আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

বাস দুর্ঘটনায় মৃত্যু: জামায়াতের মহিলা বিভাগ ও ছাত্রশিবিরের শোক

স্টাফ রিপোর্টার

বাস দুর্ঘটনায় মৃত্যু: জামায়াতের মহিলা বিভাগ ও ছাত্রশিবিরের শোক

দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক বাস দুর্ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ। বৃহস্পতিবার মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে এই শোক প্রকাশ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে সংঘটিত এই হৃদয়বিদারক ঘটনা আমাদের সবাইকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। স্বজন হারানো পরিবারগুলোর আহাজারি ও অসহায়ত্ব ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এ ধরনের ভয়াবহ দুর্ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

বিজ্ঞাপন

তিনি নিহতদের রূহের মাগফিরাত কামনা, শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

তিনি নিখোঁজদের সন্ধানে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর লক্ষ্যে নিখোঁজ সব যাত্রীকে উদ্ধারে নৌবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও কোস্ট গার্ডের সমন্বিত জোরদার অভিযান অব্যাহত রাখা; উদ্ধারকৃত আহতদের সুচিকিৎসা ও মানসিক ট্রমা কাটিয়ে উঠতে সরকারিভাবে পূর্ণ সহায়তা নিশ্চিত করা; ফেরিঘাটগুলোতে পন্টুনের নিরাপত্তাব্যবস্থা আধুনিকায়ন করা এবং বাসের ফিটনেস ও চালকদের সতর্কতা নিশ্চিত করতে কঠোর তদারকি করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করার দাবি জানান।

মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি দেশবাসীকে, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীদের সামর্থ্য অনুযায়ী উদ্ধারকাজে সহায়তা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদাত্ত আহ্বান জানান।

এদিকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে পড়ে অনেকে নিহত এবং নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

বৃহস্পতিবার যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এই শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা নিহতদের মাগফিরাত ও আহতদের সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর প্রতি দোয়ার আহ্বান জানান।

বিবৃতিতে শিবির নেতারা বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকেলে পন্টুনে ওঠার সময় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে তলিয়ে যায়। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ১৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এখনো অনেক যাত্রী নিখোঁজ রয়েছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় স্বজনহারাদের আহাজারিতে চারপাশ ভারী হয়ে উঠেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত ও উদ্বিগ্ন। আমরা নিখোঁজদের উদ্ধারে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

তারা বলেন, দেশে ধারাবাহিকভাবে সড়ক, নৌ ও আকাশপথে দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বেড়েই চলেছে, যা গভীর উদ্বেগের বিষয়। শুধু এবারের ঈদযাত্রায় দুই শতাধিক মানুষের জীবন ঝরে গেছে দুর্ঘটনায়। এছাড়া গত বছর মাইলস্টোন স্কুল এলাকায় বিমান দুর্ঘটনা, সম্প্রতি সদরঘাটে লঞ্চ দুর্ঘটনা, কুমিল্লায় ট্রেন দুর্ঘটনা এবং সর্বশেষ এই মর্মান্তিক ঘটনাসহ প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি দেশের সামগ্রিক যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতা ও নিরাপত্তাহীনতাকে স্পষ্ট করে তুলেছে। যাতায়াতব্যবস্থা সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত করতে ফেরিঘাটসহ সার্বিক যোগাযোগব্যবস্থার নিরাপত্তা আধুনিকায়ন ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

শিবির নেতারা নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। পাশাপাশি আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিতকরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য যথাযথ আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে কোনো গাফিলতি বা অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উত্থাপন করেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...