বেলজিয়ামকে হারিয়ে মেরিনোর চোখ বিশ্বকাপ ট্রফিতে

স্পোর্টস ডেস্ক

বেলজিয়ামকে হারিয়ে মেরিনোর চোখ বিশ্বকাপ ট্রফিতে

স্পেনের হয়ে যেন শেষ মুহূর্তের নায়ক হয়ে ওঠাই অভ্যাসে পরিণত করেছেন মিকেল মেরিনো। পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোল করেছিলেন। এবার কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়ামের বিপক্ষেও বদলি নেমে মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে গোল করে স্পেনকে ২-১ ব্যবধানে জিতিয়ে তুলেছেন বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে।

লস অ্যাঞ্জেলেস স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষে আবেগ লুকাতে পারেননি আর্সেনাল মিডফিল্ডার। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ও মিক্সড জোনে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, এমন মুহূর্ত ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। মেরিনো বলেন, ‘এটি একেবারেই পাগলাটে অনুভূতি। সত্যি বলতে অবিশ্বাস্য। আগেরবার আমার ছেলে স্পেনে ছিল, এবার সে স্টেডিয়ামে বসে সব দেখেছে। পরিবারের সামনে এমন মুহূর্ত উপহার দিতে পারা আমার জন্য অসাধারণ ব্যাপার। এমন অভিজ্ঞতা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না।’

বিজ্ঞাপন

ম্যাচের ৮৬ মিনিটে লুইস দে লা ফুয়েন্তে তাকে মাঠে নামান। দুই মিনিট পরই পাও কুবারসির শট বেলজিয়ামের বদলি গোলরক্ষক সেনে ল্যামেন্সের হাত ফসকে বেরিয়ে এলে ফিরতি বলে জাল খুঁজে নেন মেরিনো। সেই গোলেই নিশ্চিত হয় স্পেনের জয়।

মেরিনো বলেন, বদলি হিসেবে নামলেও তিনি সব সময় প্রস্তুত থাকেন। তার ভাষ্য, ‘যখন বেঞ্চে থাকি, তখনো নিজেকে ম্যাচের অংশ হিসেবেই ভাবি। সুযোগ কখন আসবে জানি না। কিন্তু যখনই মাঠে নামি, দলের জন্য সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করি। আজও সেটাই করেছি।’

বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টানা দুই ম্যাচে বদলি নেমে জয়সূচক গোল করার বিরল কীর্তিও গড়েছেন স্পেনের এই মিডফিল্ডার। পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের গোলের পর এবার আবারও একই গল্প। তবে ব্যক্তিগত রেকর্ড নিয়ে খুব একটা ভাবতে চান না তিনি, ‘এগুলো অবশ্যই সুন্দর স্মৃতি। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দল জিতেছে। আমরা এখন সেমিফাইনালে। ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলের সাফল্যই আমার কাছে বড়।’

সেমিফাইনালে স্পেনের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। ইউরো ২০২৪ ও নেশন্স লিগে দুবারই ফরাসিদের হারিয়েছিল লা রোহা। এবার বিশ্বকাপেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চান মেরিনো, ‘আমরা জানি সামনে কত কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। ফ্রান্স অসাধারণ একটি দল। কিন্তু আমরা এখান পর্যন্ত এসেছি নিজেদের ফুটবল খেলে। এখন মাত্র দুই ধাপ দূরে আমাদের স্বপ্ন। আমরা শেষ পর্যন্ত যেতে চাই।’

তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্বকাপ খেলা সব ফুটবলারের স্বপ্ন। আর এখন আমরা এমন একটি অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছি, যেখান থেকে ইতিহাস লেখা সম্ভব। তাই আনন্দ করার সময় খুব বেশি নেই। সামনে আরো বড় দুটি ম্যাচ অপেক্ষা করছে।’

কোয়ার্টার ফাইনালে নিজের কাজটা করেছেন। এবার দেখার পালা মেরিনোর ফাইনালের স্বপ্ন পূরণ হয় কি না।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন