দ্বিতীয় ম্যাচ হেরে সমতায় সিরিজ শেষ করল বাংলাদেশ

১৮: ৩৮, মে ২

তিন ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের শেষ ও সিরিজ নির্ধারণী টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের কাছে ৬ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। তাতে ১-১ ব্যবধানে সমতায় শেষ হয়েছে সিরিজ। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়েছিল।

রান তাড়ায় নেমে শুরুর দিকে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। তবে এত কম লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে তাদের শুধু একটি ভালো ইনিংসই যথেষ্ট ছিল—আর সেটিই এনে দেন বেভন জ্যাকবস। শুরু থেকেই দারুণ ধৈর্য ও আত্মবিশ্বাস দেখিয়ে তিনি বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করেন। মাত্র ৩১ বলে ৬২ রানের ঝড়ো ইনিংসে তিনি সহজ করে দেন জয়ের পথ। টিম রবিনসনের অবদানও দলকে লক্ষ্যের আরও কাছে নিয়ে যায়। ম্যাচটি সংক্ষিপ্ত হলেও এতে স্পষ্ট হয়েছে জুটি গড়ার গুরুত্ব এবং একজন ব্যাটারের ইনিংস বড় করে খেলার মূল্য।

অন্যদিকে নতুন বলে দুর্দান্ত স্পেলে শুরুতেই আতঙ্ক ছড়িয়ে দেন শরিফুল ইসলাম। তিনি তুলে নেন তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। মাহেদী হাসানও একটি উইকেট নিয়ে সহায়তা করেন। তবে রিপন ও রিশাদের বোলিংয়ে বেশ রান উঠে যায়, যা চাপ কমাতে সাহায্য করে প্রতিপক্ষকে।

এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে বড় সংগ্রহ গড়ার লক্ষ্য নিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় সেই পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বাউন্ডারির কাছে ফিল্ডারদের হাতে ধরা পড়ে আউট হন ব্যাটাররা। ইনিংসে ছোট ছোট কার্যকর ইনিংসের অভাবও ছিল, ফলে প্রতিরক্ষাযোগ্য স্কোর গড়া সম্ভব হয়নি।

শেষ পর্যন্ত সহজ জয় তুলে নিয়ে সিরিজে ১-১ সমতা ফেরায় নিউজিল্যান্ড।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (১৫ ওভারের ম্যাচ)

বাংলাদেশ: ১৪.২ ওভারে ১০২ (হৃদয় ৩৩, লিটন ২৬, সাইফ ১৬; ক্লার্কসন ৩/৯, সিয়ার্স ২/১২, স্মিথ ২/১৪)।

নিউজিল্যান্ড: ১১.৪ ওভারে ১০৪/৪ (জ্যাকবস ৬২*, রবিনসন ২৩, ফক্সক্রফট ১৫*; শরীফুল ৩/১৯, মেহেদী ১/২০)।

ফল: নিউজিল্যান্ড ৬ উইকেটে জয়ী (ডি/এল)।

সিরিজ: ৩–ম্যাচ সিরিজ ১–১ ড্র।

১৭: ৫৬, মে ২

মাহেদীর ঘূর্ণিতে কেলির বিদায়, চাপে প্রতিপক্ষ

নিউজিল্যান্ড: ৫ ওভারে ৩৩/৪

অসাধারণ এক ডেলিভারিতে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিলেন মাহেদী হাসান। চারপাশে বিস্ময় ছড়িয়ে দেওয়া এই বলে ফিরলেন কিউই ব্যাটার নিক কেলি।

উইকেটের চারপাশ ঘুরে এসে বল করেন মাহেদী। বলটি মাঝারি দৈর্ঘ্যে পড়ে হালকা ভেতরের দিকে ঢুকে আসে। কেলি জায়গা করে কাট করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বলটি নিচু হয়ে দ্রুত এগিয়ে আসে। ফলে ঠিকমতো ব্যাটে লাগাতে পারেননি তিনি। বল সরাসরি স্টাম্পে আঘাত হানে।

নিক কেলি ৫ বল খেলে মাত্র ১ রান করে ফিরে যান, কোনো চার বা ছক্কার দেখা পাননি। এই উইকেটটি ম্যাচে বড় ধাক্কা দেয় প্রতিপক্ষকে এবং বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণ আরও মজবুত করে।

১৭: ৪৩, মে ২

শরিফুলের তৃতীয় আঘাত, বিধ্বস্ত নিউজিল্যান্ড

নিউজিল্যান্ড: ৪ ওভারে ২৬/৩

আগুন ঝরানো বোলিংয়ে একের পর এক আঘাত হানছেন শরিফুল ইসলাম। এবার তার তৃতীয় শিকার হলেন টিম রবিনসন, আর তাতেই পুরোপুরি ভেঙে পড়ে প্রতিপক্ষের ব্যাটিং লাইনআপ।

শরিফুলের বলটি দারুণভাবে দোল খেয়ে শেষ মুহূর্তে ভেতরের দিকে ঢুকে পড়ে। কিন্তু সেই দোল আর দেরিতে ভেতরে ঢোকা বুঝতে পারেননি রবিনসন। সামনে এগিয়ে এসে জোরে মারতে চেয়েছিলেন, কিন্তু হিসাবটা মেলেনি একদমই। ফলাফল—বল সরাসরি স্টাম্পে আঘাত হেনে ছিটকে দেয় বেল।

এই ইনিংসে ১৪ বল খেলে ২৩ রান করেন রবিনসন, যার মধ্যে ছিল ২টি চার ও ১টি ছক্কা। তবে তার আক্রমণাত্মক ইনিংস থামিয়ে দিয়ে ম্যাচে দারুণ নিয়ন্ত্রণ এনে দেন শরিফুল।

শুরুতেই তিন উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে বড় ধাক্কা দেন এই বাঁহাতি পেসার, আর তার দাপটে পুরো ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় বাংলাদেশের দিকে।

১৭: ৪০, মে ২

শরিফুলের ধারাবাহিক আঘাত, ক্লিভারও ফিরলেন দ্রুত

বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণে ছন্দের আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছেন শরিফুল ইসলাম। আগের সাফল্যের পর এবার তার শিকার হলেন কিউই ব্যাটার ডেন ক্লিভার।

স্লিপে ফিল্ডার রেখে জোরে পিচে আঘাত করা একটি বল করেন শরিফুল। বলটি পিচে পড়ে বাড়তি বাউন্স পায় এবং মিডল স্টাম্প লাইনে থেকে ব্যাটারের দিকে আসে। ক্লিভার এগিয়ে এসে মিডউইকেট দিয়ে বড় শট খেলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বলটি ব্যাটের খুব কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় হালকা স্পর্শ লাগে, সঙ্গে সঙ্গেই উঠে আসে ক্যাচের আবেদন।

মাঠের আম্পায়ার তৃতীয় আম্পায়ারের সাহায্য নেন। পুনঃপ্রদর্শনে স্পষ্ট দেখা যায়, বল ব্যাট ছুঁয়ে গেছে। ফলে সিদ্ধান্ত যায় বাংলাদেশের পক্ষেই।

ডেন ক্লিভার ৩ বল খেলে ১ রান করে ফিরে যান, কোনো চার বা ছক্কার দেখা পাননি। উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে ধরা পড়ে বিদায় নেন তিনি।

শরিফুলের এই নিখুঁত লাইন ও বাউন্সে ভর করে টানা আঘাতে শুরুতেই চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড।

১৭: ৪০, মে ২

ঠিক এমনটাই প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের—গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসে আঘাত হানলেন শরিফুল ইসলাম। ইনিংসের শুরুতেই দুর্দান্ত এক বলে ফিরিয়ে দিলেন কিউই ব্যাটার কাটেনে ক্লার্ককে।

অফ স্টাম্পের বাইরে সামান্য দোল পাওয়া, ছোট দৈর্ঘ্যের নিখুঁত এক বল করেন শরিফুল। বলটি এমন জায়গায় পড়ে, যেখানে ব্যাটারকে খেলতেই হয়। ক্লার্ক ব্যাট বাড়াতে বাধ্য হন, আর তাতেই ঘটে বিপত্তি। ব্যাটের বাইরের প্রান্তে লেগে বল চলে যায় উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে, যিনি কোনো ভুল না করে ক্যাচটি নিশ্চিত করেন।

বলটি ছিল একেবারেই নিখুঁত—রেখা, দৈর্ঘ্য আর দোল—সব মিলিয়ে এটি ছিল উইকেট পাওয়ার মতো একটি আদর্শ বল। এই আঘাতে শুরুতেই চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড।

কাটেনে ক্লার্ক ২ বল খেলে ১ রান করে ফিরে যান, কোনো চার বা ছক্কার দেখা পাননি। তার বিদায়ে ম্যাচের শুরুতেই গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য পায় বাংলাদেশ।

১৭: ১৫, মে ২

১০২ রানে থামল বাংলাদেশ

বৃষ্টির আগে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ৫০ রান। বৃষ্টির পর খেলা গড়াতেই আর ইনিংস বড় করতে পারেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ৫২ রান তুলতে হারিয়ে বসেছে ৭ উইকেট। তাতে ৪ বল আগে ১০২ রানে থেমেছে বাংলাদেশের ইনিংস।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেছেন তাওহিদ হৃদয়। এছাড়া অধিনায়ক লিটন দাস করেছেন ২৬ রান।

১৬: ৫৬, মে ২

১২ ওভারে বাংলাদেশের ৮৮

বৃষ্টির পর খেলা শুরু হয়েছে। ব্যাটিংয়ে নেমেই বেশ আগ্রাসী ভূমিকায় ব্যাট চালাচ্ছেন বাংলাদেশি ব্যাটাররা। ১২ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮৮ রান।

১৬: ২২, মে ২

কাটা গেল ৩ ওভার

বৃষ্টির পর ফের খেলা শুরু হচ্ছে। খেলা প্রতি ইনিংসে ৩ ওভার করে কমেছে। অর্থাৎ, এখন ম্যাচ হবে ১৫ ওভারের।

প্রথমে বলা হয়েছিল ১৭ ওভারের ম্যাচ হবে। কিন্তু পরে সেটা সংশোধন করে ১৫ ওভারে নামানো হয়েছে।

দ্বিতীয় ইনিংসে পাওয়ার প্লে হবে ৪.৩ ওভার। আর ইনিংস বিরতি হবে ১০ মিনিট

১৫: ২৩, মে ২

মিরপুরে বৃষ্টি থেমেছে, মাঠ প্রস্তুত হওয়ার অপেক্ষায়

মিরপুরে থেমেছে বৃষ্টি। মেঘ পুরোপুরি সরে গিয়েছে। চতুর্থ আম্পায়ার তানভীর আহমেদ ও কিউরেটর বদিউল আলম খোকন মাঠ পরিদর্শন করছেন। মাঠের বাইরে অপেক্ষায় আছেন মাঠকর্মীরা। চতুর্থ আম্পায়ার ও কিউরেটরের সবুজ সংকেত পেলেই মাঠ প্রস্তুতের কাজ শুরু করবেন মাঠকর্মীরা।

১৪: ৪৩, মে ২

বৃষ্টিতে বন্ধ খেলা, বাংলাদেশ ৫০/৩

বৃষ্টিতে বন্ধ খেলা, বাংলাদেশ ৫০/৩

অবশেষে বৃষ্টিটা এলোই। খেলা শুরুর আগ থেকেই অপেক্ষা ছিল বৃষ্টির। মেঘাচ্চন্ন আবহাওয়ায় যে কোন সময় বৃষ্টি নামতে পারে সেটা স্পষ্ট ছিল। শেষ পর্যন্ত মাঠে খেলা ৬.৪ ওভার গড়ানোর পর বৃষ্টি নেমেছে।

বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ার আগে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৫০ রান। লিটন ১৩ বলে ২৫ ও তাওহিদ হৃদয় ৫ বলে ২ রানে অপরাজিত আছেন।

১৪: ৩২, মে ২

পাওয়ার প্লেতে বিপদে বাংলাদেশ

বাংলাদেশ- ৪৩/৩, ৬ ওভার

সাইফ হাসান শুরু করেছিলেন আগ্রাসী। বাজে এক শটে প্যাভিলিয়নে ফিরলে আর বড় করতে পারেননি ইনিংস। তার বিদায়ের পর লিটন দাসও শুরু করেছেন আগ্রাসী ব্যাটিং। কিন্তু অপরপ্রান্তে পাচ্ছিলেন না যোগ্য সমর্থন।

ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ফিরেছেন বোল্ড হয়ে। নাথান স্মিথের বলে বোল্ড হন তিনি। তার ব্যাটে আসে ১০ বলে ৬ রান। পরের বলে আপার কাট করতে গিয়ে আউট হন পারভেজ হোসেন ইমন। গোল্ডেন ডাকের শিকার হন চারে নামা এই ব্যাটার।

১৩: ৩২, মে ২

টস জিতে আগে বোলিং করবে বাংলাদেশ

মিরপুরে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। ফলে মেঘাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় আগে ব্যাটিং করবে বাংলাদেশ। এক পরিবর্তন নিয়ে একাদশ সাজিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

বাংলাদেশ একাদশ-
তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, লিটন দাস (অধিনায়ক), তাওহিদ হৃদয়, পারভেজ হোসেন ইমন, শামীম পাটোয়ারী, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, শেখ মাহেদি, রিশাদ হোসেন, রিপন মন্ডল ও শরিফুল ইসলাম।

নিউজিল্যান্ড একাদশ-
কেটেনি ক্লার্ক, টিম রবিনসন, ডিন ক্লেভার, নিক কেলি, বেভন জ্যাকবস, ডিন ফক্সক্রফট, নাথান স্মিথ, ইশ সোধি, জেইডেন লেনক্স ও বেন সিয়ার্স।