ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের সাড়ে ১৫ বছরের দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ড. নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, এ দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হয়ে গেছে। যতখানি আমরা ভেবেছি, এটা তার চেয়েও বেশি।
শনিবার দুপুরে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। নির্বাচনি বিতর্ক প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর বিজয়ী দলগুলোর সংবর্ধনা ও পুরস্কার বিতরণ উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম খান বলেন, একুশ আমাদের জাতীয় জীবনে অত্যন্ত তাৎপর্যময়। একুশের ধারাবাহিকতায় ৬৯, ৭১, ৯০ ও ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে, যা ছিল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন। তিনি বলেন, “বিগত সময়ে দেশের অনেক প্রতিষ্ঠান ধারণার চেয়েও বেশি ধ্বংস হয়েছে। আওয়ামী লীগের রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান সরকারকে কাজ করতে হচ্ছে। দলীয়করণ, আত্মীয়করণ, দুর্নীতি ও অযোগ্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব প্রদান—সব মিলিয়ে সর্বনাশ ডেকে আনা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, সমাজের সব শ্রেণির মানুষ আজ কষ্টে রয়েছে এবং যুবসমাজ হতাশ। তরুণদের আক্ষেপ দূর করে তাদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ ও আশা জাগাতে হবে। বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে রূপান্তর করা গেলে দেশের চেহারা বদলে যাবে এবং বাংলাদেশ বিশ্বে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি-এর চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, অতীতের যেকোনো নির্বাচনের চেয়ে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ছিল অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এটি ছিল নাগরিক মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং রাষ্ট্রক্ষমতা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্বাচন।
তিনি উল্লেখ করেন, এবারের নির্বাচনে জনগণ ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকার জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বহুমুখী কর্মসূচি হাতে নিচ্ছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নবগঠিত সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী খাল খনন, বৃক্ষরোপণ, ফ্যামিলি কার্ড প্রদানসহ বিভিন্ন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, বিনিয়োগে আস্থা ফেরানো, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জ্বালানি নিরাপত্তা ও মব কালচার প্রতিরোধ—এসব বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে সরকারকে। প্রধানমন্ত্রী সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করা, সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক করা এবং এমপিদের শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট না নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন স্টেট ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন খান, অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, অধ্যাপক ড. নাহরিন ইসলাম খান, অধ্যাপক ড. আফরোজা বেগম এবং অধ্যাপক সিক্তা দাস।
প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয় স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, প্রথম রানারআপ ইডেন মহিলা কলেজ এবং দ্বিতীয় রানারআপ তেজগাঁও কলেজ। শ্রেষ্ঠ বক্তা নির্বাচিত হন ইডেন মহিলা কলেজের বিতার্কিক মাসনুন নাবিলাহ আলম।
চ্যাম্পিয়ন দলকে ২ লাখ টাকা, প্রথম রানারআপ দলকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং দ্বিতীয় রানারআপ দলকে ১ লাখ টাকাসহ ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। এছাড়া শ্রেষ্ঠ বক্তাকে নগদ ৫০ হাজার টাকাসহ ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

