শুরুটা ছিল অনিশ্চয়তায় ভরা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম কয়েক ম্যাচে একাদশে জায়গা পাননি সাঞ্জু স্যামসন। সুযোগ মিলেছিল মাত্র একটি ম্যাচে, এরপর টানা চার ম্যাচ বসে থাকতে হয়েছে বেঞ্চে। তখন অনেকেই ধারণা করেছিলেন, হয়তো আর সুযোগই পাবেন না তিনি।
কিন্তু পরিস্থিতি বদলে যায় হঠাৎই। সতীর্থ রিংকু সিং পারিবারিক কারণে চলে গেলে দলে পরিবর্তন আনতে হয়, আর সেই সুযোগেই একাদশে ফেরেন স্যামসন। সুযোগ পেয়ে সেটিকে দারুণভাবে কাজে লাগান এই অভিজ্ঞ ব্যাটার।
৩১ বছর বয়সী এই উইকেটকিপার-ব্যাটার শুধু নিজের পারফরম্যান্সই উজ্জ্বল করেননি, বরং দলকে শিরোপা জয়ের পথেও বড় ভূমিকা রেখেছেন। ফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৬ বলে ৮৯ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি, যা ভারতকে বিশ্বকাপ জয়ের পথে এগিয়ে দেয়।
এর আগে সুপার এইটের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রান করে দলকে জিতিয়েছিলেন স্যামসন। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪২ বলে ৮৯ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেন। ওই দুই ম্যাচেই ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন তিনি।
টানা তিন ম্যাচে ৮০–এর বেশি রান করে ধারাবাহিকতার নজির গড়েন এই ডানহাতি ব্যাটার। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র পাঁচ ম্যাচে ১৯৯.৩৭ স্ট্রাইক রেট ও ৮০.২৫ গড়ে ৩২১ রান করেন তিনি।
এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কারও ওঠে তার হাতেই। ভারতের ইতিহাসে তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে এই সম্মান অর্জন করেন স্যামসন। এর আগে এই কীর্তি গড়েছিলেন বিরাট কোহলি (২০১৪ ও ২০১৬) এবং জসপ্রিত বুমরাহ (২০২৪)।
পুরো বিশ্বকাপে ২৪টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন স্যামসন, যা বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ ছক্কার নতুন রেকর্ড। এছাড়া সেমিফাইনাল ও ফাইনাল—দুই ম্যাচেই ফিফটি করা বিশ্বের তৃতীয় ব্যাটারও তিনি। এর আগে এই কীর্তি ছিল শহীদ আফ্রিদিi (২০০৯) ও কোহলির (২০১৪)।
বেঞ্চে বসে শুরু করা টুর্নামেন্টের শেষটা তাই হয়ে উঠল স্যামসনের জন্য একেবারে স্বপ্নের মতো—যেখানে তিনিই ভারতের বিশ্বজয়ের সবচেয়ে বড় নায়ক।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

