হাসিখুশি সুখী দল, বাংলাদেশ

এম. এম. কায়সার, সিলেট থেকে

হাসিখুশি সুখী দল, বাংলাদেশ

সকালে বাংলাদেশ। দুপুরে পাকিস্তান। টেস্ট শুরুর আগের দিন উভয় দলের জন্য অনুশীলন সূচির সময় ছিল এটা। দুদলই অনুশীলনে এসে একই দৃশ্য দেখল-বৃষ্টি! সকালে বাংলাদেশ সিলেট স্টেডিয়ামের আউটডোরে তাও খানিকটা ব্যাটিং অনুশীলন করতে পারল। কিন্তু সেটা মাত্র ঘণ্টা খানেকের জন্য। বৃষ্টি বাধায় ব্যাট জার্সির আড়ালে নিয়ে দৌড়ে মাঠ ছাড়লেন মুশফিকরা। বাকি সময় কাটল তাদের ইনডোরে টুকটাক অনুশীলনে। ওপেন ফিল্ডে ফিল্ডিং অনুশীলন করার সুযোগ আর মিলল না। তাতে দলের খেলোয়াড়দের মন যে খুব খারাপ হলো, তা কিন্তু নয়। বাহ্যিক আচরণ ও চটপটে নির্ভার হাসিতে স্পষ্ট মিলল একটি দলের সুখী-সমৃদ্ধ দলের চেহারা। ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে মুশফিক রহিমও আধঘণ্টার মতো সাংবাদিকদের সঙ্গে যা বললেন তার পুরো অংশেই থাকল সন্তুষ্টির সুর।

আসলে সাফল্য একটা দলকে কীভাবে বদলে দেয়, সেই সুখের প্রকৃষ্ট উদাহরণ এখন বাংলাদেশ টেস্ট দল। দেশের মাটিতে পেছনের তিন টেস্টে বাংলাদেশ জিতেছে। আর এই ফরম্যাটে প্রতিপক্ষ যখন পাকিস্তান তখন সেই সাফল্যের রেখা আরো উঁচুতে। পাকিস্তানের সঙ্গে টানা তিন টেস্ট জিতেছে বাংলাদেশ। যে কায়দায় ঢাকা টেস্টে পাকিস্তানকে হারিয়েছে বাংলাদেশ তাতে এখন সিলেটেও হট ফেভারিটের তকমা স্বাগতিকদের পাশেই মানিয়ে গেছে বেশ।

বিজ্ঞাপন

টেস্ট ম্যাচ জয়ে বোলারদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। ভারতের বীরেন্দ্র শেবাগ তো একসময় বলেই বসেছিলেন, ২০ উইকেট নেওয়ার মতো সামর্থ্য বা বোলার বাংলাদেশের নেই। সেই বাংলাদেশের একাদশে এখন চারজন বোলার রয়েছেন যারা এই কৃতিত্ব দেখাতে পারেন। মুশফিক সেই সন্তুষ্টি নিয়ে বললেন, ‘আমাদের বোলিং বিভাগের ২০ উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা এখন আগের চেয়ে অনেক বেটার।’

-আগে, অর্থাৎ যখন মুশফিক টেস্ট দলের ক্যাপ্টেন ছিলেন, তখন। সেই কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করে মুশফিক বলছিলেন, ‘আমি যখন অধিনায়ক ছিলাম তখন হয়তো আমার কাছে ব্যাটার ছিল। কিন্তু ম্যাচে ২০ উইকেট নেওয়ার মতো এখনকার মতো চারজন বোলার ছিল না। আমার কাছে তখন এমন বোলার ছিল দুয়েকজন। সেই সময়টা তাই তখন আমার জন্য কঠিন হয়ে যেত। এখন আমাদের দলের ভারসাম্য ও ভ্যারাইটি অনেক, যা একটা দলকে যেকোনো কন্ডিশন থেকে ফলাফল বের করে নিয়ে আসার সুযোগ করে দেয়।’

পারফরম্যান্সের জন্য এখন কোনো একজনের দিকে তাকিয়ে থাকে না এই দল। ওপেনাররা ব্যর্থ হলে মিডলঅর্ডার সেই সংকট মিটিয়ে দেয়। মিডলঅর্ডার আগেভাগে খসে গেলে লোয়ার মিডলঅর্ডার খেলে দিচ্ছে। বোলিংয়েও তাই। কেউ মার খেলে, দলের বাকিরা জ্বলে উঠে পুড়িয়ে দিচ্ছে প্রতিপক্ষকে। আবার প্রথম ইনিংসের ব্যর্থতা ঘুচিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ম্যাচ উইনার হয়ে উঠছে। দলের এই বদলে যাওয়াকে সাফল্যের কারণ মানছেন মুশফিক ‘একটা দলে যখন ধারাবাহিক পারফরমারের সংখ্যা থাকবে তখন দেখা যায়, যেকোনো চ্যালেঞ্জ এলে সে হাত তুলে দাঁড়িয়ে যায়, সেই চ্যালেঞ্জটা নিয়ে সেটা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকে।’

এই লড়াকু এবং জেতার মানসিকতাই বদলে দিয়েছে টেস্টের বাংলাদেশকে। দলের এই সুখ আরো সমৃদ্ধ করার উপায়ও একটাই-ধারাবাহিকতা, সাফল্যের ধারাবাহিকতা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...