ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে শেরপুর-১ (সদর) আসনের ফল স্থগিত করার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা। একই সঙ্গে এই আসনে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রিয়াঙ্কা এই দাবি জানান। শেরপুর-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হাফেজ মো. রাশেদুল ইসলাম বিজয়ী হন।
সংবাদ সম্মেলনে সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা অভিযোগ তুলে বলেন, এই আসনে ভোটের রেজাল্টশিটে পোলিং এজেন্টদের নাম, স্বাক্ষর ও জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর অনেক ক্ষেত্রে উল্লেখ ছিল না; কোন দলের পোলিং এজেন্ট উপস্থিত ছিল, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি; কোনো কোনো কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসারের স্বীকৃত সীল অনুপস্থিত ছিল, কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রিসাইডিং অফিসার নিজেই পোলিং এজেন্টদের নাম ও স্বাক্ষর দিয়েছেন; পোলিং এজেন্টের নামের স্থানে ওভাররাইটিং করে অন্য নাম সংযোজন করা হয়েছে।
প্রিয়াঙ্কা বলেন, প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং এজেন্টের নাম, এনআইডি ও স্বাক্ষরবিহীন নির্বাচন ভোট গণনা বিবরণীপত্র কীভাবে শেরপুর জেলা রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার গ্রহণ করলেন সাংবাদিকদের কাছে আমার সেই প্রশ্ন রইল।
নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ তুলে বিএনপির এই পরাজিত প্রার্থীর দাবি— ভোটের পরদিন থেকে কয়েকজন পোলিং এজেন্ট অনিয়মসংক্রান্ত তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপন শুরু করলে তাদের ওপর হামলা ও গুরুতর আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, এতে করে আমার নিবার্চনের অনিয়মের তথ্য প্রকাশ করতে পোলিং এজন্টরা ভয় পেয়ে মুখ খুলছেন না।
এ সময় নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রিয়াঙ্কা বলেন, আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং বিশেষ করে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি যে, উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হোক এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। সেই সঙ্গে এই আসনে ভোটের ফলাফল বাতিল করে পুনরায় নির্বাচন দেওয়া হোক।
জেলা রিটার্নিং অফিসার তরফদার মাহমুদুর রহমান জামায়াত প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলামের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রিসাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসাদের নামের তালিকা প্রস্তুত করেছেন অভিযোগ তুলে প্রিয়াঙ্কা বলেন, ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষ থেকে উত্থাপিত অভিযোগগুলো বারবার জানানোর পরও জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার যথাযথ প্রতিকারের ব্যবস্থা নেননি। তিনি বলেন, এসিল্যান্ড (সহকারী কমিশনার, ভূমি) অনৈতিক সুবিধা নিয়ে জামায়াত ও স্বতন্ত্র (বিএনপির বিদ্রোহী) প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীর (বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা) নির্বাচনি প্রচারণায় বিএনপির পরিচয়ে মাইকিং করার অভিযোগ ডিসি অফিসে উত্থাপিত হলেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করার বিষয়টি ভোটের মাঠে সমতার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।
ভোট গ্রহণে ধীরগতির অভিযোগ তুলে প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘আমার যে অঞ্চলগুলোতে ভোট ব্যাংক বেশি, সেখানে কিছু কিছু কেন্দ্রে ভোটারদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখে ধীরগতিতে ভোট কাস্ট করা হয়। শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত হওয়ার কারণে সেই আসনের জামায়াত সমর্থিত কর্মী বাহিনী শেরপুর-১ আসনে নির্বাচনের দিন হট্টগোল করার চেষ্টা করে, একপর্যায়ে তারা নির্বাচন বানচালের জন্য ধানের শীষের কর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে সাধারণ ভোটাররা ভয় পেয়ে ভোটকেন্দ্র ত্যাগ করেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

