সুপার এইটে উঠে যেন আরো অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ৭৬ রানের দাপুটে জয় পায় প্রোটিয়ারা। দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেও তুলে নিয়েছে দাপুটে জয়। উইন্ডিজকে ৯ উইকেটে হারিয়ে গ্রুপ-১ থেকে সবার আগে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আগে ব্যাট করতে নেমে আট উইকেটে ১৭৬ রানে থামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস। জবাবে ৯ উইকেট হাতে রেখে লক্ষ্য ছুঁয়ে জয় নিশ্চিত করে প্রোটিয়ারা।
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করতে নেমে ৬০ রান তুলতে পাঁচ উইকেট হারিয়ে বসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। আগের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয় পাওয়া উইন্ডিজরা অল্প রানে থেমে যাবে এমন শঙ্কাই জেগেছিল তখন। তবে তখনই প্রতিরোধের দেয়াল তোলেন জেসন হোল্ডার। এক প্রান্ত আগলে রেখে ৩১ বলে খেলেন ৪৯ রানের ঝড়ো ইনিংস।
হোল্ডারের ওই ঝড়ো ইনিংসের মাঝেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন ম্যাথু ফোর্ড। ৯ বলে ১১ রান আসে তার ব্যাট থেকে। তার বিদায়ের পর অষ্টম উইকেট জুটিতে রোমারিও শেফার্ডকে নিয়ে যোগ করেন ৮৯ রান। ৫৭ বলে ৮৯ রানের এই জুটিতে হোল্ডার ২১ বলে করেন ৩৯ রান।
এই জুটিতে দুই প্রান্ত থেকেই প্রোটিয়া বোলারদের ওপর ঝড় তোলেন শেফার্ড ও হোল্ডার। ৪৯ রানের ইনিংসে চার চার ও তিন ছক্কা হাঁকান হোল্ডার। অন্যদিকে শেফার্ডও কম যাননি। ৩৭ বলে ৫১ রান করা এই ব্যাটার হাঁকান ৩ চার ও ৪ ছক্কা। তাতে আট উইকেটে ১৭৬ রানে থামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের টপ অর্ডার ব্যাটাররা ছিলেন শুধুই যাওয়া-আসার মিছিলে। দুই ওপেনার ব্রেন্ডন কিং ২১ ও শাই হোপের ১৬ রান ছাড়া প্রতিষ্ঠিত আর কোনো ব্যাটারই নিজেদের রান দুই অঙ্কের ঘরে নিতে পারেননি। তাতেই ম্যাচের শুরুতে পিছিয়ে পড়ে উইন্ডিজ। প্রোটিয়াদের হয়ে লুঙ্গি এনগিদি ৩০ রানে নেন তিন উইকেট।
১৭৯ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরু থেকেই আগ্রাসী ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। দুই ওপেনার এইডেন মার্করাম ও কুইন্টন ডি কক মিলে উদ্বোধনী জুটিতে যোগ করেন ৯৮ রান। ডি কক যখন ৪৭ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন, তখন ইনিংসের অষ্টম ওভার চলে মাত্র। এমন আগ্রাসী শুরুতে স্পষ্ট হয় এই ম্যাচে কোনো পাত্তা পাওয়ার সুযোগ নেই উইন্ডিজের।
শেষ পর্যন্ত হয়েছেও তা-ই। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে রায়ান রিকেলটনকে সঙ্গে নিয়ে ৫০ বলে ৮২ রান যোগ করেন এইডেন মার্করাম। অধিনায়ক ৪৬ বলে ৮২ রান করে অপরাজিত ছিলেন। ক্যারিয়ারে ১৪তম ফিফটি তুলে নেওয়া এই ব্যাটার হাঁকান ৭ চার ও ৪ ছক্কা। এছাড়া ২৮ বলে ৪৫ রান করা রিকেলটনের ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও দুই ছক্কা। শুরুতে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের সূচনা করা ডি ককের ২৪ বলের ইনিংসে ছিল সমান চারটি করে চার ও ছয়।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে বল হাতে একমাত্র সাফল্যটি পান রোস্টন চেজ। এই স্পিনার ৪৬ রান খরচায় শিকার করেন এক উইকেট। ঝড়ো ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হন এইডেন মার্করাম।
টানা দুই জয়ে পূর্ণ চার পয়েন্ট নিয়ে সবার আগে গ্রুপ-১ থেকে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। শুধু পূর্ণ পয়েন্ট নয়, টানা দুই দাপুটে জয়ে রানরেটের ব্যবধানে অনেকটাই এগিয়ে আছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ১৭৬/৮, ২০ ওভার (শেফার্ড ৫২*, হোল্ডার ৪৯, এনগিদি ৩/৩০)
দক্ষিণ আফ্রিকা : ১৭৭/১, ১৬.১ ওভার (মার্করাম ৮২*, ডি কক ৪৭, চেজ ১/৪৬)
ফলাফল : দক্ষিণ আফ্রিকা ৯ উইকেটে জয়ী
ম্যাচসেরা : এইডেন মার্করাম।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

