‘হতাশা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন’, বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর এমবাপ্পে

স্পোর্টস ডেস্ক

‘হতাশা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন’, বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর এমবাপ্পে

স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়ার পর নিজের হতাশা লুকাতে পারেননি ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ম্যাচ শেষে তিনি স্বীকার করেছেন, ফাইনালে ওঠা ছিল তাদের স্বপ্ন, কিন্তু সেই স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার বাস্তবতা এখন মেনে নিতেই হবে।

ফরাসি টেলিভিশন চ্যানেল এম৬-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমবাপ্পে বলেন, ‘সবার মতো আমিও ভীষণ হতাশ। আমাদের স্বপ্ন ছিল ফাইনালে ওঠা, পুরো দেশকে নতুন করে স্বপ্ন দেখানো এবং ইতিহাস গড়া। কিন্তু এখন মাথা উঁচু রেখেই এই বাস্তবতা মেনে নিতে হবে।’

বিশ্বকাপে টানা দুটি আসরে ফাইনাল খেলা এমবাপ্পের জন্য এটি ছিল এক নতুন অভিজ্ঞতা। ২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন এবং ২০২২ সালে রানার্সআপ হওয়া এই ফরোয়ার্ড এবার প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হলেন।

হতাশার গভীরতা বোঝাতে এমবাপ্পে বলেন, ‘আমার ভেতরে কতটা হতাশা কাজ করছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এখন আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে, কিছুদিন বিশ্রাম নিতে হবে, তারপর আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। ফুটবল কারও জন্য অপেক্ষা করে না। সামনে ক্লাব এবং জাতীয় দলে নতুন চ্যালেঞ্জ আসবে।’

এই বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের অন্যতম দাবিদার ছিলেন এমবাপ্পে। সেমিফাইনালের আগে তার গোলসংখ্যা ছিল ৮, আর বিশ্বকাপে মোট গোল দাঁড়িয়েছিল ২০টি। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচেই তাকে কার্যত নিষ্ক্রিয় করে দেয় স্পেনের রক্ষণ।

লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল এমবাপ্পেকে আলাদা করে একজন খেলোয়াড় দিয়ে পাহারা দেয়নি। বরং তারা মাঝমাঠের জায়গা সংকুচিত করে, দ্রুত প্রেসিং করে এবং ট্রানজিশনের পথ বন্ধ করে দেয়। ফলে এমবাপ্পে বারবার বল পেয়েছেন গোল থেকে অনেক দূরে, যেখানে তিনি সবচেয়ে কম কার্যকর।

পরিসংখ্যানও সেই চিত্রই তুলে ধরেছে। পুরো ৯০ মিনিটে এমবাপ্পে মাত্র ৩৪ বার বল স্পর্শ করেছেন। প্রতিপক্ষের বক্সে বল পেয়েছেন মাত্র সাতবার। ছয়টি ড্রিবলের মধ্যে সফল হয়েছেন মাত্র একটিতে। ১১টি দ্বৈরথের মধ্যে জিতেছেন মাত্র দুটি। তিনবার অফসাইডে ধরা পড়েছেন, তিনটি শট নিলেও একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। এমনকি পুরো ম্যাচে কোনো গোলের সুযোগও তৈরি করতে পারেননি তিনি।

বিশ্বকাপজুড়ে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা এমবাপ্পের জন্য এটি ছিল সবচেয়ে নিষ্প্রভ পারফরম্যান্সগুলোর একটি। আর সেই ব্যর্থতার সঙ্গে ফ্রান্সকেও বিদায় নিতে হয়েছে শিরোপার লড়াই থেকে।

এখন ফ্রান্সের সামনে রয়েছে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ। অন্যদিকে স্পেন ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে অপেক্ষা করছে ইংল্যান্ড বা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে শিরোপার লড়াইয়ের জন্য।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন