সাম্প্রতিক সময়ে এশিয়া কাপ কিংবা বিশ্বকাপের মতো বহুজাতিক টুর্নামেন্ট ছাড়া মাঠে নামেনি বাংলাদেশ-পাকিস্তান। দুই দলের সবশেষ চার দেখায় মাত্র এক ম্যাচ জিতেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ফলে এবার বাংলাদেশের লক্ষ্যটা থাকবে জয় পাওয়া। এর জন্য বাংলাদেশকে আত্মবিশ্বাস জোগাবে সবশেষ সিরিজ। এক দশকের বেশি সময় আগে মুখোমুখি হওয়া দ্বিপক্ষীয় সিরিজে ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। ২০১৫ সালে হওয়া ওই সিরিজে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় ছিল ৩-০ ব্যবধানে। এবার সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে মরিয়া হয়ে থাকবে বাংলাদেশ।
সবশেষ অক্টোবরে ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ। চার মাস আগে হওয়া ওই সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল মেহেদি হাসান মিরাজের দল। ফলে আত্মবিশ্বাস খানিকটা বেশিই থাকবে মিরাজ-লিটন দাসদের।
তবে আত্মবিশ্বাস থাকলেও অতীত পরিসংখ্যান অবশ্য কথা বলছে না বাংলাদেশের পক্ষে। ওয়ানডে সংস্করণের দুই দলের ৩৯ মুখোমুখি দেখায় বাংলাদেশের জয় ৫ ম্যাচে। বাকি ৩৪ ম্যাচে জিতেছে পাকিস্তান। ২০১৫ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সাতবার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। এই সাত ম্যাচের চারটিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ আর পাকিস্তানের জয় তিন ম্যাচে।
এই সিরিজে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন আপে থাকতে পারে পরিবর্তন। মিডল অর্ডারের ব্যর্থতার জন্য পুরোনো আফিফ হোসেন ধ্রুবকে স্কোয়াডে ফিরিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। উইকেট ভালো আছে- এমন কথা গত পরশু বলেছিলেন বাংলাদেশ কোচ ফিল সিমন্স। একই কথা শোনা গিয়েছিল পাকিস্তানের হেড কোচ মাইক হেসনের কণ্ঠেও। তাতে ধারণা করা যায়, খানিকটা পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামবে বাংলাদেশ।
সেক্ষেত্রে ওপেনিংয়ে দেখা মিলবে সৌম্য সরকার ও সাইফ হাসানের। সবশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজেও এই ওপেনিং জুটিতেই ভরসা রেখেছিল টিম ম্যানেজমেন্ট। সেক্ষেত্রে ফর্মে না থাকা টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন দাস খেলতে পারেন চার নম্বরে। আর তাওহিদ হৃদয়ের জায়গা হতে পারে পাঁচে। আর তিনে খেলবেন সাবেক ওয়ানডে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
বেশ আগে থেকেই অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ বলেছিলেন, তিনি খেলতে চান ছয় কিংবা সাত নম্বরে। তাতে মিডল অর্ডারের সমস্যায় দলে ডাক পাওয়া আফিফ হোসেনের জায়গা হতে পারে ছয় নম্বরে। আর সেক্ষেত্রে সাত নম্বরে নামতে পারেন অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। আটে জায়গা হবে রিশাদ হোসেনের।
প্রতিপক্ষ অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি বলেছিলেন, উইকেটে পেসাররা সহায়তা পেতে পারেন। বাংলাদেশ অধিনায়ক মিরাজের কণ্ঠে ছিল ট্রু উইকেটের আশা। দুই অধিনায়কের এই কথায় খানিকটা স্পষ্ট- একাদশে থাকতে পারেন তিন পেসার। সেক্ষেত্রে মোস্তাফিজুর রহমান ও তাসকিন আহমেদের সঙ্গে একাদশে জায়গা পেতে পারেন শরিফুল ইসলাম। তবে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্তে বদল আসলে শরিফুলের জায়গায় স্পিনার তানভীর ইসলামও খেলতে পারেন প্রথম ম্যাচে।
এদিকে পাকিস্তান স্কোয়াডে আছে বড় চমক। ছয় নতুন মুখ নিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে এসেছে দলটি। ফলে তাদের একাদশে বড় চমক থাকবে এটা আগে থেকেই স্পষ্ট। পুরো টপ অর্ডারের অভিষেকই হতে পারে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচে। সেক্ষেত্রে ওপেনিংয়ে খেলবেন সাহিবজাদা ফারহান ও মাজ সাদাকাত। তিনে খেলবেন শ্যামল হুসেইন। উইকেটের পেছনে ঘাজি ঘৌরের অভিষেক হতে পারে বাংলাদেশের বিপক্ষে।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশ-পাকিস্তান লড়াইটাকে এবার ধরে নেওয়া যেতে পারে নতুন বনাম পুরোনো লড়াই হিসেবে। কারণ বাংলাদেশ দলে থাকবে সব অভিজ্ঞ মুখ আর পাকিস্তান একাদশে থাকবে নতুনের ছড়াছড়ি।
বাংলাদেশ-পাকিস্তান ওয়ানডে পরিসংখ্যান
ম্যাচ: ৩৯
বাংলাদেশের জয়: ৫
পাকিস্তানের জয়: ৩৪
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

