ধূমকেতুর মতো আলো ছড়িয়ে আগমন হলেও নেইমার জুনিয়রের ক্যারিয়ার এখন পড়ন্ত বেলায়। ইনজুরির সঙ্গে লড়ে ক্লান্ত নেইমার তবুও হাল না ছেড়ে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। লক্ষ্য ২০২৬ বিশ্বকাপ। সামনের প্রত্যেকটি দিন, প্রত্যেকটি ম্যাচ এখন নেইমারের জন্য একেকটি ফাইনাল ম্যাচ। সে হিসেবে বলা চলে, জাতীয় দলে ফেরার অভিযানে বড়সড় একটি হোঁচট খেলেন সেলেসাওদের জার্সিতে সর্বোচ্চ গোলদাতা। পাউলিস্তা চ্যাম্পিয়নশিপের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিয়েছে সান্তোস। অ্যাওয়ে ম্যাচে সিরি বি’র দল গ্রেমিও নোভোরিজোন্তিনোর কাছে ২-১ গোলে হেরে গেছে সান্তোস।
প্রতি ম্যাচই ফাইনালের মতো হয়ে যাওয়ায় নেইমারের জন্য এই ম্যাচেও পারফরম্যান্স করতে হতো। কিন্তু নেইমার ছিলেন একেবারে ধূসর। নিজের ছায়া হয়ে থাকা ব্রাজিলিয়ান তারকার জন্য উল্টো দলের প্রথম গোলটি হজম করে সান্তোস। বিরতির ঠিক আগে নেইমার রক্ষণভাগে বল হারালে রোমুলো গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। দ্বিতীয়ার্ধের ২০তম মিনিটে গ্যাব্রিয়েল বন্তেম্পো সমতা ফেরান। তবে যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে লিও নালদি স্বাগতিকদের জয় নিশ্চিত করেন।
দলের হারের জন্য ভুল স্বীকার করে নেইমার অবশ্য সঙ্গে সঙ্গেই সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন। টিভি সম্প্রচারে দেখা যায়, তিনি সতীর্থদের কাছে ক্ষমা চেয়ে তাদের লড়াই চালিয়ে যেতে উৎসাহ দিচ্ছেন। তবে হতাশাজনক হারের পর ৩৪ বছর বয়সি নেইমার সমালোচনার মুখে পড়েন। একইসঙ্গে এই অফ ফর্ম ব্রাজিলিয়ান তারকার জন্য হতে পারে দুর্দশার কারণ।
আগামী মার্চে জাতীয় দলে ফেরার লক্ষ্য ঠিক করলেও সেই স্বপ্নে কিছুটা হলেও ধাক্কা খেলেন নেইমার। ব্রাজিলের কোচ কার্লো আনচেলত্তি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নামের ভারে দলে জায়গা মিলবে না। চোটমুক্ত হয়ে পারফর্ম করেই দলে ফিরতে হবে নেইমারকে। পাউলিস্তার পারফরম্যান্স সে সম্ভাবনা আরো ধূসর করে তুলল। নেইমার আলো ছড়িয়ে বিশ্বকাপ দলে থাকতে পারেন কি নাÑসেটাই এখন দেখার।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

