বিএনপি সরকারকে উদ্দেশ্য করে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বন্ধুরা, বাংলাদেশ কিন্তু বারবার বিপ্লবের সাক্ষী। আমরা পরিষ্কার বলে দিচ্ছি- হয় আপনারা বিচার নিশ্চিত করুন, না হয় আপনারা যাওয়ার রাস্তা খুঁজে বের করুন।
তিনি বলেন, আপনারা যে পথে হাঁটছেন, সংসদে আমরা প্রত্যেকটি বিষয়েই প্রতিবাদ করছি। দুই তৃতীয়াংশ কীভাবে পেয়েছেন, আপনারাই ভাল জানেন। এ ব্যাপারে কিছু রাজ সাক্ষীও আপনাদের দলের ভিতর থেকে পাওয়া গেছে, বিগত সরকারের মধ্য থেকেও পাওয়া গেছে। আমরা আপনাকে বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করবো-আপনারা মজলুল ছিলেন, জালেম হবেন না। মেহেরবানি করে বিচারগুলো নিশ্চিত করুন।
তিনি মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর বিজয়নগরে ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সময়ে সংঘটিত সব গুন, খুন ও গণহত্যার বিচার দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। এতে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন।
জামায়াত আমির বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মাত্র দুই বছর আগে দীর্ঘ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদ থেকে আমাদেরকে মুক্তি দেয়া হয়। সেই সময় আমাদের মত মজলুম থাকা দল এখন ক্ষমতায়। তারা তখন প্রত্যেকটি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছিল। নির্বাচনের সময় তারা বলেছিলেন-তারা নির্বাচিত হলে ফ্যাসিবাদের হাতে যত গুম, খুন ও নির্যাতন হয়েছে, সবগুলোর বিচার তারা করবে। কিন্তু ক্ষমতায় বসার পর তাদের সুর পাল্টে গেছে। বিচারতে করছেই না বরং গত চার মাসে ৬শত মানুষ নির্মমভাবে খুন হয়েছে। আরো দু:খজনক হলো-এই দলটি নিজেদের হাতে নিজেদের কর্মীদেরই খুন করেছে।
তিনি বলেন, যাদের নিজেদের কর্মীদের সম্পর্কে নিজেদেরই কোন দায় এবং দরদ থাকে না, ২০ কোটি মানুষের জন্য তাদের কি দায় এবং দরদ থাকবে? আমরা কোন লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি না। লজ্জার বিষয়- ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হওয়ার কথা বলে ঠিক ফ্যাসিবাদের রাজপথ ধরেই তারা এখন হাটা শুরু করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, বিভিন্ন ব্যাংকে অযাচিত হস্তক্ষেপ, বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজগুলা দলীয় অনুগত লোকদেরকে দিয়ে দখল করা, জেলায় জেলায় প্রশাসক বসিয়ে দেয়া, এমনকি খেলার মাঠটা পর্যন্ত তারা দলমুক্ত রাখতে পারলেন না। এইভাবে তারা আবার কার্যত একদলীয় ফ্যাসিবদাী শাসনের দিকেই আগাচ্ছেন ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শুধু ফ্যাসিবাদের হাতে কেন? এই রাস্তায়ই বিপ্লবের প্রতীক শরিফ ওসমান হাদীকে হত্যা করা হয়েছে। তার বিচারও ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা চলছে। এখন পর্যন্ত চার্জশীটটি দেয়া হয়নাই। কাকে খুশি করার জন্য, কোন স্বার্থকে আড়াল করার জন্য এটা করা হচ্ছে, জনগণ জানতে চায়।
তিনি বলেন, গত ২১ তারিখে গাইবান্ধায় ছাত্র শিবিরের একজন তরুণ নেতাকে স্পষ্ট দিবালোকে গলা কেটে সেই ফ্যাসিবাদী কায়দায় হত্যা করা হয়েছে। হত্যা করে মানুষকে দুনিয়া থেকে বিদায় দেওয়া যাবে কোন আদর্শকে খুন করা যাবে না। এদেশের মানুষের অন্তরে কলিজায় হৃদয়ে মগজে সব জায়গায় বসে আছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শ। এই আদর্শকে নির্মূল করার চিন্তা করবেন না। যদিও আপনাদের একজন সিনিয়র নেতা ঘোষণা করে দিয়েছেন নির্মূল করবেন।
তিনি বলেন, অতীতে যারা নির্মূল করার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তারা নিজেরাই আজকে নির্মূল হয়ে গেছে। নির্মূল নির্মূল বেশি করবেন না। এটা এক ধরনের ভাইরাস। এই ফ্যাসিবাদের ভাইরাস চাঁদাবাজির ভাইরাস, দুর্নীতির ভাইরাস, দলীয় শাসনের ভাইরাস- এই সকল ভাইরাস মুক্ত করার জন্য আরেকটি বিপ্লব অনিবার্য হয়ে উঠেছে। সেই বিপ্লবের জন্য আপনারা কি প্রস্তুত? মানুষের জীবন-ইজ্জত এবং সম্পদ, দেশের সীমানার জন্য আরেকবার কি জীবন দেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন?
জামায়াত আমির বলেন, বন্ধুরা এই বয়সে আমি এবং আমরা পিছিয়ে থাকবো না। সম্মুখ সারিতে থাকব, আড়ালে আবডালে নয়। তবুও বাংলাদেশের দিকে কাউকে লাল চোখ দিয়ে তাকাতে দেব না ইনশাল্লাহ। কোন কালো হাত বাড়ালে সেই হাত গুড়িয়ে দেওয়া হবে। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত এই দেশকে পাহারা দিবে ইনশাআল্লাহ। কারো বাবার সাধ্য নাই, এ দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব নিয়ে টানাটানি করার। মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে আপনাদেরকে সেই বিপ্লবের দাওয়াত আজকে দিয়ে রাখলাম।
তিনি বলেন, সংসদে যতদিন পর্যন্ত কথা বলার পরিবেশ থাকবে, জাতির স্বার্থে যতদিন পর্যন্ত থাকার দরকার হবে তার বাইরে আমরা এক সেকেন্ডও থাকবো না। যেদিন সংসদের প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবে, যেদিন মনে হবে এই সংসদে আর কথা বলে লাভ নাই, সেদিন সেই সংসদে খোদাহাফেজ বলে আমরা বেরিয়ে আসব। প্রস্তুত থাকুন সেই বিপ্লবের জন্যে। অন্যায়ের সঙ্গে কোন আপস নয়। নতুন পুরাতন কোন ফ্যাসিবাদ মানি না। পুরাতনও পরিত্যজ্য নতুনও ঘৃণিত। কোন ফ্যাসিবাদ মানবো না ইনশাল্লাহ। জীবন যাবে, জীবন একটাই। সেই জীবন যাবে আল্লাহর জন্যে সেই জীবন যাবে মানুষের জন্য।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

