দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ। এ জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতা এনেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আজ শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ৮৭ বল হাতে রেখে জিতেছে বাংলাদেশ।
অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ (৮) ও তাওহিদ হৃদয় (৩০) দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়ে তবেই মাঠ ছাড়েন। ষষ্ঠ উইকেটে ৩২ রানের হার না মানা পার্টনারশিপ গড়ে দুজন।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪ ওভারের মধ্যে দলীয় ২১ রানে সাইফ হাসান ও সৌম্য সরকারের উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তৃতীয় উইকেটে ১১০ রানের জুটি গড়েন তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। ৭৬ রান করেন তানজিদ। শান্ত ৫০ রান করে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন।
ম্যাচ শেষে বল হাতে থাকার হিসাবে ওয়ানডেতে এটি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বড় জয়। ২০২৩ সালে নেপিয়ারে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২০৯ বল হাতে রেখে জয়ের দেখা পেয়েছিল বাংলাদেশ। তার আগে বাংলাদেশের জয়ের ভিত গড়ে দেন পেসার নাহিদ রানা। মিরপুরের উইকেটে ‘বৈশাখী ঝড়’ তুলে ৩২ রানে শিকার করেন ৫ উইকেট।
তার আগে ৮ বল বাকি থাকতে ১৯৮ রানে থামে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। তাতে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার ছিল ১৯৯ রান।
নিজের ক্যারিয়ারের ১১তম ওয়ানডে খেলতে নেমে দ্বিতীয় ফাইফারের দেখা পেয়েছেন নাহিদ রানা। তার বোলিং তোপে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ ৮৩ রান এসেছে ওপেনার নিক কেলির ব্যাটে। এছাড়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৯ রান করেন মুহাম্মদ আব্বাস।
বাংলাদেশের হয়ে নাহিদ রানা ৩২ রানে নেন ৫ উইকেট। এটা তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেরা বোলিং ফিগার। এছাড়া শরিফুল ইসলাম ৩২ রানে নেন দুই উইকেট।
আগামী বৃহস্পতিবার তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে হবে চট্টগ্রামের বীর শ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নিউজিল্যান্ড: ১৯৮/১০, ৪৮.৪ ওভার (কেলি ৮৩, আব্বাস ১৯, স্মিথ ১৮ *; নাহিদ ৫/৩২, শরীফুল ২/৩২, সৌম্য ১/২৭, তাসকিন ১/৪৬)।
বাংলাদেশ: ১৯৯/৪, ৩৫.৩ ওভার (তানজিদ ৭৬, নাজমুল ৫০*, হৃদয় ৩০, লেনক্স ২/৩৬, স্মিথ ১/৪৬)।
ফল: বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী।
ম্যাচসেরা: নাহিদ রানা
সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ এ সমতায় বাংলাদেশ।
৮ বল বাকি থাকতে ১৯৮ রানে থামে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। তাতে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে জয়ের জন্য বাংলাদেশের দরকার ১৯৯ রান।
নিজের ক্যারিয়ারের ১১তম ওয়ানডে খেলতে নেমে দ্বিতীয় ফাইফারের দেখা পেয়েছেন নাহিদ রানা। তার বোলিং তোপে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড। দলটির হয়ে সর্বোচ্চ ৮৩ রান এসেছে ওপেনার নিক কেলির ব্যাটে। এছাড়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৯ রান করেন মুহাম্মদ আব্বাস।
বাংলাদেশের হয়ে নাহিদ রানা ৩২ রানে নেন ৫ উইকেট। এটা তার ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেরা বোলিং ফিগার। এছাড়া শরিফুল ইসলাম ৩২ রানে নেন দুই উইকেট।
মাত্র চার ম্যাচের ব্যবধানে ওয়ানডে ক্যারিয়ারে নিজেদের দ্বিতীয় ফাইফারের দেখা পেলেন পেসার নাহিদ রানা। সবশেষ পাকিস্তান সিরিজে ফাইফারের দেখা পেয়েছিলেন তিনি।
তার ফাইফারে ৯ উইকেটে ১৮৩ রান তুলেছে নিউজিল্যান্ড।
রান তোলায় বেশ ধীরগতিতে এগোচ্ছে নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। এখন পর্যন্ত ৪১ ওভারে তাদের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১৬১ রান।
তৃতীয় উইকেটরক্ষক-ব্যাটার হিসেবে শততম টেস্ট খেলছেন লিটন দাস। আগের দুইজন খালেদ মাসুদ পাইলট ও মুশফিকুর রহিম। তারা দুজন নিজেদের শততম ম্যাচে উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে খুব একটা ভালো করতে পারেননি। সোজা কথায়- কোন চমক দেখাতে পারেননি।
লিটন দাস আর ওই পথে হাঁটেননি। নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের বয়স যখন ২৯ ওভার, ততক্ষণে উইকেটের পেছনে দাঁড়িয়ে তালুবন্দি করেছেন দুই ক্যাচ। দ্বিতীয় ক্যাচটা তো ছিল দারুণ। উইকেটের পেছনে দাঁড়ানো লিটন লম্বা এক দৌড়ের পর ডাইভ দিয়ে মুহাম্মদ আব্বাসের তুলে দেওয়া ক্যাচ তালুবন্দি করেছেন।
শুরুটা নিউজিল্যান্ডের জন্য খুব একটা ভালো হয়নি। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে এখন রান তোলার গতি বাড়িয়েছে কিউইরা। এখন পর্যন্ত তাদের সংগ্রহ ২৮ ওভারে ৩ উইকেটে ১০৭ রান। নিক কেলি ৫২ ও মুহাম্মদ আব্বাস ১৯ রানে অপরাজিত আছেন।
লোয়ার মিডল অর্ডারের সমস্যা কাটাতে আফিফ হোসেনকে দলে ফেরানো হয়েছিল। কিন্তু সমস্যা সমাধান হয়নি, উল্টো নিজেই সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন আফিফ। শেষ ম্যাচে ৪৯ বলে খেলে মাত্র ২৭ রান করেছিলেন। তার ইনিংসে ছিল না কোন বাউন্ডারি। ৫ ডাবলস আর ১০ সিঙ্গেলসে পুরো রান করেছেন আফিফ।
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে দলে ফেরা আফিফ সেখানেও নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি। দলকে করেছেন হতাশ। দলে কার্যকর ভূমিকা রাখতে না পারায় একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন এই ক্রিকেটার।
নাহিদের দ্বিতীয় শিকারে পরিণত হয়েছেন নিউজিল্যান্ডের অভিজ্ঞ ব্যাটার উইল ইয়ং। ১৪৬.৮ কিমি প্রতি ঘণ্টা গতিতে করা বাউন্সারে পরাস্ত হয়েছেন ইয়ং। হুট করে আসা এই বাউন্সারে বেশ অবাকই হয়েছেন এই কিউই। তাতে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট অঞ্চলে সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচ তুলে দেন ইয়ং। ফেরার আগে তার ব্যাটে আসে ৭ বলে ২ রান।
প্রথম পাওয়ার প্লে শেষে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ২ উইকেটে ২৮ রান।
১৪৪.৭ কিমি প্রতি ঘণ্টা গতিতে বল করেছিলেন নাহিদ রানা। তার ওই বলের লাইন বুঝতে পারেননি হেনরি নিকোলস। তাতে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে আউট হয়েছেন এই কিউই ওপেনার। দলীয় ২৫ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারালো বাংলাদেশ। ফেরার আগে ২৬ বলে ১৩ রান করেছেন নিকোলস।

বাংলাদেশের হয়ে ১৪তম ক্রিকেটার হিসেবে শততম ওয়ানডে খেলতে নেমেছেন লিটন দাস। ২০১৫ সালে অভিষেকের পর ১১ বছর লাগলো তার শততম ওয়ানডে খেলতে। লিটন তার শততম ম্যাচের ক্যাপ পেয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান ও মেহেদি হাসান মিরাজের কাছ থেকে।
বাংলাদেশের হয়ে এর আগে শততম ওয়ানডে খেলেছেন- খালেদ মাসুদ পাইলট, মোহাম্মদ রফিক, হাবিবুল বাশার সুমন, মোহাম্মদ আশরাফুল, মাশরাফি বিন মর্তুজা, আব্দুর রাজ্জাক, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, রুবেল হোসেন, মোস্তাফিজুর রহমান ও মেহেদি হাসান মিরাজ।

টস হেরে আগে বোলিং করবে বাংলাদেশ দল। ম্যাচ শুরুর আগ মুহূর্তে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে সদ্য অবসর নেওয়া পেসার রুবেল হোসেনকে। তাকে মোমেন্টো ও ক্রিকেটারদের স্বাক্ষর করা জাতীয় দলের তিন ফরম্যাটের জার্সি তাকে উপহার দেওয়া হয়েছে।
তার বিদায়ী সংবর্ধনায় উপস্থিত ছিলেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল, এডহক কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম বাবু, ফাহিম সিনহাসহ আরও অনেকে।
বিদায়ী সংবর্ধনা শেষে উইকেটে গিয়ে খানিকটা সময় কাটান রুবেল হোসেন। হয়তো নিজের খেলোয়াড়ি জীবনকে মনে করার চেষ্টা করেছেন তিনি।

দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও টস হেরেছে বাংলাদেশ দল। প্রথম ম্যাচের মতো এবারও আগে বোলিং করবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ একাদশে আছে এক পরিবর্তন। আফিফ হোসেনের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পেয়েছেন সৌম্য সরকার।
বাংলাদেশ একাদশ-
তানজিদ তামিম, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস, তাওহিদ হৃদয়, সৌম্য সরকার, রিশাদ হোসেন, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা।
নিউজিল্যান্ড একাদশ-
হেনরি নিকোলস, নিক কেলি, উইল ইয়ং, টম লাথাম, মুহাম্মদ আব্বাস, ডিন ফক্সক্রফট, জশ ক্লার্কসন, নাথান স্মিথ, ব্লেয়ার টিকনার, জেইডেন লেনক্স ও উইল ও'রোর্ক।