বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, ইরানে মার্কিন-ইজরায়েলের যৌথ সামরিক হামলা-আগ্রাসন ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতউল্লাহ খামেনিকে হত্যার ও এই হামলা- আক্রমণকে আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসী তৎপরতা। আন্তর্জাতিক বিধি বিধান ও সকল রীতিনীতি লংঘন করে একটি স্বাধীন দেশের উপর এই সামরিক আগ্রাসন ও সাধারণ নাগরিকদের হত্যাকাণ্ড যুদ্ধাপরাধ । এটা মধ্যযুগীয় বর্বরতার সামিল। এসব অপরাধমূলক সন্ত্রাসী তৎপরতার মধ্যে মার্কিন ও তার পশ্চিমা মিত্রদের কথিত গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের মুখোশও পুরোপুরি খসে পড়েছে।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে মঙ্গলবার তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, ঠুনকো ও হাস্যকর অজুহাতে যেভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান পরিচালিত হচ্ছে তা মার্কিন- ইজরায়েলের চরম ঔদ্ধত্বের বহিঃপ্রকাশ এবং জাতিরাষ্ট্রের স্বাধিনতা,সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে বৃদ্ধাংগুলী দেখানোর মত ঘটনা। একবিংশ শতাব্দীতে এধরণের অপতৎপরতা প্রায় অবিশ্বাস্য।
সাইফুল হক বলেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস ও সরকার পরিবর্তনের লক্ষ্যে সংঘটিত এই সামরিক আগ্রাসনের আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে গোটা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন - ইজরায়েলের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক কর্তৃত্ব নিরংকুশ করা। ইরানে তাদের অনুগত সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারলে তাদের উদ্দেশ্য সফল হয়। এই আগ্রাসী যুদ্ধের আর এক দুরর্বর্তী লক্ষ্য হচ্ছে ইজরায়েলী ভুখন্ডকে বিস্তৃত করা এবং আরব দুনিয়ার রাজনৈতিক মানচিত্র পরিবর্তন করে দেয়া।
সমাবেশে তিনি ক্ষোভের সাথে উল্লেখ করেন, কিছুদিন আগে একইরকম ঠুনকো অজুহাতে সামরিক অভিযান চালিয়ে তারা ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে স্বস্ত্রীক তুলে নিয়ে যায়। গত কয়েক দশক ধরে মার্কিনীদের এই অপরাধমূলক সন্ত্রাসী তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
তিনি অনতিবিলম্বে ইরানে এই যৌথ সামরিক আগ্রাসন বন্ধে কার্যকরি উদ্যোগ নিতে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন।
সাইফুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান, মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাইফুল ইসলাম, অরবিন্দু বেপারী বিন্দু, মীর রেজাউল আলম, কেন্দ্রীয় সংগঠক বাবর চৌধুরী প্রমুখ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

