চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের মুখোমুখি লড়াই মানেই সাধারণত আগুনঝরা উত্তেজনা, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা আর নাটকীয় মুহূর্তে ভরা এক ম্যাচ। কিন্তু এবারের ভারত–পাকিস্তান দ্বৈরথে ছিল ভিন্ন চিত্র—স্ট্যান্ডে রোমাঞ্চ থাকলেও মাঠে দেখা গেল একপাক্ষিক আধিপত্য। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণে রেখে ৬১ রানের জয়ে টানা তৃতীয় ম্যাচ জিতে ‘এ’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে সুপার এইটে উঠে গেছে ভারত জাতীয় ক্রিকেট দল।
১৭৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম বল থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান জাতীয় ক্রিকেট দল। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন যশপ্রীত বুমরা—দুটি উইকেট নিয়ে পাকিস্তানকে ঠেলে দেন ১৩/৩ অবস্থায়।
এরপর বাবর আজম কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও ৩৪ রান করে ফিরে গেলে চাপ আরও বাড়ে। মাঝখানে একমাত্র লড়াইয়ের ইঙ্গিত দেন উসমান খান। তার ৪৪ রানের ইনিংস পাকিস্তানকে সাময়িকভাবে ম্যাচে রাখলেও ৭৩ রানে পঞ্চম উইকেট হারানোর পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি দলটি। শেষ পর্যন্ত ১১৪ রানেই গুটিয়ে যায় তাদের ইনিংস।
ভারতের বোলিং আক্রমণ ছিল সমন্বিত ও কার্যকর। সাত বোলারের মধ্যে ছয়জনই উইকেট পেয়েছেন। হার্দিক পান্ডিয়া ও বুমরা দুইটি করে উইকেট নেন পেস আক্রমণে, স্পিনে একই সাফল্য পান অক্ষর প্যাটেল এবং বরুণ চক্রবর্তী।
এর আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি ভারতের। প্রথম ওভারেই ফিরে যান অভিষেক শর্মা। তবে দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন ইশান কিশান ও তিলক বর্মা।
পাওয়ার প্লেতে ৫২ রান তুলে আগ্রাসী শুরু করে ভারত। এরপর আবরারের এক ওভারে টানা তিনটি চার মেরে ম্যাচে ঝড় তোলেন ইশান। মাত্র ২৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করে বড় ইনিংসের ইঙ্গিত দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৩ ছক্কা ও ১০ চারে ৪০ বলে ৭৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন ইশান—যা ভারতের সংগ্রহের ভিত্তি গড়ে দেয়।
দ্বিতীয় উইকেটে তিলকের সঙ্গে তার ৮৭ রানের জুটি ভারতকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যায়। যদিও তিলক ২৫ রানে ফিরে যান এবং হার্দিক পান্ডিয়া রান না করেই আউট হন। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ইনিংস সামলে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ২৯ বলে ৩২ রান করে তিনি ফিরলেও শেষদিকে রিংকু সিং ও শিবম দুবে রান যোগ করে দলকে ১৭৬ রানের প্রতিযোগিতামূলক সংগ্রহ এনে দেন।
প্রচণ্ড প্রত্যাশার ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে একতরফা। পাকিস্তানের ব্যাটিং ধস ও ভারতের শৃঙ্খলাবদ্ধ বোলিং ম্যাচটিকে উত্তেজনাহীন করে দেয়। তবে ফলাফল ভারতের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ—টানা তিন জয়ে তারা শুধু সুপার এইট নিশ্চিতই করেনি, শিরোপা লড়াইয়ে নিজেদের অন্যতম দাবিদার হিসেবেও প্রতিষ্ঠা করেছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

