সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত কোরবানির পশুর চামড়ার মূল্য ও মাদরাসাগুলোতে লবণ সরবরাহের সরকারি সিদ্ধান্তকে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। এই সিদ্ধান্তের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটি।
রোববার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে এই নিন্দা জানানো হয়।
সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউসুফ সাদেক হক্কানী বলেন, আসন্ন ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কোরবানির পশুর লবণযুক্ত চামড়ার দাম ঘোষণা করেছে। অথচ ১৫-২০ বছর আগেও প্রতিটি গরুর কাঁচা চামড়া ৩/৪ গুন বেশি মূল্যে বিক্রি হওয়ার নজির রয়েছে। একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বাজার নিয়ন্ত্রণ করার কারণে কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্য মূল্য পাওয়া যায় না। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর কোথাও চামড়া জাত দ্রব্যের দাম কমেনি বরং বেড়েছে। তাহলে কোরবানির পশুর চামড়া মূল্য কোন কারণে দর পতন হয়েছে তা আমাদের বোধগম্য নয়। তিনি বলেন, সাভারে স্থানান্তরকৃত চামড়া শিল্প নগরী আধুনিকায়ন করা না হলে বিদেশে রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাজার সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। বিগত সরকারের সীমাহীন দায়িত্বহীনতা ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে সম্ভাবনাময় চামড়া শিল্প মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজার ধরে রাখতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন বলেন, কোরবানির পশুর চামড়া এতিম, গরিব-মিসকিনদের হক্ব এবং ধনীদের নিকট গরিবের আমানত। অবহেলায় কম মূল্যে চামড়া বিক্রি করা আমানতের খেয়ানত ও গরিবের হক নষ্ট করার শামিল। কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্য মূল্য না থাকায় যেমনি ভাবে রাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনিভাবে এতিম গরিব সহ কওমী মাদরাসাগুলো অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি।
তিনি আরো বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ভিনদেশীদের স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশের পাট শিল্পকে ধ্বংস করার পর চামড়া শিল্পকেও ধ্বংস মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে।
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন, দলের ঢাকা মহানগর আমির মুফতি মাহবুবুর রহমান, মুফতি আবুল হাসান কাসেমী, মুফতি আখতারুজ্জামান আশরাফী, মুফতি কামরুজ্জামান তাসফিন, মুফতি ফখরুল ইসলাম, মুফতি আবুল হাসানাত, মুফতি সাইফুল ইসলাম, মাওলানা জাফর আহমেদ প্রমুখ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

