আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

রমজান-১৯

ইবাদতে কাটুক রমজানের শেষ দশক

মুহাম্মদ ছফিউল্লাহ হাশেমী

ইবাদতে কাটুক রমজানের শেষ দশক

দেখতে দেখতে পবিত্র মাহে রমজানের প্রথম দুই দশক বিদায় নিল। আজ শুরু হয়েছে শেষ দশক। মাহে রমজানের প্রতিটি মুহূর্ত ফজিলতপূর্ণ এতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে শেষ দশকের গুরুত্ব ও মাহাত্ম্য অন্য দিনগুলোর তুলনায় অনেক বেশি। ইবাদতের বসন্তকাল মাহে রমজানের শ্রেষ্ঠাংশ হচ্ছে তার শেষ দশক। যারা রমজানের প্রথম দুই দশক কাজে লাগিয়েছেন, তারা বেশ কল্যাণ লাভে ধন্য হয়েছেন। আর যারা কাজে লাগাতে পারেননি, তাদের জন্য রয়েছে শেষ দশকে পুষিয়ে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ।

মাহে রমজানের শেষ দশকের কোনো এক রাতে রয়েছে লাইলাতুল কদর, যা হাজার রাতের চেয়েও উত্তম। আর সে রাতেই নাজিল হয়েছে পবিত্র কোরআন মাজিদ। এজন্য এ শেষ দশকের আমল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ইবাদতে নিমগ্নতার মাধ্যমে এ রাত অন্বেষণ করা চাই। এ সময়ে রাসুল (সা.) ভালোভাবে ইবাদতে মশগুল থাকতেন। স্ত্রীদের সঙ্গ ত্যাগ করে মসজিদে ইতিকাফ করতেন। তার অনুসরণে এ সময়ে আমাদেরও মসজিদে ইতিকাফে সার্বক্ষণিক ইবাদতে কাটানো উচিত। কর্মব্যস্ততার কারণে আমাদের অনেকের পক্ষে ইতিকাফে থাকা সম্ভব না-ও হতে পারে। এ সময়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ জামাতের সঙ্গে আদায় করার পাশাপাশি সালাতুত তারাবি ও সালাতুত তাহাজ্জুদ যথাসাধ্য আদায়ের চেষ্টা করব। কোরআন মাজিদ তেলাওয়াত, জিকির-আসকারে ব্যস্ত থাকব।

বিজ্ঞাপন

রমজানের শেষ দশকে রাসুলে করিম (সা.) রাত জেগে ইবাদত করতেন এবং পরিবারের সবাইকেও জাগিয়ে দিতেন। এ প্রসঙ্গে উম্মুল মুমিনিন আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন, ‘রমজান মাসের শেষ দশক শুরু হলেই রাসুলুল্লাহ (সা.) তার কোমর শক্ত করে বাঁধতেন, এ সময়ের রাতগুলোতে জাগ্রত থাকতেন এবং তার গৃহবাসীদের সজাগ করতেন।’ (বুখারি ও মুসলিম)। এ হাদিস হতে জানা যায়, রমজান মাসের শেষ দশক এলেই আল্লাহর রাসুল (সা.) চূড়ান্ত মাত্রার ইবাদতের জন্য প্রস্তুতি নিতেন। তিনি একাই ইবাদত-বন্দেগি করতেন এমনটি নয়, বরং নিজের ঘরের অন্য সদস্যদেরও রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদত করার জন্য প্রস্তুত করতেন।

জামে তিরমিজিতে উদ্ধৃত হাদিসে এ ব্যাপারে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজান মাসের শেষ দশকে তার ঘরের লোকদের ইবাদত-বন্দেগি ও নামাজ আদায়ের জন্য জাগিয়ে দিতেন। আয়েশার (রা.) অপর একটি বর্ণনায় আরো বলিষ্ঠ ভাষায় উল্লেখ হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশকে তার ঘরের লোকদের মধ্যে রাত জাগরণ করে ইবাদত-বন্দেগি করতে পারে এমন কাউকেই ঘুমাতে দিতেন না। বরং প্রত্যেককেই জাগ্রত থেকে ইবাদত করার জন্য প্রস্তুত করতেন। (উমদাতুল কারি, শরহে বুখারি)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেও তার ঘরের লোকদের রমজানের শেষ দশকের সবকটি রাতই আল্লাহপাকের ইবাদতে মশগুল হতেন ও মশগুল রাখতেন। এ রাতটির বরকত ও ফজিলত যেন কোনোভাবেই হারিয়ে না যায় এবং এ থেকে যেন বঞ্চিত থাকতে না হয়, সে লক্ষ্যেই তার এ ব্যবস্থা ও প্রস্তুতি ছিল। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পদাঙ্ক অনুসরণ করা প্রতিটি মুসলমানের জন্যই বাঞ্ছনীয়। এ ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করার কোনোই সুযোগ নেই। তাইতো রাসুল (সা.)-এর অনুসরণে সাহাবায়ে কেরাম ও বুজুর্গানে দ্বীন এ দশকে ইবাদতের ব্যাপারে সর্বোচ্চ যত্নবান থাকতেন। দুঃখজনক হলেও সত্য, শেষ দশকে আমাদের অনেকেরই একটা বড় সময় কাটে শপিংমলে, ঈদের কেনাকাটায়। অথচ চাইলে এ কাজগুলো আগেই সেরে রাখা যেত।

রমজানের শেষ দশদিনে সালাতুত তাহাজ্জুদ, কোরআন মাজিদ তেলাওয়াত ও জিকির-আসকারসহ অন্যান্য আমলের মাধ্যমে কাটানো চাই। এছাড়া রমজানের শেষ দশদিন ধনীদের জন্য দান-সদকা, অসহায়-দরিদ্রের সহায়তাসহ বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতামূলক কাজে অংশ নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ এনে দেয়। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের সবাইকে ইবাদতের মাধ্যমে রমজানের বাকি সময়টুকু কাটানোর তওফিক দান করুন। আমিন!

লেখক : সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, মাইলস্টোন কলেজ, উত্তরা, ঢাকা

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন