ইসলামী আন্দোলনের পুনর্গঠিত কমিটিতে স্থান পেলেন যারা

স্টাফ রিপোর্টার

ইসলামী আন্দোলনের পুনর্গঠিত কমিটিতে স্থান পেলেন যারা

চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলকে নতুন করে সংগঠিত করতে কেন্দ্রীয় কমিটি পুনর্গঠন করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এতে দীর্ঘ ১৮ বছর দায়িত্ব পালন করে মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদকে সরিয়ে গাজী আতাউর রহমানকে স্থান দেয়া হয়েছে। এর সঙ্গে চারজন যুগ্মমহাসচিব ও চারজন সহকারী মহাসচিব ও ৪৮ সদস্যের নাম ঘোষণা করা হয়। আর ইউনুস আহমদকে দলের সর্বোচ্চ পরিষদ প্রেসিডিয়ামে সদস্য করা হয়েছে।

শনিবার রাজধানীর পল্টনে ফারস হোটেল এন্ড রিসোর্টসে অনুষ্ঠিত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার বিশেষ বৈঠকে এই কমিটি গঠন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

জাতীয় নির্বাচন পরবর্তী কার্যক্রম পর্যালোচনা শেষে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ আগামী রাজনীতির জন্য দলকে আরো সুসংহত করতে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই বিশেষ শুরার অধিবেশন ডাকা হয়৷ শুরার অধিবেশনে ২০২৫-২৬ সাংগঠনিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। রাজনৈতিক কৌশল ও পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তর আলোচনা করা হয়।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের সভাপতিত্বে ও মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদের উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে শুরু হওয়া বৈঠকে বিগত সেশনের সামগ্রিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন যুগ্মমহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, সাংগঠনিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক, রাজনৈতিক প্রতিবেদন পেশ করেন সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব ও দলীয় মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান।

প্রতিবেদন উপস্থাপনের পরে শুরার সঙ্গে পরামর্শ করে নতুন কমিটি ঘোষনা করেন ইসলামী আন্দোলন চরমোনাই পীর।

নতুন যুগ্মমহাসচিবরা হলেন- ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ, শাহ ইফতেখার তারিক, মাওলানা নেছার উদ্দিন, সহকারী মহাসচিব হিসেবে মাওলানা সৈয়দ এসহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের, মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইয়ুম, কেএম আতিকুর রহমান ও শেখ ফজলুল করীম মারুফের নাম ঘোষণা করা হয়।

এ সময় অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ ২০০৮ সাল থেকে মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দলের প্রতি তার অবদানকে স্বীকৃতি দিয়ে শুরা অধিবেশনে বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানানো হয়।

শুরার বৈঠকে ৫৪ জন সদস্যের নাম ঘোষণা হয়। পরবর্তীতে তাদের দফতর বন্টন করা হয়। সদস্য হিসেবে যাদের নাম ঘোষণা করা হয় তারা হলেন-

পুর্ণাঙ্গ কমিটি

১) মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম, পীর সাহেব চরমোনাই, আমীর

২) মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম, নায়েবে আমীর

৩) মাওলানা আব্দুল আউয়াল, নায়েবে আমীর

৪) মাওলানা আব্দুল হক আজাদ, নায়েবে আমীর

৫) মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, মহাসচিব

৬) প্রকৌশলী মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, যুগ্ম-মহাসচিব

৭) হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ যুগ্ম-মহাসচিব

৮) শাহ ইফতেখার তারিক, যুগ্ম-মহাসচিব

৯) মাওলানা মুহাম্মদ নেছার উদ্দিন, যুগ্ম-মহাসচিব

১০) মুফতি সৈয়দ এসহাক মুহা: আবুল খায়ের, সহকারী মহাসচিব

১১) মাওলানা আহমাদ আবদুল কাইয়ুম, সহকারী মহাসচিব

১২) কে এম আতিকুর রহমান, সহকারী মহাসচিব

১৩) হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলুল করীম মারুফ, সহকারী মহাসচিব

১৪) মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন ওয়ালী উল্লাহ (এমপি), সদস্য

১৫) মাওলানা লোকমান হোসেন জাফরী, সদস্য

১৬) আলহাজ্ব হারুন অর রশীদ, সদস্য

১৭) হাফেজ মাওলানা নুরুল করীম আকরাম, সদস্য

১৮) শেখ আবু তাহের, সদস্য

১৯) মুফতী কেফায়েতুল্লাহ কাশফী, সদস্য

২০) অ্যাডভোকেট শওকত আলী হাওলাদার, সদস্য

২১) মাওলানা মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন, সদস্য

২২) আলহাজ্ব আব্দুর রহমান, সদস্য

২৩) প্রকৌশলী আতিকুর রহমান মুজাহিদ, সদস্য

২৪) মুফতী হেমায়েতুল্লাহ কাসেমী, সদস্য

২৫) প্রফেসর ড. বেলাল নূর আজীজি, সদস্য

২৬) মাওলানা মুহাম্মদ খলিলুর রহমান, সদস্য

২৭) বীর মুুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব আবুল কাশেম, সদস্য

২৮) মুফতী দেলাওয়ার হোসাইন সাকী , সদস্য

২৯) শেখ মুহাম্মদ নুরুন নাবী, সদস্য

৩০) হা: মাও: মাহমুদুল হাসান (এল.এল.বি.), সদস্য

৩১) মাওলানা মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, সদস্য

৩২) উপাধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজুল ইসলাম, সদস্য

৩৩) কে এম শরীয়তুল্লাহ, সদস্য

৩৪) এ্যাডভোকেট মুহাম্মদ বরকতুল্লাহ লতিফ, সদস্য

৩৫) অধ্যাপক নাছির উদ্দিন খাঁন, সদস্য

৩৬) মুফতি মানসুর আহমাদ সাকী, সদস্য

৩৭) আলহাজ্ব মুহাম্মদ আমিনুল ইসলাম, সদস্য

৩৮) মুফতি রেজাউল করীম আববার, সদস্য

৩৯) মুফতি শামসুদ্দোহা আশরাফী, সদস্য

৪০) আলহাজ্ব মুহাম্মদ আল ইকবাল, সদস্য

৪১) আলহাজ্ব মুহাম্মদ সেলিম মাহমুদ, সদস্য

৪২) প্রভাষক মাওলানা আলমগীর হোসাইন তালুকদার, সদস্য

৪৩) কে এম বেলাল হোসাইন, সদস্য

৪৪) মাওলানা শেখ মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম, সদস্য

৪৫) মুহাম্মদ আব্দুজ জলিল, সদস্য

৪৬) মুহাম্মদ আল-আমীন (ঠাকুরগাঁও), সদস্য

৪৭) ইঞ্জিনিয়ার শেখ মারুফ, সদস্য

৪৮) এম এম কামাল হোসাইন (ভোলা), সদস্য

সভাপতির বক্তব্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গতানুগতিক কোন রাজনৈতিক সংগঠন না বরং শরীয়াহ পূর্ণ অনুসরণ ও বাস্তবায়নই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। শরীয়াহ ও ইসলামকে প্রধান্য দিয়েই আমরা রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ করি তাতে বাহ্যিক চড়াই-উৎরাই আমরা মেনে নেই। সময় থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা সামনে এগিয়ে যেতে চাই। সেজন্য দলকে আরো সুসংহত করতে হবে। আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষতা অর্জন করতে হবে। কারণ জাতির প্রত্যাশা পূরণে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর ধারাবাহিক ব্যর্থতা আমাদের দায়িত্ব আরো বাড়িয়ে তুলছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...