বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা ও সাবেক উপমন্ত্রী এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, ১৯৭১সালের ভূমিকার জন্য জামায়াতের ক্ষমা চাওয়া উচিত। জামায়াতের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনার স্বাধীনতার পক্ষে না বিপক্ষে তা আগে পরিষ্কার করুন। জামায়াতের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম নয়, যারা গত সাড়ে ১৫ বছর এদেশে হত্যা গুম সন্ত্রাস নৈরাজ্য চালিয়েছে আমাদের সংগ্রাম তাদের বিরুদ্ধে।
শনিবার বিকেলে নাটোর সদরের শংকরভাগ মাঠে বড় হরিশপুর ইউনিয়ন বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
দুলু বলেন, একটি দল ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। সভা সমাবেশে ইচ্ছে মতো উল্টা-পাল্টা কথা বলছে। তারা জানে না ক্ষমতা এত সহজ নয়, আসলে তারা বোকার স্বর্গে বসবাস করছে। ক্ষমতায় যেতে হলে জনগণের সাথে দেশের ভোটারদের সাথে দীর্ঘ সুসর্ম্পকের প্রয়োজন হয়। জনগণের আস্থার দলে পরিণত হতে হয়। স্বাধীনতার পর থেকে কখনও ক্ষমতায় আসতে না পারা সেই দলটির বাংলাদেশে এমন জনপ্রিয়তাও নেই, তাদের প্রতি এদেশের মানুষের তেমন কোন আস্থাও নেই। বিগত কোন সংসদ নির্বাচনে দেশের প্রাপ্ত ভোটের হারে কখনো তারা দুই অংকের ঘরেই যেতে পারেনি।
জামায়াতে ইসলামীর নাম উচ্চারণ না করে সাবেক উপমন্ত্রী দুলু তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ক্ষমতা বহুদূর। ক্ষমতায় যেতে চাইলে আগে এদেশের মানুষের আস্থা বিশ্বাস অর্জন করুন। জনগণের দলে পরিণত হন তারপর ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখেন। এদেশের মানুষ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও আগামীর রাষ্ট্র নায়ক তারেক জিয়ার এবং তাদের হাতে গড়া দল বিএনপির প্রতি আস্থাশীল। আগামী নির্বাচনে এদেশের মানুষ বিএনপিকে নিরংকুশভাবে বিজয়ী করবে।
বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের সকল শোষণ বঞ্চনা ও নির্যাতনের উপযুক্ত বিচার করবে। তাদের সকল হত্যা অন্যায় অবিচারের জন্য সকল দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের মুখোমুখি করবে।
দুলু আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সময় শতভাগ ভোটার উপস্থিতি দেখানো হয়েছিল। তাদের সময়ে মরা মানুষও ভোট দিয়েছে। সাড়ে ১৫ বছর যারা এই দেশকে শোষণ করেছে। দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। কিন্তু জামায়াতের আমির তাদের বিরুদ্ধে না বলে তিনি নাটোরে এসে বলেছেন, আওয়ামী লীগ যা করেছে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তাই করবে। তার এসব কথা সত্য নয়। দুলু বলেন,বিএনপির সময়ে সাধারণ ব্যবসায়ী, শ্রমিকসহ কাউকে কোনো চাঁদা দিতে হবে না।
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. ইব্রাহীম হোসেনের সভাপতিত্বে সাবেক চেয়ারম্যান মাহতাব হোসেনের সঞ্চালনায় জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, দুলুর সহধর্মিণী ছাবিনা ইয়াসমিন ছবি, জেলা বিএনপির সদ্য বিলুপ্ত কমিটির আহবায়ক শহিদুল ইসলাম বাচ্চু, সদস্য সচিব রহিম নেওয়াজ, যুগ্ম আহবায়ক কাজী শাহ আলম, ফরহাদ আলী দেওয়ান শাহীন, সদর থানা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম, জেলা যুবদল সভাপতি এ হাই তালুকদার ডালিম, স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি আসাদুজ্জামান আসাদ, ছাত্রদল সভাপতি কামরুল ইসলাম ও নবীন দলের সাধারণ সম্পাদক আবু ইউসুফ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

