এমবাপ্পের ‘নো হ্যান্ডশেক’, ক্ষোভে বল ছুড়ে মারলেন অরল্যান্ডো

স্পোর্টস ডেস্ক

এমবাপ্পের ‘নো হ্যান্ডশেক’, ক্ষোভে বল ছুড়ে মারলেন অরল্যান্ডো

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ফ্রান্সের কাছে ১-০ গোলে হারের হতাশা প্যারাগুয়ে মাঠেই রেখে যেতে পারেনি। ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার পর কিলিয়ান এমবাপ্পে ও প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলকে ঘিরে ঘটে যায় এক উত্তপ্ত ঘটনা, যা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়েরা যখন একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছিলেন, তখন গিল এগিয়ে গিয়ে এমবাপ্পের সঙ্গে করমর্দনের চেষ্টা করেন। কিন্তু ফরাসি অধিনায়ক তখন সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপনে ব্যস্ত থাকায় কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবেই সেই হাত মেলানোর আহ্বানে সাড়া দেননি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে গিল এমবাপ্পের পেছনের দিকে বল ছুড়ে মারেন। ঘটনাটি দেখে দুই দলের কয়েকজন খেলোয়াড় এগিয়ে এলে মুহূর্তের জন্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরে মিশ্র অঞ্চলে নিজের আচরণের ব্যাখ্যা দেন প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক। গিল বলেন, ‘আমি তাকে অভিনন্দন জানাতে হাত বাড়িয়েছিলাম। কিন্তু সে আমাকে কোনো গুরুত্ব দেয়নি। তখন মাথা গরম হয়ে গিয়েছিল। তাই বলটা ছুড়ে মেরেছি। এরপর অবশ্য নিজেকে শান্ত করেছি।’

ম্যাচজুড়ে এমবাপ্পে ছিলেন প্যারাগুয়ের খেলোয়াড়দের কঠোর মার্কিং ও শারীরিক চ্যালেঞ্জের লক্ষ্যবস্তু। একাধিক রুক্ষ ট্যাকল, ধাক্কাধাক্কি এবং উত্তপ্ত মুহূর্তের মধ্যেও শেষ পর্যন্ত ৭০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে একমাত্র গোলটি করেন তিনি। সেই গোলেই কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে ফ্রান্স।

ঘটনার পর এমবাপ্পে এ নিয়ে আলাদা করে মন্তব্য না করলেও ম্যাচ-পরবর্তী সাক্ষাৎকারে বলেন, ফ্রান্স শুধু সুন্দর ফুটবলই নয়, প্রয়োজন হলে কঠিন ও শারীরিক ফুটবল খেলতেও জানে। তার ভাষায়, ‘আমরা দেখিয়ে দিয়েছি, দরকার হলে কঠিন লড়াইটাও করতে পারি।’

বিশ্বকাপের অন্যতম আলোচিত এই ঘটনাটি নিয়ে ফুটবলবিশ্বে চলছে তুমুল আলোচনা। কেউ এমবাপ্পের করমর্দন না করার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন, আবার কেউ মনে করছেন ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের শুভেচ্ছা গ্রহণ করাই ছিল ক্রীড়াসুলভ আচরণ। তবে গিলের বল ছুড়ে মারার ঘটনাকে অধিকাংশ বিশ্লেষকই অনাকাঙ্ক্ষিত বলেই আখ্যা দিয়েছেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন