ক্রীড়া আর বিনোদনের এক অপূর্ব মহাকাব্যিক মেলবন্ধনে মেতে উঠল লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফি স্টেডিয়াম। যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের মধ্যকার মাঠের লড়াই শুরুর আগে এক জাঁকজমকপূর্ণ ও বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল বিশ্বকাপ ফুটবল। পুরো আয়োজন জুড়ে যেন ভর করেছিল এক টুকরো হলিউড।
৭০ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতাসম্পন্ন সোফি স্টেডিয়ামের বিশাল পর্দায় যখন লস অ্যাঞ্জেলেসের বিখ্যাত ‘হলিউড’ সাইনটি ভেসে ওঠে, তখনই স্টেডিয়াম জুড়ে করতালির রোল পড়ে। এরপর ‘ওয়েলকাম টু দ্য ইউএসএ’ ঘোষণার মাধ্যমে শুরু হয় মূল আয়োজন। লস অ্যাঞ্জেলেসের নিজস্ব স্ট্রিট আর্ট এবং সৃজনশীল সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দিয়ে সাজানো হয়েছিল উদ্বোধনী মঞ্চ ও নৃত্যশিল্পীদের বিশেষ পোশাক।
বিশ্বখ্যাত তারকাদের উপস্থিতিতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি রূপ নেয় চাঁদের হাটে। মঞ্চ মাতাতে হাজির হয়েছিলেন বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ফিউচার, টাইলা, আনিত্তা ও কোরিয়ান পপ (কে-পপ) সেনসেশন লিসা। ম্যাচ শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে দর্শকদের বাড়তি উন্মাদনা জোগান হলিউড অভিনেতা জেসন সুদেইকিস ও পপ তারকা কেটি পেরি।
গ্যালারিতেও ছিল তারকার ছড়াছড়ি। খেলা ও বিনোদন জগতের দিকপাল টম ক্রুজ, ডেভিড বেকহ্যাম, হ্যালি বেরি, রব লো, ওউইন উইলসন এবং প্যারিস হিলটনের মতো ব্যক্তিত্বরা মাঠে বসে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি উপভোগ করেন।
মাঠের ঠিক মাঝখানে স্থাপন করা হয়েছিল একটি বিশাল প্রতিকৃতি বিশ্বকাপ ট্রফি, যা ঘিরে নৃত্যশিল্পীদের নান্দনিক পরিবেশনা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। এছাড়া স্টেডিয়ামের ছাদ থেকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল সোনালি রঙের বিশাল ‘ফিফা’ লোগো।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে আয়োজন সূত্রে জানা গেছে, তিনি মোবাইলে যুক্তরাষ্ট্র দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং পুরো টুর্নামেন্টের জন্য তাদের আন্তরিক শুভকামনা জানিয়েছেন।
তিন দেশের যৌথ আয়োজনের এই বিশ্বকাপে এবার তৈরি হলো এক নতুন ইতিহাস। সাধারণত বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান যেকোনো একটি দেশেই সীমাবদ্ধ থাকে। তবে মেক্সিকো ও কানাডার পর এবার যুক্তরাষ্ট্রেও জমকালো অনুষ্ঠান আয়োজিত হলো। এর ফলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথমবার তিনটি সহ-আয়োজক দেশেই পৃথক ও জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজনের অনন্য রেকর্ড হলো।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

