জাতীয় সেমিনারে বিশিষ্টজনদের দাবি

শাপলা গণহত্যার ঘটনা শিক্ষা সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে

স্টাফ রিপোর্টার

শাপলা গণহত্যার ঘটনা শিক্ষা সিলেবাসে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে

২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ সরকারের গণহত্যার ঘটনা শিক্ষা সিলেবাসে অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। একইসঙ্গে পিলখানায় বিডিআর হত্যাকাণ্ড ও চব্বিশের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গণহত্যার বিষয়টিও পাঠ্যবইয়ে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে মদিনাতুস সুন্নাহ ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ আয়োজিত ‘শিক্ষা সিলেবাসে শাপলা গণহত্যার ঘটনা অন্তর্ভুক্তি’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনারে এসব দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান হাফেজ মাহমুদুল হক হাফিজ্জীর সভাপতিত্বে এবং পরিচালক মুফতি ইলিয়াস হোসাইন আরবীর পরিচালনায় সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপি নেতা রাশেদ প্রধান।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা প্রথম গণহত্যা চালিয়েছে শাপলা চত্তরে। দ্বিতীয় গণহত্যা চালিয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে। তিনি বলেন, শাপলা চত্বরে যে হত্যাকান্ড হয়েছিল তার বিচার হতে হবে, শেখ হাসিনার ফাঁসি হতে হবে। জুলাইয়ে যে হত্যাযজ্ঞ হয়েছিল তার বিচার হতে হবে, শেখ হাসিনার ফাঁসি হতে হবে।

রাশেদ প্রধান বলেন, শাপলা গণহত্যার বিষয়টি পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করার দাবির প্রতি আমি সংহতি জানাই। বাংলাদেশে শেখ হাসিনা রেজিমে যে ধরনের ঘটনা ঘটেছে, সে যেভাবে জুলুম করেছে খুন করেছে, আমি মনে করি এর ওপরে একটা ডকুমেন্টারি হওয়া দরকার "শেখ হাসিনার জুলুমতন্ত্র" নামে। পাঠ্যপুস্তকে যদি তার যে ঘৃণিত অপরাধ সেটি অন্তর্ভুক্ত থাকে তাহলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম তারা কিন্তু শেখ হাসিনার প্রতি ঘৃণা পোষণ করবে। সে যে অপরাধ করেছিল, আলেম ওলামা মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের যেভাবে গুলি করে হত্যা করার নির্দেশনা দিয়েছিল সেগুলো কিন্তু লিপিবদ্ধ থাকবে। ইনশাআল্লাহ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পর্যন্ত আপনাদের এই দাবি আমি পৌঁছে দিব।

সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদুল হক হাফিজ্জী বলেন, শাপলা চত্বরের হত্যাকান্ডের ঘটনাকে শিক্ষা সিলেবাসে অন্তর্ভুক্তি করতেই হবে। আরেকটি বিষয় হলো- জুলাই শহীদ পরিবার যেই সুযোগ সুবিধা পেয়েছে, হেফাজতের শহীদদের পরিবার সেই সুযোগ সুবিধা পাননি। জুলাই হত্যা মামলার বিচার যেভাবে অগ্রগামী হচ্ছে, ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হত্যার বিচার সেই ভাবে অগ্রগামী হয়নি।

সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন, হেফাজতে ইসলাম লন্ডনের মাওলানা গোলাম কিবরিয়া, জাতীয় ইমাম খতিব সংস্থার চেয়ারম্যান চেয়ারমান মুফতি আবু তাহের আল মাদানী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম লন্ডনের মাওলানা শোয়াইব আহমেদ, ইমাম সমাজের চেয়ারম্যান মাওলানা আবুল হোসাইন, মাওলানা রুহুল আমীন সাদী, মুফতি রহমাতুল্লাহ আরাবী, শ্রমিক অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুর রহমান, গণধিকার পরিষদ মনোনীত ঢাকা উত্তরের মেয়র প্রার্থী আব্দুর রহিম, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট পারভেজ আহমেদ, নেজামে ইসলাম পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা শেখ লোকমান হোসাইন, মুফতি তৈয়ব হোসাইন, মাওলানা মির্জা ইয়াসিন আরাফাত, মাওলানা হাবিব আহমেদ প্রমুখ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...