আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

আদালতে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বিসিবির নির্বাচন

স্পোর্টস রিপোর্টার

আদালতে চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বিসিবির নির্বাচন

বিসিবি নির্বাচন নিয়ে কম জল ঘোলা হয়নি। গত বছরের অক্টোবরে হওয়া নির্বাচনে ক্ষণে ক্ষণে বদলেছে রঙ। শেষ পর্যন্ত একটি পক্ষ নির্বাচন বয়কট করে। তাদের দাবি ছিল, বিসিবি নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছে সরকার। সে অভিযোগে আদালতে গিয়েছিল তারা। হাইকোর্টে রিট আবেদন করে। সেই রিট আবেদনের রায় তাদের পক্ষেও যায়। পরবর্তীতে বিসিবি চেম্বার জজ আদালতে ওই রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ নিয়ে আসে। পরবর্তীতে আর আইনি পথে এগোয়নি বিসিবির নির্বাচনে বিরোধী পক্ষে থাকা ক্লাব সংগঠকরা। এবার ফের সেই আইন ও আদালতের পথে হাঁটার চিন্তা-ভাবনা করছেন তারা।

বিষয়টি আমার দেশকে নিশ্চিত করেছেন ক্লাব সংগঠক রফিকুল ইসলাম বাবু।

বিজ্ঞাপন

গত বছরের ৬ অক্টোবর হওয়া বিসিবি নির্বাচনে সে সময়ের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ ওঠে। সেই নির্বাচন বয়কট করারা অভিযোগ করেছেন, আসিফ মাহমুদ সরাসরি নির্বাচনে প্রভাব রেখেছেন। এমনকি, নিজের পছন্দমতো লোকজন বসিয়েছেন বিসিবিতে। ফলে ওই নির্বাচনের আগ মুহূর্তে সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে বিদ্রোহী পক্ষ। সেই রিট আবেদনের রায়ে হাইকোর্ট বিসিবি নির্বাচন স্থগিত করলেও পরে তা চেম্বার জজ আদালতে বাতিল হয়ে যায়। ফলে বাড়তি কোনো আইনি জটিলতা ছাড়াই বিসিবির একপেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

বিসিবি নির্বাচনের আগে-পরে কয়েক দফায় সংবাদ সম্মেলন করে বিসিবির বর্তমান বোর্ডকে অবৈধ বলে আখ্যায়িত করে বিদ্রোহী পক্ষ। পাশাপাশি ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটে অংশ নেওয়া থেকেও বিরত থাকে। ফলে ঢাকার ঘরোয়া ক্রিকেটে তৈরি হয় অচলাবস্থা। ঢাকা প্রথম বিভাগ ও দ্বিতীয় বিভাগ লিগে অংশ নেয়নি বেশিরভাগ ক্লাব। ফলে এ নিয়ে বাড়তি চাপে আছে বিসিবি।

এসব সংবাদ সম্মেলন থেকে বারবারই বর্তমান বোর্ডকে পদত্যাগ করে নতুন করে নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানায় তারা। যেহেতু নির্বাচনে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ ছিল, সে কারণে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে আর আইনি পথে এগোয়নি বিদ্রোহী পক্ষ। জাতীয় নির্বাচনের পর পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় ফের আইনি পথে এগোবে তারা।

বিসিবির গত বছরের নির্বাচনের সময় থেকেই সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন বর্তমান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এমনকি দায়িত্ব নেওয়ার পরও তিনি জানান, তার ভাবনায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। যদিও বিসিবির সহসভাপতি ফারুক আহমেদের বিশ্বাস, দায়িত্ব নিয়ে বিসিবি বিষয়ে তেমন কিছু ভাবছেন না আমিনুল হক।

তবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর ওপর ভরসা রেখে আদালতে পরবর্তী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সাহস পাচ্ছেন ক্রীড়া সংগঠকরা। চেম্বার জজ আদালতে স্থগিত হওয়া রায়ের ওপর আপিল করবেন বলে জানান রফিকুল ইসলাম বাবু। তাদের আশা, হাইকোর্টে রিট আবেদনে যেমন রায় নিজেদের পক্ষে গিয়েছিল, এখন আপিল করলেও তা-ই হবে। তাতে বিসিবির বর্তমান বোর্ডকে চ্যালেঞ্জ জানানো যাবে বলেও মনে করেন তারা।

এদিকে বিসিবির বর্তমান পরিচালকরা আইন-আদালতের রায় নিয়ে এখনই কোনো চিন্তা-ভাবনা করছেন না। দিনকয়েক আগে বিসিবির সহসভাপতি ফারুক আহমেদ জানান, আদালতের রায়ে বিসিবিতে রদবদল এলে সেটা বিশ্বক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি স্বাভাবিকভাবে নেবে না। তবে বিদ্রোহী পক্ষে থাকা রফিকুল ইসলাম বাবু বলেন, নির্বাচনে সরকারি হস্তক্ষেপের বিষয়টি সবারই জানা। তিনি জানান, আইসিসিকে ইতোমধ্যে সবকিছু জানানো হয়েছে। ফলে আদালতের রায়ে বিসিবিতে রদবদল এলে তাতে কোনো সমস্যা হবে না। পাশাপাশি তার বিশ্বাস, আদালতের রায়ে বিসিবিতে রদবদল হওয়ার পর আইসিসির সঙ্গে সম্পর্ক পুনরায় স্বাভাবিক হয়ে আসবে। আদালতের রায়ে সবশেষ বিসিবি নির্বাচন অবৈধ ঘোষিত হলে অ্যাডহক কমিটি গঠন করে পরবর্তীতে বিসিবি নির্বাচন আয়োজন করা হবে।

আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে রাখলেও কবে নাগাদ যাবেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত কিছু জানাননি রফিকুল ইসলাম বাবু। তিনি জানান, সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...