মিরপুরের পরিবেশ খানিকটা উৎসবমুখর। প্রতিবার আন্তর্জাতিক কোনো সিরিজ শুরুর আগে এমন পরিবেশ দেখা যায়। তবে এবারের এমন উৎসবমুখর পরিবেশ দিচ্ছে অনেকটা ভিন্ন বার্তা। সদ্য শেষ হওয়া টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি ছিল প্রায় তিন মাস। সেই অনুপস্থিতির রেশ কাটবে এবার পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে। ওই সিরিজের প্রথম ম্যাচ আজ মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শুরু হবে দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে। এই ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ জানান, তাদের লক্ষ্য মূলত দুটি। প্রথমত, সিরিজ জিতে র্যাংকিংয়ে উন্নতি করে বিশ্বকাপে জায়গা করা আর দ্বিতীয়, বিশ্বকাপের প্রস্তুতি শুরু করা। ফলে বলাই যায়, এক ঢিলে দুই পাখি শিকারের লক্ষ্য ঠিক করে বাংলাদেশ।
গতকাল সংবাদ সম্মেলনে আসেন অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। সবশেষ অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল বাংলাদেশ। সময়ের হিসাবে চার মাস পর মাঠে অধিনায়কের দায়িত্বটা পালন করবেন মিরাজ। নেতা কীভাবে কেমন ব্র্যান্ডের ক্রিকেট খেলতে চান—সেই প্রশ্নটাই হয়েছে সবার আগে। নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি, তবে একটা প্যাটার্ন মেনে চলার কথা বললেন। কী প্যাটার্নে এগোবেন সেই কথা অবশ্য বলেননি মিরাজ।
তার কথায়, ‘ওডিআই ফরম্যাটটা আমাদের অনেক ভালো একটা ফরম্যাট ছিল। এবং আমরা সেরা ফলও পেয়েছি। আমাদের ভালো একটা প্যাটার্ন ছিল ওডিআই ফরম্যাটে। আর বেশ কিছু সিনিয়র ক্রিকেটার ছিল, একসঙ্গে অনেকদিন খেলেছে, তারা প্যাটার্নটা ভালো বুঝতে পেরেছে। এখন কিন্তু তারা খেলছে না। আমাদের যারা এখন আছে তাদের দায়িত্ব নিতে হবে।’
পজিশন আর পরিস্থিতির সঙ্গে মিলিয়ে সামনে এগোনোর পরিকল্পনা করেছেন বলে জানান মেহেদি হাসান মিরাজ। তার কথায়, ‘ওয়ানডে সংস্করণ এমন একটা খেলা এখানে আসলে প্রত্যেকটা পরিস্থিতিতে মানিয়ে নিতে হবে এবং কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে—এটা প্রত্যেকটা ক্রিকেটারের জানা খুবই জরুরি এবং প্রত্যেকটা পজিশনে কীভাবে খেলতে হবে সেটাও। ব্যাটারদের বেশি দায়িত্ব নিতে হবে এবং আমার কাছে মনে হয় আমরা ওইভাবে পরিকল্পনা করছি।’
পরিকল্পনার চেয়ে ফলের দিকেই সবচেয়ে বেশি লক্ষ থাকে সমর্থকদের। ফলে লক্ষ্যটা কী হবে সেটাই অধিনায়কের কাছে জানার ছিল। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে র্যাংকিংয়ের সেরা ৮-এ থাকতে হবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। বর্তমানে ১০ নম্বরে থাকা বাংলাদেশ সেই যোগ্যতা অর্জন করতে পারবে কি না—সেই প্রশ্ন এসেছিল সংবাদ সম্মেলনে।
এ নিয়ে মেহেদি হাসান মিরাজ বলেন, ‘এ বছর আমাদের অনেক বেশি ওয়ানডে ম্যাচ আছে। আমরা পরিকল্পনাটা খুব ভালোভাবে করতে পারব এবং র্যাংকিংয়ের একটা বিষয় আছে। আমার কাছে মনে হয় প্রত্যেকটা সিরিজই আমাদের জন্য খুব জরুরি এবং প্রত্যেকটা ম্যাচ। কালকে (আজ) থেকে যে সিরিজটা শুরু হবে এবং পরের যে সিরিজগুলো আছে আমাদের জন্য অনেক জরুরি। আমরা ওইভাবে পরিকল্পনা করছি।’
তিনি আরো যোগ করেন, ‘আমরা অনেক বেশি দূরে চিন্তা করছি না, প্রত্যেকটা সিরিজ এবং ম্যাচ বাই ম্যাচ আমরা চিন্তা করছি। আশা করি, দিনশেষে একটা ভালো ফলাফল আসবে।’
চলতি বছর অন্তত ২২টি ওয়ানডে খেলার কথা রয়েছে বাংলাদেশ দলের। এ সময়ের মধ্যে র্যাংকিংয়ে অন্তত দুই ধাপ এগোতে হবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। এর জন্য যা দরকার সেটা করতেই মনোযোগী হতে চান অধিনায়ক মিরাজ। ফল, পাকিস্তান সিরিজ থেকে দেখা যাবে নতুন ব্যাটিং অর্ডার। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘দিনশেষে আমাদের ফলাফলটা খুবই জরুরি। কারণ, যেহেতু আমাদের সামনে ওয়ানডে বিশ্বকাপ, ফলে আমাদের র্যাংকিংটা খুবই জরুরি।’
এ নিয়ে তিনি আরো যোগ করেন, ‘যেই যে পজিশনে বিগত দিনে সাফল্য পেয়েছে আমরা চেষ্টা করব তাকে সেই পজিশনে খেলানোর জন্য। সে যেন ওইখানে পারফর্ম করতে পারে এবং ভালো করতে পারে। আমরা ওইভাবে চেষ্টা করব।’
এই সিরিজ দিয়ে ব্যাটাররা আত্মবিশ্বাস ফিরে পাবে বলে মনে করেন অধিনায়ক মিরাজ। তার কথায়, ‘এখন আমরা অবশ্যই চেষ্টা করব ট্রু উইকেটে খেলার জন্য এবং ব্যাটসম্যানরা যেন অনেক কনফিডেন্ট পায়, অনেক রান করতে পারে এভাবেই আমরা চেষ্টা করব।’
মিরাজ আরো বলেন, ‘আমরা অবশ্যই টিমের জন্য সেরা কম্বিনেশন হয় সেটাই আমরা চেষ্টা করছি এবং সেটাই আমরা করব।’
এক ঢিলে দুই পাখি শিকারের যে লক্ষ্য নির্ধারণ করছেন অধিনায়ক মিরাজ। শেষ পর্যন্ত সেই সফলতা আসে নাকি—সেটাই এখন দেখার অপেক্ষায় সবাই।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

