আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

সাংবাদিকদের সম্মানে ইফতারে জামায়াত আমির

আমরা ফ্যাসিবাদ থেকে পুরোপুরি মুক্তি পেতে চাই

স্টাফ রিপোর্টার

আমরা ফ্যাসিবাদ থেকে পুরোপুরি মুক্তি পেতে চাই

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিগত ১৫ বছরে ফ্যাসিবাদ জাতিকে তছনছ করে দিয়েছে, এটি কখনো জাতিকে ভালো কিছু দিতে পারে না। তাই আমরা ফ্যাসিবাদ থেকে পুরোপুরি মুক্তি চাই। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি বলেন, যার আমলেই হোক, আর যখনই হোক- ফ্যাসিবাদ কখনো জাতিকে ভালো কিছু দিতে পারে না, দিতে পারবে না।

বিজ্ঞাপন

শনিবার রাজধানীর ইস্কাটনে লেডিস ক্লাবে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে সাংবাদিকদের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জামায়াত আমির বলেন, রাষ্ট্রের চারটি স্তম্ভের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ গণমাধ্যম। এই স্তম্ভটি বাকী তিনটি স্তম্ভকে সোজা রাখতে ভ্যানগার্ড হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য আমরা ফ্যাসিবাদের কবলে পড়ে আমাদের সংবাদমাধ্যমের কাছে জাতির যে প্রত্যাশা, তা আমরা হারিয়ে ফেলেছিলাম। এখন আমাদের সামনে আবার সুযোগ এসেছে, দেশ ও জাতির কল্যাণে সংবাদমাধ্যমের সঠিক ভূমিকা পালনের। আমি আশা করবো গণমাধ্যম কর্মীরা তাদের অবস্থানে থেকে দেশ ও জাতির কল্যাণে যথাযথ ভূমিকা পালন করবেন।

ফ্যাসিবাদ আমলে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদ ও সাংবাদিক নেতা গাজী রুহুল আমিনসহ সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়নের কথা উল্লেখ করে বিরোধী দলের নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদ আমলে মাহমুদুর রহমানের কী ধরনের অত্যাচার-নির্যাতন করা হয়েছিল- তা জাতির সামনে পরিষ্কার, তাকে প্রকাশ্য দিবালোকে আদালত প্রাঙ্গণে হত্যার উদ্দেশে রক্তাক্ত করা হয়েছিল; ফরহাদ মাজহারকে অপহরণ করা হয়েছিল। এগুলো উদ্দেশ্য ছিল গণমাধ্যমকে স্তব্ধ করে দেওয়া। যাতে সাদাকে সাদা কালোকে কালো না বলতে পারে। তারা এ ক্ষেত্রে সফলও হয়েছিল। সেটার রেশ এখনো চলছে বলে মাঝেমধ্যে মনে হয়।

তিনি সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপনাদের কণ্ঠই জাতির বিবেক; আপনার চোখ খোলা রাখবেন। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। এক্ষেত্রে বিরোধী দল আপনাদের পাহারাদার হিসেবে ভূমিকা রাখবে।

জামায়াত আমির বলেন, সংবাদমাধ্যম সরকারের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। এটি স্বাধীনভাবে পরিচালিত হতে পারলে বাকী তিনটি স্তম্ভ সোজাভাবে চলবে। আর যদি এই স্তম্ভ ব্যর্থ হলে বাকী তিনটি স্তম্ভ অটোমেটিক্যালি ব্যর্থ হয়ে যায়। আমরা আর ব্যর্থতা দেখতে চাই না। আমরা একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি দেখতে চাই।

তিনি বলেন, জাতীয় ইস্যু কিংবা জাতীয় স্বার্থের ক্ষেত্রে আমরা কারো সাথে কোনো আপোস করবো না। সরকারি যদি জাতীয় স্বার্থে সঠিক ভূমিকা পালন করে তাহলে আমরা পাশে থেকে তাদের পুরোপুরি সহযোগিতা করবো। কিন্তু যদি আমরা দেখি সরকারি দল এখান থেকে বিচ্যুত হয়ে যাচ্ছে; তাহলে তাদেরকে সোজা করে সঠিক রাস্তায় ফেরানো চেষ্টা করবো, প্রয়োজনে প্রতিরোধ গড়ে তুলবো।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আমরা চাই না আর কোনো ফ্যাসিবাদ ফিরে আসুক, এদেশের মানুষ আর কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করবে না।

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

আরো বক্তব্য রাখেন আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, নয়া দিগন্ত সম্পাদক সালাহউদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও দেশ রূপান্তরের প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ প্রমুখ।

জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপির পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, সহকারী সেক্রেটারি যথাক্রমে ড. আব্দুল মান্নান ও মুহাম্মদ শামছুর রহমান, সংগ্রাম সম্পাদক আজম মীর শাহিদুল আহসান, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি এম আব্দুল্লাহ্, ডিইউজের সাবেক সভাপতি এলাহী নেওয়াজ খান সাজু, ডিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরদার ফরিদ আহমেদ ও বাকের হোসাইন, ডিইউজে সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, নিউ নেশন সম্পাদক মোকাররম হোসেন, বাংলা নিউজ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু, ঢাকা মেইল-এর নির্বাহী সম্পাদক হারুন জামিল, ঢাকা সাব-এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি মুক্তাদির অনিক এবং সেক্রেটারি জাওহার ইকবাল, এটিএন নিউজের সিএনই মাসুদুল হক, নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী, ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ, ইনকিলাবের নির্বাহী সম্পাদক ফাহিমা বাহাউদ্দীন, সোনার বাংলার বার্তা সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ ভূঁইয়াসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, গণমাধ্যমকর্মী, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, কলামিস্ট ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...