে বাংলাদেশে আসতে পারলে সে কেন নেপালে যেতে পারবে না। জিয়ার সাফ জবাব ছিলÑতুমি কোনো রাজার ছেলে নও। শৈশব থেকে আদর্শ আর সততার এমন শৃঙ্খলার মাঝে বড় হওয়া তারেক রহমানের মাঝে যারা বিলাসিতার গন্ধ খোঁজেন, তাদের জন্য কেবল করুণাই হয়।

রাষ্ট্র পরিচালনার তৃণমূলের খবর নিতে গভীর রাতেও জেলা প্রশাসকদের নিজেই ফোন করতেন। জেলা পর্যায়ে সফরে গেলে সার্কিট হাউসের বাবুর্চির হাতে নিজে টাকা দিয়ে বলতেন, ডাল-সবজি আর ছোট মাছ-ভাতের ব্যবস্থা করতে। সঙ্গে যদি কোনো কর্মকর্তা এর বাইরে কিছু করতেন, তাহলে সেটা শুধু প্রত্যাখ্যাতই হতো না; বরং মাঝরাতে বাবুর্চিকে ডাল রান্না করতে হতো নতুনভাবে। সফরে গেলে নিজ হাতে কাপড় ধুয়ে সারা রাত শুকিয়ে সকালে আবারও পরতেন। প্রেসিডেন্ট স্যুটের দৈন্যদশা দেখে যদি কখনো কেউ নতুন স্যুট-কোটের ব্যবস্থা করেছে তো তাকে সে টাকা রাষ্ট্রের কোষাগারে ফেরত দিতে বাধ্য করতেন। বিদেশে প্রাপ্ত সব ধরনের উপহার সরাসরি জমা দিতেন রাষ্ট্রীয় তোশাখানায়।

বঙ্গভবন শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বলে খরচ কমাতে সেনা উপ-প্রধানের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণবিহীন বাড়িতে থেকেছেন আমৃত্যু।

প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর একবার জন্মভূমি বগুড়ার বাগবাড়িতে গিয়ে খুঁজে বের করেছিলেন শৈশবের শিক্ষক পণ্ডিত মজিবর রহমানকে। প্রকাশ্যে শত শত মানুষের সামনে পা ছুঁয়ে সালাম করে সম্মান জানিয়েছিলেন শিক্ষককে। শিক্ষক সাহস পেয়ে বলেছিলেনÑবাবা, শহরে যাতায়াতে আমাদের সমস্যা হয়। খাউরা বিলের উপর ব্রিজটা যদি করে দিতে…। প্রেসিডেন্ট বিনয়ের সঙ্গে বলেছিলেন, স্যার! কিছু মনে করবেন না। আমার গ্রামে যাওয়া-আসার ব্রিজটা হবে দেশের শেষ ব্রিজ, অর্থাৎ সবগুলো ব্রিজ তৈরি শেষ হলে। এমনই মানুষ ছিলেন জিয়াউর রহমান। তাকে নিয়ে বিষোদগার করা সেই সংকীর্ণমনাদের জন্য শেষের কথাÑশেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের খবর লে. কর্নেল শাফায়াত জামিলের কাছে শোনার পর তিনি (জিয়া) বলেছিলেন, Vice President is there. Let's uphold the constitution. Get your troops ready. তার বলা এই কথার অন্তর্নিহিত অর্থ যদি তারা ঠিকঠাক বুঝত, তাহলে বাংলাদেশের ইতিহাস হয়তো অন্যভাবে লেখা হতো। কিন্তু সমস্যা এক জায়গায়। দেশের ক্রান্তিকালে যখন রাজনৈতিক নেতৃত্বের এগিয়ে আসার কথা, তখন সেই ব্যর্থ লগ্নে আশীর্বাদ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন শহীদ জিয়াউর রহমান। বারবার সেই একাত্তরে স্বাধীনতা ঘোষণার সময় যেমন সত্য, তেমন সত্য ৭ নভেম্বরে দিশাহীন দেশ ও জাতিকে রক্ষার মহান দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রটিও।

সততা আর দেশপ্রেম

নেতৃত্বে আর ভবিষ্যৎদর্শী যদি কোনো রাষ্ট্রনায়কের অত্যাবশ্যক গুণাবলি হয়, তাহলে এ দেশে যদি একজনও তেমন জন্মগ্রহণ করে থাকেন, তবে তার নাম শহীদ জিয়াউর রহমান। প্রতিপক্ষের যা কিছু আক্রমণ, সেটি শুধু অন্তহীন ক্ষোভ আর হতাশার বহিঃপ্রকাশ। কারণ, এই সত্য অন্তত তাদের অজানা নয় যে, ইতিহাসের পাতায় শহীদ জিয়ার অবস্থান পর্বতশৃঙ্ঘের শেষ চূড়ার মতোÑযা স্পর্শ করার ক্ষমতা অন্তত কারো নেই।

লেখক : সাবেক অধ্যক্ষ, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ

আহ্বায়ক, বিএনপি মিডিয়া সেল

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন