সামনে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ। মাঠের লড়াই শুরু হতে সময় খুব কম। রোমাঞ্চ, উন্মাদনা, উত্তাপ আর উত্তেজনার ভেলায় ভেসে যেতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন ফুটবলপ্রেমীরা। কিন্তু মাঠের বাইরের রাজনীতি ফুটবল দুনিয়ার সব আনন্দ বিনষ্ট করার হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী কর্মকাণ্ডে রাজনীতির বৈশ্বিক মাঠ এখন বেশ সরগরম। যার প্রভাব পড়ছে ফুটবল দুনিয়ায়। সে প্রেক্ষিতে বিশ্বকাপের আগামী আসরের অন্যতম আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রকে বহিষ্কারের দাবি উঠেছে। অবাক করার বিষয় হচ্ছে, দাবিটি উঠেছে খোদ যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র রাষ্ট্র থেকেই।
বিবিসি জানিয়েছে, ব্রিটেনের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ২৩ পার্লামেন্ট সদস্য এমন দাবি উত্থাপন করেছেন। ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ওইসব সদস্য বলছেন, আন্তর্জাতিক আইন ও অন্য দেশের সার্বভৌমত্বকে শ্রদ্ধা না করলে যুক্তরাষ্ট্রকে ফুটবলের বৈশ্বিক আসরে খেলতে দেওয়া উচিত হবে না। সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে এক ঝটিকা অভিযানে প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে আটক করে নিয়ে গেছে মার্কিন বাহিনী। এরপরও থামছেন না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। বিভিন্ন দেশের উদ্দেশ্যে একের পর এক হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প।
ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখায় ট্রাম্প ফিফা থেকে পেয়েছেন ‘শান্তি পুরস্কার’। কিন্তু ২০২৬ বিশ্বকাপের ড্র অনুষ্ঠানে পুরস্কারটি পাওয়ার কয়েক সপ্তাহ না যেতেই ভেনেজুয়েলা ও নাইজেরিয়ায় সামরিক অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এখন গ্রিনল্যান্ড, বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক মেক্সিকো, বিশ্বকাপের টিকিট কাটা কলম্বিয়া ও ইরানে অভিযান চালানোর হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প।
লেবার, লিবারেল ডেমোক্র্যাট, গ্রিন পার্টি ও প্লাইড কামরুর ২৩ এমপি একটি প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছেন। প্রস্তাবটিতে বিশ্বকাপসহ বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বহিষ্কারের আহ্বান জানিয়েছেন তারা। ব্রিটেনের ওই এমপিরা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, ‘বিশ্বকাপ বা অলিম্পিকের মতো বড় আসরকে কোনো শক্তিশালী রাষ্ট্রের আইন লঙ্ঘনের হাতিয়ার হতে দেওয়া যায় না।’ তাদের মতে, একটি স্বাধীন দেশের প্রেসিডেন্টকে তুলে নিয়ে যাওয়া আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

