আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

‘বিকল্প নেতৃত্ব প্রস্তুত রাখুন’ লিখে কী বার্তা দিলেন নাহিদ

আতিকুর রহমান নগরী

‘বিকল্প নেতৃত্ব প্রস্তুত রাখুন’ লিখে কী বার্তা দিলেন নাহিদ
নাহিদ ইসলাম। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ২০২৪ সালের ১৩ জুলাই এর একটি ফেসবুক পোস্ট নতুন করে শেয়ার দিয়েছেন।

ক্যাপশনে তিনি লেখেন—‘বিকল্প নেতৃত্ব প্রস্তুত রাখুন; ১৩ জুলাই, ২০২৪।’

বিজ্ঞাপন

রোববার সকালে পোস্টটি পুনরায় শেয়ার দেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া তরুণ এই নেতা।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৩ জুলাই আন্দোলনের বিস্তারিত জানিয়ে সুসংগঠিত একটি দিকনির্দেশনা তুলে ধরেছিলেন নাহিদ। তার ওই স্ট্যাটাসে আন্দোলনের সাংগঠনিক কাঠামো, নেতৃত্ব, শান্তিপূর্ণ অবস্থান, গণসংযোগ, মিডিয়া কৌশল এবং অর্থ ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো স্পষ্টভাবে নির্দেশ করা হয়েছিল।

‘যেভাবে আন্দোলন পরিচালনা করবেন’ শিরোনামে লেখা গত বছরের ওই স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো—

১। বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, জেলা ও মহানগরে যারা আন্দোলন সমন্বয় করছেন সবাই সংগঠিত হওয়ার জন্য আলাদা করে সমন্বয়ক কমিটি তৈরি করুন। দল, মত নির্বিশেষে সকলের অংশগ্রহণের সুযোগ রাখুন৷ সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করুন এবং সবার আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করুন। তবে আন্দোলনের স্বার্থে বিতর্কিত বা রাজনৈতিকভাবে প্রশ্ন উঠতে পারে এরকম কাউকে নেতৃত্ব পর্যায়ে রাখবেন না।

২। আন্দোলনকে কোনো একক বা মূল নেতৃত্বের উপর নির্ভরশীল করবেন না। সবসময় বিকল্প নেতৃত্ব প্রস্তুত রাখুন। প্রথম দিকের নেতৃত্বে উপর ঝামেলা হলেও তাহলে আন্দোলন স্তিমিত হবে না। নেতৃত্বে নতুন চেহারা আনার চেষ্টা করুন।

৩। ইন্টার্নালি সংগঠিত থাকুন কিন্তু আন্দোলনকে কোনো সাংগঠনিক রূপ দিবেন না। কমিটিটা শুধু শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য। আন্দোলনের স্বতঃস্ফূর্ত চরিত্র যাতে বজায় থাকে৷ তবে কোনো পক্ষ অনুপ্রবেশ করে যাতে স্যাবোটেজ করতে না পারে এ বিষয়ে সতর্ক থাকবেন৷ আন্দোলন সব সময় শান্তিপূর্ণ ও অহিংস হবে।

৪। যে স্থানে কর্মসূচি করবেন সেখানে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী যোগাযোগ করতে চাইলে তাদের সাথে কোঅপারেট করুন। কিন্তু সকল সিদ্ধান্ত আপনারাই নিবেন। কোনো ধরনের আপস করা যাবে না।

৫। সম্মিলিতভাবে আন্দোলন করার চেষ্টা করুন। জেলা বা মহানগরের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করুন। এবং একসাথে বড় জমায়েত করার চেষ্টা করুন।

৬। কারো উপর কোনো আঘাত বা হুমকি আসলে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ করুন। ভয় পাবেন না। পিছিয়ে যাবেন না। সামনে এসে কথা বলুন। এখানে গোপনীয়তার কিছু নাই। আমাদের দাবি ও বক্তব্য সুস্পষ্ট ও যৌক্তিক।

৭। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনকে যুক্ত করুন। কর্মসূচিতে সাংস্কৃতিক আয়োজন রাখুন। জেলা ও মহানগরের নাগরিক সংগঠনগুলোর সাথে যোগাযোগ করুন। কর্মসূচির আগে মাইকিং ও লিফলেটের মাধ্যমে ব্যাপক গণসংযোগ করুন। হলের রুমে রুমে, লাইব্রেরিতে প্রচার করুন।

৮। মিডিয়া ও সংবাদকর্মীদের সাথে সুসম্পর্ক রাখুন। মিডিয়ার সামনে বুঝে শুনে কথা বলুন যাতে মূল বক্তব্যের সাথে সংগতিপূর্ণ থাকে। প্রোগ্রামে ও মিডিয়ায় আন্দোলনের সাথে সম্পর্ক নেই এরকম বক্তব্য বা স্লোগান দিবেন না।

৯। ঢাকার সাথে সমন্বয় করে কর্মসূচি রাখার চেষ্টা করুন। 'বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন' ব্যানার যারা ব্যবহার করবেন তারা অবশ্যই ঢাকার সাথে আলোচনা করে নিবেন।

১০। অর্থ সংগ্রহের জন্য সরাসরি ক্রাউড ফান্ডিং করুন৷ কোনো অনলাইন মিডিয়াম ব্যবহার করবেন না। অর্থের নিয়মিত হিসাব রাখুন এবং সমন্বয়ক টিমের কাছে হিসাব ক্লিয়ার রাখুন। কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ নিবেন না৷ কারো কাছ থেকে বেশি অঙ্কের টাকা নিবেন না। রাজনৈতিক স্বার্থ আছে এরকম কারো কাছ থেকে কোনো আর্থিক সহযোগিতা নিবেন না।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...