তুরস্ক-প্যারাগুয়ে ম্যাচটা যারা দেখেছেন, তাদের সময়ের মূল্য উসুল হয়েছে বেশ ভালোভাবেই। ঠিকঠাক বসার আগেই গোল, এক খেলোয়াড় কম নিয়ে পুরো দ্বিতীয়ার্ধ, আর গোলরক্ষকের দুর্দান্ত নৈপুণ্য; সব মিলিয়ে রুদ্ধশ্বাস এক ম্যাচ দেখল দর্শকরা। তাতে তুরস্ককে ১-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় করে দিয়েছে প্যারাগুয়ে।
সান ফ্রান্সিসকোতে ম্যাচের মাত্র ৬৪ সেকেন্ডেই গোলের দেখা পায় প্যারাগুয়ে। বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে জাল কাঁপান মাতিয়াস গালারজা। সেটিই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের একমাত্র গোল হয়ে থাকে এবং চলতি বিশ্বকাপের দ্রুততম গোলের রেকর্ডও গড়ে।
গোলের পর পুরো ম্যাচেই আধিপত্য ছিল তুরস্কের। তবে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে অদ্ভুত এক ঘটনায় লাল কার্ড দেখেন প্যারাগুয়ের মিগুয়েল আলমিরন। ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা বলায় সরাসরি মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। ফলে বিরতির আগেই ১০ জনের দলে পরিণত হয় প্যারাগুয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধে একজন কম নিয়ে খেলেও অসাধারণ রক্ষণাত্মক দৃঢ়তা দেখায় দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। বিশেষ করে গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল ছিলেন দুর্ভেদ্য। তুরস্কের লক্ষ্যে রাখা পাঁচটি শটই রুখে দিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
পরিসংখ্যানেও তুরস্কের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল স্পষ্ট। ম্যাচে ৭৮ শতাংশ বল দখলে রেখেছিল তারা। প্যারাগুয়ের ৭ শটের বিপরীতে তুরস্ক নেয় ৩২টি শট। সফল পাস ছিল ৫৫৯টি, যেখানে প্যারাগুয়ের মাত্র ৯৫টি। প্রত্যাশিত গোলের (এক্সপেক্টেড গোল) হিসাবেও তুরস্ক ছিল অনেক এগিয়ে—২.১২, বিপরীতে প্যারাগুয়ের ০.৩২।
তবু ফুটবল শেষ পর্যন্ত পরিসংখ্যানের খেলা নয়। ম্যাচের শুরুতে গালারজার করা গোলটিই গড়ে দেয় পার্থক্য। অসংখ্য সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা না পাওয়ায় হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় তুরস্ককে।
২০০২ বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলা তুরস্ক ২৪ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে দুই ম্যাচেই হেরে বিদায় নিল। প্রথম ম্যাচে তারা অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২-০ গোলে হেরেছিল। অন্যদিকে এই জয়ে তিন পয়েন্ট নিয়ে শেষ ষোলোতে ওঠার লড়াইয়ে টিকে থাকল প্যারাগুয়ে। একই পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, আর যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

