বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, একটি নির্বাচিত সরকারের অধীনে বগুড়া এবং শেরপুর দুটি আসনে আজ যে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে সেখানে কিছু গুরুতর অনিয়ম ভোট কারচুপি, জালভোট, এজেন্টদের বের করে দেয়া, সকালেই সিটে স্বাক্ষর নিয়ে নেয়ার মতোই অনেক আপত্তিকর ঘটনা ঘটছে, যা খুবই দুঃখজনক।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রের পক্ষ থেকে এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সেসব বিষয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।
বগুড়া ও শেরপুরে দুটি আসনে উপনির্বাচনে অনিয়ম ও কারচুপির বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, শেরপুর শ্রীবরদীতে আমাদের প্রার্থী ইন্তিকাল করেছেন। তার আগে শ্রীবরদী উপজেলার সেক্রেটারি রেজাউল করিমকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিলো। নানান ঘটনা সেখানে ঘটেছিলো। সেখানে আমাদের প্রার্থী সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান মাসুদ। আর বগুড়াতে যিনি আমাদের প্রার্থী বগুড়া শহরের আমীর, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জনাব আবিদুর রহমান সোহেল ।
তিনি বলেন, আমরা বিগত ৪, ৫ ও ৬ তারিখ ৩ দিন কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আমি নিজেই সফর করেছি। সফওে আমরা যে তথ্য পেয়েছি সে বিষয় উদ্বেগ প্রকাশ করেছি। আমরা শুনেছি ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং কেন্দ্রে ঢুকতে দিবে না, আমাদের প্রার্থীর নেতা-কর্মীদেরকে হুমকি দিয়েছিলো। আমরা যে কয়দিন সফর করেছি তখন এ ধরনের আলামত দেখতে পেলাম।
বগুড়ায় নির্বাচনে অনিয়মের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, আমি সংক্ষেপে কয়েকটি তথ্য দিচ্ছি- একটা হচ্ছে সকালেই বিভিন্ন কেন্দ্রে এজেন্টদেরকে আগেই প্রিজাইডিং অফিসার জোর করে রেজাল্ট সিটে স্বাক্ষর করে নিয়েছেন। যেটা নির্বাচনের আচরণবিধির খেলাপ। যার নিয়ম হলো ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর ফলাফল তৈরি হবে তখন রেজাল্ট সিটে সব প্রার্থীরা স্বাক্ষর করবে। মালতিনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র নম্বর-১। এই কেন্দ্রে যারা আমাদের এজেন্ট ছিলেন তাদের সকালেই রেজাল্ট সিটে স্বাক্ষর নিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং প্রিজাইডিং অফিসারের স্বাক্ষরের জায়গাটা ফাঁকা রয়েছে। এরপরে জালভোট দিয়ে সিল মারা হচ্ছে এবং এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে।
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, দুপুর ১২টা পর্যন্ত শেরপুর নির্বাচনী এলাকায় ১৩টা ভোট কেন্দ্রে জোর করে এজেন্টদেরকে বের করে দেয়া হয়েছে এবং জালভোট দেয়া হয়েছে। ইসলামিয়া কামিল মাদরাসায় একটি ভোট কেন্দ্রে জাল ভোট ঠেকাতে গেলে শ্রীবদরী পৌর বিএনপির সেক্রেটারি আব্দুল্লাহ মো. দুলাল এবং পৌর আহ্বায়ক অপুর নেতৃত্বে সেই কেন্দ্রে ঢুকে আমাদের এজেন্টদের বের করে দেয়া হয়েছে। এটার প্রতিবাদ করায় ঐ উপজেলার জামায়াতে ইসলামীর যুব কমিটির আমীর হামজাকে মারপিট করা হয়েছে
তিনি বলেন, পুলিশ, সেনাবাহিনী ও রিটার্নিং অফিসারকে আমাদের নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা নেতৃবৃন্দ বার বার অনুরোধ করার পরও কোনো প্রতিকার হয়নি। এখানে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষ থেকে নিযুক্ত বিভিন্ন পেটুয়া বাহিনীর হামলা করছে। মহিলাদেরকে ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দিচ্ছে, অপমানিত ও লাঞ্ছিত করছে। মনে হচ্ছে প্রশাসন অসহায়। কোনো এক জায়গা থেকে নির্দেশিত হয়ে মনে হচ্ছে।
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কেবলই এক মাস দেড়মাস হলো অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের কথা বলে আন্দোলন করা সংগ্রাম করা জীবন দেয়া ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক আন্দোলনের দলগুলোর একটি বড় দল ক্ষমতায়। তাদের হাতে প্রথম দুটি উপনির্বাচনে এই যদি চিত্র হয়, তাহলে সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আর যেসব নির্বাচন হবে সেগুলোতে আমরা কি করে ভোটারদের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন আশা করতে পারি?
নির্বাচন কমিশনারের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রেসব্রিফিংয়ের মাধ্যমে অনিয়মগুলো প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দৃষ্টিতে আনছি, যাতে যেসব কেন্দ্রে অনিয়মের কথা আমরা বলছি, যেসব কেন্দ্র থেকে জালভোট দিয়ে এজেন্টদের বের করে দিয়েছে, আগে স্বাক্ষর নেয়া হচ্ছে, সেসব প্রিজাইডিং অফিসারদের প্রতি যেন আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে ব্যাপক অনিয়ম যেখানে হয়েছে সেখানে ভোটগ্রহণ স্থগিত করেন এবং পুনরায় ভোটের ব্যবস্থা করেন। নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা না নিলে জনগণ এরকম একতরফা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিবে না। এটা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি।
জামাাতের সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন, দুটি নির্বাচনী আসনে প্রায় ৩০০ কেন্দ্র হবে। এর মধ্যে যেসব কেন্দ্রে জাল ভোট ও এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। ঘটনা ঘটবার জন্য এখনও অনেক সময় বাকি আছে। আমরা ১২টা পর্যন্ত যে তথ্য সংগ্রহ করেছি। সবাই গণমাধ্যমের সাথে যুক্ত সোস্যাল মিডিয়াতে নজর রাখলে দেখতে পাবেন এই দুটি আসনে কি হচ্ছে। সে জন্য আমি আপনাদের মাধ্যমে গুরুতর অনিয়ম হওয়া কেন্দ্রগুলোতে ভোটগ্রহণ স্থগিত করার দাবি জানাচ্ছি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, অনিয়মের সাথে জড়িত প্রিজাইডিং অফিসারদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য রিটার্নিং অফিসারের মাধ্যমে প্রধান নির্বাচন কমিশনে হস্তক্ষেপ কামনা করছি। আর দলীয় সন্ত্রাসীরা ভোটকেন্দ্রে দলবদ্ধভাবে ঢুকছে কিভাবে, সোস্যাল মিডিয়াতে আসছে ভোটার নয় একটি ছেলে সে ভোটকেন্দ্রে ঢুকে ভোট দিচ্ছে। সাংবাদিকরা তাকে জিজ্ঞাসা করছে তোমার বয়স কত তোমার আইডি কার্ড কোথায় কেন আসলে ছেলেটি কোন জবাব দিতে পারছে না। গণমাধ্যমে এগুলো আসার পরে কিভাবে সেখানে ভোট চলতে পারে প্রশ্ন রাখেন তিনি।
তিনি ভোটর ও এজেন্টদের নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, সন্ত্রাসী পেটুয়া বাহিনীরা যাচ্ছে এজেন্টদেরকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, ভোট কেন্দ্র থেকে বের করে দেয়া হচ্ছে। ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যেতে সাহস পাচ্ছে না। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। বগুড়া ও শেরপুরে এ দুটি নির্বাচনী এলাকায় যারা রিটার্নিং ও প্রিজাইডিং অফিসারেরা আছে তাদের দৃষ্টিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য নিদের্শনা দেয়া হয়। আমি আপনাদের মাধ্যমে সেই আবেদন জানাচ্ছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি এটিএম মা’ছুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও প্রচার এবং মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দিন মোল্লা এবং প্রচার ও মিডিয়া সেক্রেটারি আতাউর রহমান সরকার।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

