বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে, তবে তা যেন বিভেদের কারণ না হয়। আলোচনা-সমালোচনার সময় বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে, এটি যেন বিরোধের পর্যায়ে না যায়।
শনিবার রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। বিএনপি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমানের প্রথম দিনের কর্মসূচি ছিল সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান। জনাকীর্ণ এ অনুষ্ঠানে দেশের জাতীয় দৈনিক, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সম্পাদক, শীর্ষ নির্বাহী ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা অংশ নেন।
তারেক রহমান বলেন, আমাদের সমস্যা ছিল, সমস্যা আছে। তবে আমরা কোনোভাবেই ৫ আগস্টের আগে ফিরে যেতে চাই না। ৫ আগস্টের ঘটনা রাজনীতি নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। হিংসা ও প্রতিহিংসার পরিণতি কী হয়, আমরা তা দেখেছি। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার মাধ্যমেই দেশের সমস্যার সমাধান সম্ভব।
সভায় অতিথিদের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তারেক রহমান বলেন, ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা বড় উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে। মাহমুদুর রহমানের ওপর নির্যাতনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ওনার রক্তমাখা ছবিটি আজও আমার চোখের সামনে ভাসে।
জেল-জুলুমের শিকার রুহুল আমিন গাজীর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, আমার ৬০ লাখ নেতাকর্মী এবং আমার মায়ের সঙ্গে কী হয়েছেÑসবকিছু এক করলে দেশের বাস্তবতা বোঝা যায়।
মতবিনিময় সভায় তারেক রহমান বলেন, আগামী নির্বাচনে ইনশাল্লাহ জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমাদের একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। গত ২৫ নভেম্বর দেশে ফিরে আমি বলেছিলামÑমার্টিন লুথার কিং বলেছিলেন ‘আই হ্যাভ আ ড্রিম’, আমি বলেছিলাম ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান’।
এ সময় তারেক রহমান আগামী দিনের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, এ পরিকল্পনার একটি বড় অংশ বাংলাদেশের নারীসমাজকে ঘিরে। এর অংশ হিসেবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর প্রস্তাব তুলে ধরেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। একজন নারীÑগৃহিণী বা হাউসওয়াইফ এ ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। এটি আজীবন নয়, পাঁচ থেকে সাত বছরের জন্য দেওয়া হবে। এ সময়ের মধ্যে তাকে রাষ্ট্রীয় সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে তিনি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন। এক পরিবার থেকে একটি কার্ড পাবেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রায় চার কোটি পরিবার রয়েছে। একটি পরিবারে গড়ে পাঁচজন সদস্য ধরে এ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কার্ডটি কৃষকের স্ত্রী থেকে শুরু করে ডিসি-এসপির স্ত্রীও পাবেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, যাদের প্রয়োজন নেই, তারা নেবেন নাÑএটাই আমাদের বিশ্বাস।
পানি সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, আগামী ১০-১৫ বছরের মধ্যে ঢাকা শহরে পানির মারাত্মক সংকট দেখা দিতে পারে। বুড়িগঙ্গা শতভাগ দূষিত, শীতলক্ষ্যা ৫০ শতাংশ দূষিত। মেঘনা থেকে পানি আনার প্রকল্পও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না। বিষয়গুলো নিয়ে বোধ হয় এখন আলোচনা হওয়া উচিত, সেটি সংসদে কিংবা বিভিন্ন সেমিনারে। সাড়ে তিন কোটি মানুষের শহরে যদি পানি না থাকে, তাহলে জীবনই থাকবে না।
তারেক রহমান বলেন, দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী পথ নির্দেশ চায়। শুধু নতুন প্রজন্ম নয়, সব প্রজন্মই এখন নেতৃত্বের কাছ থেকে দিকনির্দেশনা প্রত্যাশা করে। ১৯৭১, ১৯৯০, ২০০৪ এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের অভিজ্ঞতা সামনে রেখে রাজনীতি করলে দেশকে সঠিক পথে নেওয়া সম্ভব। যুক্তরাজ্যে অবস্থানের সময় দেখা একটি নির্বাচনি বিতর্কের উদাহরণ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ওখানে দুই দলের নেতা অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের সময় ২০ মিনিট থেকে ১৯ বা ১৫ মিনিটে নামানোর প্রতিযোগিতা করছিলেন। অথচ আমরা ৫৪-৫৫ বছরেও ঢাকায় কার্যকর অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস গড়ে তুলতে পারিনি। তিনি বলেন, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রতিবছর প্রায় সাত হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে, যাদের বেশিরভাগই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি । কৃষকদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশে প্রায় দেড় কোটি কৃষক আছেন, যারা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করছেন। অথচ তাদের কথা বলার কোনো ভেন্যু নেই। সংবাদমাধ্যমে তাদের অসহায়ত্বের খবর আমরা বারবার দেখি ।
স্বাস্থ্য খাতে ইউরোপীয় দেশগুলোর উদাহরণ টেনে তারেক রহমান বলেন, চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের খরচ কমে এবং মানুষ সুস্থ থাকে। তিনি জানান, এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যার ৮০-৮৫ শতাংশ হবেন নারী। তারা পরিবার পরিকল্পনা, স্বাস্থ্য সচেতনতা ও জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে কাজ করবেন।
ভোকেশনাল শিক্ষা ও বিদেশে কর্মসংস্থান
তারেক রহমান বলেন, প্রতিবছর ৮-১০ লাখ মানুষ বিদেশে যায়, যাদের বেশিরভাগই অদক্ষ। ভাষা ও দক্ষতা প্রশিক্ষণ দিলে এ সংখ্যা ১৫-২০ লাখে উন্নীত করা সম্ভব এবং রেমিট্যান্স আয় তিনগুণ বাড়ানো যাবে।
তিনি জানান, জাপান, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার বিবেচনায় ভোকেশনাল ও টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট আধুনিক করা হবে।
তরুণদের দক্ষতা অর্জনে বিদেশিদের সহযোগিতার আশ্বাস পেয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন গত কয়েক দিন বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে। সেখানে আমি তরুণদের দক্ষ মানবশক্তিতে রূপান্তর করার জন্য তাদের সহযোগিতা চেয়েছি। তারা আমাকে আশ্বাস দিয়েছেনÑআমাদের সঙ্গে কাজ করবেন।
রপ্তানি, আইটি পার্ক ও ফ্রিল্যান্সিং
শতভাগ রপ্তানিমুখী শিল্পে বন্ড সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এতে কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়বে। আইটি পার্কগুলোকে কার্যকর করতে ফ্রি ওয়াইফাই, অফিস স্পেস ও তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তার পরিকল্পনা রয়েছে। অনলাইন কনটেন্ট নির্মাতাদের আয়ের পথে থাকা বাধা দূর করতে পেপালসহ আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে চালুর উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও জবাবদিহি
তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। যেকোনো মূল্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও জবাবদিহি চালু রাখতে হবে। জাতীয় ও স্থানীয়Ñসব পর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা কিংবা বিভিন্ন ট্রেড বডির নির্বাচনের মাধ্যমেও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, আমি কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা বা সদস্যকে আঘাত করতে চাই না। শুধু বলতে চাই, আসুন আমরা দেশের মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীর অধিকার, কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও পরিবেশ নিয়ে একসঙ্গে কাজ করি।
তিনি বলেন, সংস্কারের তিনটি দিক রয়েছেÑসাংবিধানিক, আইনগত এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনসংক্রান্ত নিরাপত্তা ও প্রয়োজন। রাজনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মৌলিক চাহিদা নিয়ে আরো বেশি আলোচনা প্রয়োজন।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আমি একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য। সামনে নির্বাচন। ২২ জানুয়ারি থেকে আমরা আমাদের পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের সামনে যাব।
সমালোচনা চাই, তবে গঠনমূলক সমালোচনা করতে হবে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমরা আপনাদের কাছ থেকে এমন আলোচনা-সমালোচনা চাই, যা আমাদের দেশকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে। শুধু সমালোচনার জন্য সমালোচনা নয়, সমাধানমুখী সমালোচনা চাই।
শেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার গঠন করতে পারলে গণমাধ্যমের গঠনমূলক সমালোচনা দেশের সমস্যা সমাধানে সহায়ক হবে।
মতবিনিময় সভায় তারেক রহমানের বক্তব্যের আগে কথা বলেন দেশের প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন পত্রিকার সম্পাদকরা।
এ সময় বিএনপির নতুন চেয়ারম্যানকে অভিনন্দন জানান যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান। তিনি তারেক রহমানকে পরামর্শ দিয়ে বলেন, আগামী দিনগুলো অনেক চ্যালেঞ্জের। তাই কিছু ক্ষেত্রে কঠোর হতে হবে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের দিকে নজর দিতে হবে। হাসিনাপুত্র জয় ইন্ডিয়ার লোক এনে বসিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংকে । তাদের যোগসাজশে বিলিয়ন ডলার চুরি (রিজার্ভ লুট) হয়েছে। কিন্তু গভর্নর আতিউর রহমান এত পরে প্রকাশ করল কেন? এজন্য স্পেশাল কমিটি গঠন করতে হবে। কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে অর্থ পাচার বন্ধ করতে হবে। আর সাধারণ মানুষের জন্য দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এরপর পুলিশ বাহিনীকে নতুন নৈতিকতা ও মূল্যবোধে শিক্ষিত করতে হবে। যাতে তারা সরকার ও জনগণের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে পারে। সাংবাদিকদের পরিবারের জন্য পেনশনের ব্যবস্থা করতে হবে। তিনি বলেন, সম্প্রতি এক সমীক্ষায় দেখা গেছে ৭০% মানুষ বিএনপিকে ভোট দিতে আগ্রহী। এই আগ্রহকে ভোটে রূপান্তর করতে হবে।
আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে বিগত ১৬–১৭ বছরে গণমাধ্যমের একটি বড় নিপীড়নের শিকার সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়ায়নি।
বক্তব্যে তিনি সাংবাদিক নেতা রুহুল আমিন গাজীর কথা তুলে ধরে বলেন, ক্যান্সারে আক্রান্ত অবস্থায় ভুয়া মামলায় তাকে কারাগারে রেখে চিকিৎসা ছাড়া মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে সে সময় মূলধারার গণমাধ্যম নীরব ছিল। সংগ্রামের প্রবীণ সম্পাদক আবুল আসাদের ওপর নির্যাতনে গণমাধ্যম থেকে কোনো জোরালো প্রতিবাদ আসেনি।
মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, আমরা লিখতে চাই, আমরা বলতে চাই। মিডিয়া ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর অনেকটাই স্বাধীন। অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। নিয়ন্ত্রিত এই কারণে বলছিÑমব ভায়োলেন্সের কারণে আমরা সাহসী হতে পারছি না। আমাদের হাত-পা বাঁধা হয়ে যাচ্ছে। মিডিয়া অফিসে যখন আগুন দেওয়া হয়, সংবাদপত্র অফিসে যখন আগুন দেওয়া হয়, তখন আমার ভাবতে কষ্ট লাগে যে আমরা জাহান্নামে আছি না বেহেশতে আছি।
তারেক রহমানের কাছে প্রত্যাশার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ইতিহাসের এক যুগসন্ধিক্ষণে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিরে এসেছেন। সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, আমরা গণতন্ত্র চাই, স্বাধীন সাংবাদিকতা চাই এবং সুশাসন চাই। বাট একটি দুটি বিষয়ে আমার মনে হয় যথেষ্ট আলোচনা হচ্ছে না। সেটা হচ্ছে বাংলাদেশের অগ্রগতির জন্যে আগামীর চ্যালেঞ্জগুলো কী? এবং আমি মনে করি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ক্লাইমেট চেঞ্জ।
তিনি বলেন, ক্লাইমেট চেঞ্জ নিয়ে আমরা রাজনৈতিক দলরা খুব বেশি আলোচনা করছি না। ‘বাংলাদেশ হচ্ছে ফ্রন্টলাইন দেশের মধ্যে কয়েকটা এবং ক্লাইমেট চেঞ্জের যে কি ইমপ্যাক্ট হবে এটা অলরেডি আমরা কিন্তু উপকূলীয় এলাকাতে দেখতে পাচ্ছি। তিনি বলেন, আমরা পৃথিবীর অন্যতম, মানে সম্পদশীল দেশ পানির ক্ষেত্রে, কিন্তু আমরা সমস্ত নদীকে দূষণ করছি। ইট ইস কোয়াইট ইনক্রেডিবল যে আমরা কিভাবে নদী দূষণের দিকে যাচ্ছি এবং কিছুই করছি না। আরেকটা হচ্ছে আমাদের ভূগর্ভস্থ পানি। এটার ব্যবহার নিয়ে ভাবতে হবে।
কালের কণ্ঠের সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ বলেন, আমরা সাংবাদিকবান্ধব প্রশাসন চাই। কিন্তু আমরা সেটা দীর্ঘকাল পাইনি। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় আমরা মিডিয়া ট্রায়াল দেখেছি। আমরা মোসাহেব সাংবাদিকতার চরম উৎকর্ষ বলব না, অপকর্ষই আমরা দেখেছি। সেই তেলবাজি যে প্রতিযোগিতা সেগুলো ন্যক্কারজনকভাবে আমাদের মান-মর্যাদাকে ভূলুণ্ঠিত করেছে। আমরা মিডিয়া ট্রায়াল দেখেছি, জিয়া পরিবারের প্রতি বিষোদগার দেখেছি। আমরা মাইনাস টু ফর্মুলা দেখেছি, রাষ্ট্র ক্ষমতাকে রাষ্ট্রযন্ত্রকে প্রভাবিত করার জন্য মিডিয়ার অংশের যেটা আমরা প্রতিফলন দেখেছি, সেটা আমাদের জন্য খুব সুখকর এবং গৌরবজনক অধ্যায় নয়। আমরা সেগুলোর পুনরাবৃত্তি চাই না। নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের আমরা একটা সুযোগ পেয়েছি। আমরা যদি সেটার সদ্ব্যবহার করতে পারি তাহলে ইতিহাসে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমরা সম্মানের সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকব। যদি আমরা ব্যর্থ হই তাহলে আমরা খলনায়কে পরিণত হব।
মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দিন, নিউএজের নূরুল কবীর, যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, নয়া দিগন্তের সম্পাদক সালাহ উদ্দিন বাবর, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী।
আরো উপস্থিত ছিলেন—আমার দেশ-এর নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, সংবাদের আলতামাশ কবির, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের শামসুল হক জাহিদ, সমকালের শাহেদ মোহাম্মদ আলী, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড-এর ইনাম আহমেদ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের আবু তাহের, প্রতিদিনের বাংলাদেশ-এর মারুফ কামাল খান সোহেল, দেশ রূপান্তরের কামাল উদ্দিন সবুজ, বণিক বার্তার হানিফ মাহমুদ, ডেইলি সানের রেজাউল করিম, সুরমার (লন্ডন) শামসুল আলম লিটন, কালবেলার সন্তোষ শর্মা, আজকের পত্রিকার কামরুল হাসান, খবরের কাগজের মোস্তফা কামাল, মানবকণ্ঠের শহীদুল ইসলাম, দেশ বার্তার সালেহ বিপ্লব, নিউ নেশনের মোকাররম হোসেন, বাসসের চেয়ারম্যান আনোয়ার আল দীন, প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ, ইউএনবির প্রধান সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ খান, সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, বাংলা নিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু, ঢাকা স্টিমের সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ, ঢাকা মেইলের সম্পাদক হারুন জামিল, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সুবহান, ঢাকা পোস্টের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কামরুল ইসলাম।
বিবিসির সম্পাদক মীর সাব্বির মোস্তফা, বিশেষ প্রতিনিধি কাদির কল্লোল, আল জাজিরার তানভীর চৌধুরী, রয়টার্সের রুমা পাল, এএফপির শেখ সাবিহা আলম প্রমুখও এতে উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক মাহবুব আলম, জেনারেল ম্যানেজার নুরুল আজম পবন, বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক জেডএম জাহেদুর রহমান, বেসরকারি টেলিভিশনের শীর্ষ প্রধানদের মধ্যে রয়েছেন সময় টিভির জুবায়ের আহমেদ, চ্যানেল আইয়ের শাইখ সিরাজ, বাংলা ভিশনের আবদুল হাই সিদ্দিকী, এনটিভির ফখরুল আলম কাঞ্চন, মোস্তফা খন্দকার, ইটিভির আবদুস সালাম, যমুনা টিভির ফাহিম আহমেদ, ডিভিসির লোটন একরাম, একাত্তর টিভির শফিক আহমেদ, এটিএনের হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ, বৈশাখী টিভির জিয়াউল কবীর সুমন, নিউজ টোয়েন্টিফোরের শরীফুল ইসলাম খান, গ্রীন টিভির মাহমুদ হাসান, গাজী টিভির গাউসুল আজম দীপু, এটিএন নিউজের শহীদুল আজম, মাছরাঙার রেজানুল হক রাজা, চ্যানেল টোয়েন্টিফোরের জহিরুল আলম, আরটিভির ইলিয়াস হোসেন, মোহনা টিভির এমএ মালেক, স্টার টিভির ওয়ালিউর রহমান মিরাজ, এখন এর তুষার আবদুল্লাহ, ইন্ডিপেনডেন্টের মোস্তফা আকমল, মাইটিভির ইউসুফ আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুমদার, আবদুল আউয়াল ঠাকুর, এম এ আজিজ, নুরু উদ্দিন নুরু, একেএম মহসিন, শাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, খাজা মাইন উদ্দিন, জাহেদুল ইসলাম রনি, হাফিজুর রহমান, গিয়াস উদ্দিন রিপন, হাফিজুর রহমান সরকারসহ বিভিন্ন পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিকরাও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমীন, মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমার রুমন, শাম্মী আখতার, শায়রুল কবির খান, আবু সায়েম, বিএনপির সাইমুম পারভেজ, শামসুদ্দিন দিদার, চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার এবং চেয়ারম্যানের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম শামসুল ইসলাম ছিলেন অনুষ্ঠানে।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল ও চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

