চোট আর নিষেধাজ্ঞা জটিলতায় আগে থেকেই দিশাহারা রিয়াল মাদ্রিদ। রক্ষণভাগের ভঙ্গুরতার সঙ্গে মাঝমাঠ ও আক্রমণেও ধাক্কা—সব মিলিয়ে মেস্তায়া স্টেডিয়ামে ছিল কঠিন এক রাতের অপেক্ষা। তবে চাপের মধ্যেও চেনা চরিত্র দেখাল মাদ্রিদের দলটি। দুই ডিফেন্ডারের নৈপুণ্যে ভর করে ভ্যালেন্সিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলের জয় তুলে নিল রিয়াল। এই জয়ে বার্সেলোনার সঙ্গে ফের তাদের পয়েন্টের ব্যবধান ১-এ নেমে এসেছে।
রোববার রাতে লা লিগার ম্যাচে প্রথমার্ধে ছিল না খুব একটা ছন্দ। ভিনিসিউস জুনিয়রের কার্ডজনিত নিষেধাজ্ঞা, জুড বেলিংহ্যাম ও রদ্রিগোর চোট—এই তিন তারকাকে ছাড়াই মাঠে নামে রিয়াল। ফলে মাঝমাঠ ও আক্রমণে সমন্বয়ের ঘাটতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কিলিয়ান এমবাপ্পে দু-একবার সুযোগ পেলেও প্রথমার্ধে গোলের দেখা পাননি। ২৮তম মিনিটে প্রথমবারের মতো লা লিগায় শুরুর একাদশে সুযোগ পাওয়া দাভিদ হিমেনেস রিয়ালের সেরা সুযোগটি তৈরি করেন। ডান প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে নেওয়া তার শট গোলরক্ষক পা দিয়ে ঠেকিয়ে দেন।
বিরতির পরও রিয়াল আক্রমণে তেমন ধার দেখাতে পারেনি। এমবাপ্পে ও গঞ্জালো গার্সিয়া ছিলেন কার্যত বিচ্ছিন্ন। তবে ৬৫তম মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তরুণ ডিফেন্ডার আলভারো কাররেরাস। ডিন হাউসেনের বাড়ানো পাসে দুজন ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে বক্সে ঢুকে নিখুঁত শটে জাল খুঁজে নেন তিনি। গোল হজমের পর ভ্যালেন্সিয়া ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। ৭১তম মিনিটে লুকাস বেলতানের শট পোস্টে লেগে ফিরলে রক্ষা পায় রিয়াল। এরপর অভিজ্ঞতা কাজে লাগান রিয়াল কোচ। ৭৬তম মিনিটে ব্রাহিম দিয়াস ও চোট কাটিয়ে ফেরা ট্রেন্ট আলেকজান্ডার-আর্নল্ডকে নামান তিনি। যোগ করা সময়ে দিয়াসের পাস থেকে প্রথম স্পর্শেই গোল করে জয় নিশ্চিত করেন এমবাপ্পে। লিগে এটি তার ২৩তম গোল, যা তাকে তুলে দিয়েছে গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে।
এই জয়ে ২৩ ম্যাচে ৫৭ পয়েন্ট নিয়ে তারা রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে; এক পয়েন্ট এগিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা। অন্যদিকে দশম হারে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে অবনমন শঙ্কায় থাকা ১৭তম স্থানেই রইল ভ্যালেন্সিয়া।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

