দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে চলতি বিশ্বকাপে ৭ ম্যাচে ফিন অ্যালেনের রান ছিল ১৮৯। যার মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল আরব আমিরাতের বিপক্ষে অপরাজিত ৮৪। সেই অ্যালেন সেমিফাইনালের মতো ভাগ্য নির্ধারণী ম্যাচেই করলেন অপরাজিত ১০০! তাও মাত্র ৩৩ বলে! বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে দশটিরও বেশি রেকর্ড গড়েছেন কিউই ব্যাটার। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরি এখন তার। ৩৩ বলে তার এই সেঞ্চুরি নিউজিল্যান্ডের হয়েও এই ফরম্যাটে দ্রুততম।
সবমিলিয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম সেঞ্চুরির তালিকায় অ্যালেন তৃতীয়। প্রথমে এস্তোনিয়ার সাহিল চৌহান (২৭ বল) এবং দুইয়ে তুরস্কের মুহাম্মদ ফাহাদ (২৯ বল)। পূর্ণ সদস্য দেশের হিসেবেও অ্যালেনের সেঞ্চুরি টি-টোয়েন্টিতে যৌথভাবে সবচেয়ে দ্রুততম। তার সমান ৩৩ বলে সেঞ্চুরি রয়েছে জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক সিকান্দার রাজার। তবে তাদের প্রতিপক্ষ গাম্বিয়াও আইসিসি পূর্ণ সদস্য নয়।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের নকআউটে এর আগে কোনো ব্যাটার সেঞ্চুরি করতে পারেননি। ২০০৯ আসরে সাবেক লঙ্কান তারকা তিলাকরত্নে দিলশানের করা অপরাজিত ৯৬ রানের ইনিংসটিই ছিল সর্বোচ্চ। গতকাল অপরাজিত ১০০ রান করে নকআউট ম্যাচের একমাত্র সেঞ্চুরিয়ান বনে গেলেন অ্যালেন। সেঞ্চুরির পথে অ্যালেন ১৮টি (১০ চার ও ৮ ছয়) বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন, যা টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এক ইনিংসে কোনো ব্যাটারের যৌথভাবে সর্বোচ্চ, ২০১২ আসরে তার সমান ১৮টি বাউন্ডারি হাঁকান স্বদেশি সাবেক অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম।
এই বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ের পর রহস্য নিজেই ভেদ করেছেন অ্যালেন। কালো মাটির উইকেটই তাকে সাহায্য করেছে জানিয়ে এই কিউই ব্যাটার ম্যাচ শেষে বলেন, ‘বিশ্বকাপের আগে ভারতে যে সিরিজটা খেলেছিলাম, সেটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল তা এই ম্যাচেই বোঝা গেছে। কালো মাটির উইকেটে পাঁচটা ম্যাচ খেলেছিলাম। এই ধরনের প্রস্তুতি অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। আমরা দল হিসেবে অনেক কিছু শিখেছি। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আমরা লড়াই করার জন্য প্রস্তুত থাকি এবং শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার মানসিকতা আমাদের আছে। আমাদের বোলাররা দারুণ শুরু করেছিল। তারা ম্যাচটা আমাদের জন্য তৈরি করে দিয়েছে। এমন উইকেটে শুরুতেই উইকেট নিতে পারলে এবং চাপ তৈরি করতে পারলে ব্যাটারদের জন্য কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায়।’
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দ্রুততম পাঁচ সেঞ্চুরি
ফিন অ্যালেন (নিউজিল্যান্ড) : ৩৩ বল, প্রতিপক্ষ দ. আফ্রিকা, ২০২৬, কলকাতা
ক্রিস গেইল (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) : ৪৭ বল, প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড, ২০১৬, মুম্বাই
ক্রিস গেইল (ওয়েস্ট ইন্ডিজ) : ৫০ বল, প্রতিপক্ষ দ. আফ্রিকা, ২০০৭, জোহানেসবার্গ
হ্যারি ব্রুক (ইংল্যান্ড) : ৫০ বল, প্রতিপক্ষ পাকিস্তান, ২০২৬, পাল্লেকেলে
ব্রেন্ডন ম্যাককালাম (নিউজিল্যান্ড) : ৫১ বল, প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ, ২০১২, ক্যান্ডি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

