আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

সংসদে এমপির অভিযোগ

‘নাম আব্দুর রহিম, বিকাশ নম্বর মেম্বার-চেয়ারম্যানের’

আমার দেশ অনলাইন

‘নাম আব্দুর রহিম, বিকাশ নম্বর মেম্বার-চেয়ারম্যানের’
নড়াইল-২ আসনে জামায়াতের এমপি আতাউর রহমান। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

সংসদে সামাজিক নিরাপত্তা ভাতার অর্থ বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিষয়টি সরকারের নজরে আনার আহ্বান জানিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নড়াইল-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. আতাউর রহমান।

বিজ্ঞাপন

আর রবিবার (১৫ মার্চ) জাতীয় সংসদ অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে প্রশ্নোত্তরকালে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ভাতাভোগীর নামে ভাতা বরাদ্দ থাকলেও বিকাশ বা নগদ নম্বর হিসেবে অন্য কারও; বিশেষ করে স্থানীয় মেম্বার বা চেয়ারম্যানের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ, নাম থাকে আব্দুর রহিমের, কিন্তু বিকাশ নম্বর থাকে মেম্বার-চেয়ারম্যানের।

সংসদ সদস্য অভিযোগ তুলে জানান, অতীতে দেখা গেছে, কোনো এলাকায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি যদি সরকারদলীয় না হন, তাহলে স্থানীয় সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা ভাতা প্রদানসহ বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করেন। এতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি অনেক সময় কেবল প্রতীকী অবস্থানে থেকে যান। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে যে ত্যাগ ও সংগ্রাম হয়েছে, তার আলোকে এ ধরনের বৈষম্য দূর করতে সরকার কী পদক্ষেপ নেবে, সেটি জানতে চান তিনি।

জবাবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মিজ্‌ ফারজানা শারমীন, এমপি বিষয়টি সংসদের কার্যতালিকায় না থাকায় ভবিষ্যতে লিখিত নোটিশ আকারে প্রশ্ন উত্থাপনের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে অনুরোধ জানান। তবে বিষয়টি সম্পর্কে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সব ধরনের স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম দূর করে সেবা নিশ্চিতের চেষ্টা করছে।

তিনি বলেন, অতীতে বিতরণ পর্যায়ে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও সমস্যার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে সবার জন্য একটি সমতাভিত্তিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করেন।

মোবাইল ওয়ালেটের মাধ্যমে ভাতা বিতরণের বিষয়ে তিনি বলেন, অনেক সময় প্রান্তিক পর্যায়ের বয়স্ক বা অসহায় মানুষ নিজেরা মোবাইল ব্যবহার করতে পারেন না। তখন তারা ছেলে, নাতি বা অন্য কোনো আত্মীয়ের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করেন। এ কারণে কখনো কখনো কিছু অসংগতি দেখা দিতে পারে।

ভাতার অর্থ যেন প্রকৃত উপকারভোগীর কাছেই পৌঁছায়—সেটি নিশ্চিত করতে সরকার আরও কার্যকর ও পরিশীলিত ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, ‘এই ভাতা ৫০০ বা ৭০০ টাকা হলেও অনেক মানুষের জন্য তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই যার টাকা, তা যেন তার কাছেই পৌঁছায়—সেদিকে আমাদের নজর থাকবে আশ্বাস দিয়ে বললেন প্রতিমন্ত্রী।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন