আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান

মানুষের স্বার্থ ঠিক রেখে আমাদের পররাষ্ট্রনীতি ঠিক করব

স্টাফ রিপোর্টার

মানুষের স্বার্থ ঠিক রেখে আমাদের পররাষ্ট্রনীতি ঠিক করব

বাংলাদেশের স্বার্থ এবং জনগণের স্বার্থই আমাদের কাছে প্রথম’ বলে মন্তব্য করলেন তারেক রহমান। শনিবার বিকালে হোটেলে ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারম্যান এক বিদেশি সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এই মন্তব্য করেন।

তার সরকারের পররাষ্ট্র নীতি সম্পর্কে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ, বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ আমাদের কাছে প্রথম। বাংলাদেশ এবং দেশের মানুষের স্বার্থ ঠিক রেখে আমরা আমাদের ফরেন পলিসি ডিসাইড করব।

বিজ্ঞাপন

স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপি অনুসরণ করে দি প্রিন্সিপাল অব মাল্টিলেটারিজম। উই ডোন্ট হেম এ্যানি কান্ট্রি সেন্ট্রিক পলিসি এজ সাচ। সো আওয়ার পলিসি এ্যাপলাইজড ‍টু এনাদার কাউন্ট্রি অব দ্যা ওয়ালরড… দিস ইজ ফর মিচুয়াল রেসপেক্ট, মিচ্যুয়াল ইন্টারেস্ট, নান অফ ইন্টাফেয়ারেন্স এন্ড স্ট্র্যাটেজিক অটোনোমি ফর বাংলাদেশ… এটা হচ্ছে আমাদের পররাষ্ট্রনীতি।

আইসিটি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা বিচার বিভাগের বিষয়। অফ কোর্স উই লাক টু জুডিশিয়ারি সেপাটরেট ফর্ম এক্সিকিউটিভ ফ্যাংশন এ্যান্ড ল্যাজিলেটিভ ফ্যাংশন।

গত সরকার চলে যাওয়ার পর থেকে আপনি বলে আসছেন যে এই নির্বাচনটা খুব সহজ হবে না। এখন নির্বাচনটা হয়ে গেলো… এটা আপনার কাছে সহজ ছিলো কিনা আপনার কাছে। আর আপনাকে দু‘শর বেশি আসন পাওয়ার জন্য আপনাকে কোনো ইঞ্জিনিয়ারিং করতে হলো কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, দেশের জনগণকে কনভিন্স করাটাই হচ্ছে আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং। আমাদের যে ইঞ্জিনিয়ারিংটা ছিলো জনগণকে আমাদের পক্ষে নিয়ে আসা সেটাতে আলহামদুলিল্লাহ আমরা সফল হয়েছি। আর জনগণকে কনভিন্স করে একটি সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশের এ্যানসিউর করাটাই ছিলো আপনার প্রথম প্রশ্নের উত্তর। অর্থাৎ যেটা আমি বলেছিলাম কঠিন হবে কিনা… যেকোনো ভালো কাজের গোল এচিভ করতে গেলে তো কষ্ট করতে হবে, কঠিন হবেই।

‘ভারত-পাকিস্তান-চীনের সাথে আপনাদের সম্পর্ক কী হবে? এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বললেন, ‘‘ আই অলরেডি অ্যানসার দিস। তারপরও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী সাহেবকে বলতে বলছি।

স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু বলেন, আমাদের পররাষ্ট্র নীতি ইতিমধ্যে আমি বলেছি। দেশের স্বার্থ ঠিক রেখে আমাদের পলিসি হবে।

সরকারের অগ্রাধিকার চ্যালেঞ্জগুলো কী? তারেক রহমান বলেন, ‘‘ আমাদের কাছে কিছু চ্যালেঞ্জ আছে সেগুলো হচ্ছে, অর্থনীতিকে সচল করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা,অবশ্যই আমাদের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আপনি জানেন যে, গত রেজিম তারা দেশে সকল প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ করেছে।সেজন্য আমরা সুশাসন প্রতিষ্ঠা করব। এগুলো আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছি এবং এগুলোকে উই নিড টু টেকেল।”

যুবকদের জন্য আপনার পরিকল্পনা কী এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, আমরা জনগণের রায় পেয়েছি। অবশ্যই যুবকরা আছেন তবে সমাজের আরও শ্রেনী-পেশার মানুষ আছেন। আমরা সকলের বিষয়ে এড্রেস করব। আমরা ইতিমধ্যে আমাদের দলের ম্যানিফেষ্টো প্রকাশ করেছি সেখানে সকল বিষয়ে আমরা এড্রেস করেছি, যুবকদের জন্য কী করব, আমরা নারীদের জন্য কী করব, আমরা ডিজাইবেল পিপলসের জন্য কী করব সব কিছু সেখানে(ইশতেহারে) আছে।

দক্ষিন এশীয় সহযোগিতা ফোরাম(সার্ক) এবং শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিএনপি কি করবে এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, ইয়েস আপনি জানেন, সার্ক গঠন হয়েছিলো বাংলাদেশের উদ্যোগে। স্বাভাবিকভাবে আমরা সার্ক সক্রিয় করতে চাই। এই বিষয়ে আমরা আলাপ করব। আপনারা দ্বিতীয় প্রশ্ন এটা ডিপেন্ড অন দা লিগ্যাল প্রসেস অফ কোর্স।”

চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক কি হবে এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, ডেফিনেটলি উই উইল ট্রাই টু প্রেটেক্ট ইন্টারেস্ট অব পিপল অব বাংলাদেশ, আমাদের দেশের স্বার্থ ঠিক রেখে আমরা সকল দেশের সাথে সম্পর্ক গড়ব। আই অ্যাম সিউর মিচ্যুায়াল ইন্টারেস্ট ইজ দি ফাস্ট প্রাইয়োরিটি।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওয়েল আমাদের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডে চাইনিজ বন্ধুরা আছেন। আমরা আশা করি, দুই দেশ সামনের দিনগুলো আরও নিবিড়ভাবে একসঙ্গে কাজ করবে।”

‘দেশের অর্থনীতি সচল কীভাবে রাখবে এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন,‘টু ব্রিং মোর বিজনেসেস এ্যান্ড ক্রিয়েট মোর জবস।

আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি রোধ কী ভাবে’ তারেক রহমান বলেন, ‘‘ দেখুন আপনি বোধহয় আইনশৃঙ্খলার কথা বলতে চেয়েছেন। আমরা বলেছি যে, আইন সবার জন্য সমান। আইন যদি সবার জন্য সমান হয়ে থাকে আমরা ইনশাল্লাহ সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আসার পরে আমরা চেষ্টা করব, আইন যাতে আইনের মতো করে চলে। সেটাই আমাদের পজিশন।

আওয়ামী লীগের বিষয়ে আপনাদের অবস্থান কী হবে এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, বাই অ্যানসিউরিং রুল অব ল।

বিগত সরকারের সময়ে লুটপাট ও পাচারকৃত অর্থ ফেরাতে আপনার পরিকল্পনা কী এমন প্রশ্নে তারেক রহমান বলেন, আপনি যদি আমাদের ইশতেহার দেখেন সেখানে আপনার এই প্রশ্নের জবাবগুলো আপনি সুন্দরভাবে পাবেন। আমি ইশতেহারে বলেছি যে, গণতান্ত্রিক অর্থনীতি। অর্থাৎ আমরা এমন একটা অর্থনীতি সূচনা করতে চাই যেখানে সবাই সবার যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে সবাই ব্যাবসা-বাণিজ্য করতে পারবেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা মঞ্চে তারেক রহমানের পাশে ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে তারেক রহমান তা্র দলকে সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ী করার জন্য দেশবাসীদের অভিনন্দন জানিয়ে বক্তব্য দেন। এরপর প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন